<?xml version='1.0' encoding='UTF-8'?><?xml-stylesheet href="http://www.blogger.com/styles/atom.css" type="text/css"?><feed xmlns='http://www.w3.org/2005/Atom' xmlns:openSearch='http://a9.com/-/spec/opensearchrss/1.0/' xmlns:georss='http://www.georss.org/georss' xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514</id><updated>2012-01-29T03:13:18.816-08:00</updated><category term='২০১০)তে প্রকাশিত'/><category term='&quot;দাহপত্র&quot;(মে'/><category term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত (২০০৯-০৫-০৭)'/><category term='অস্তিত্বে কুহেলিকা কিংবা টুকরো টুকরো প্রাণের কথকতা'/><category term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত (২০০৯-১০-২০)'/><category term='গপ্পো - কথা'/><category term='নীর'/><category term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত (২০০৯-০৭-২৪)'/><category term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত (২০১০-১১-২৫)'/><category term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত (২০১০-০৩-২০)'/><category term='ছোটকাগজ &quot;দাহপত্র&quot;(মে'/><category term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত (২০০৯-১১-২০)'/><category term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত (২০১০-০১-০৫)'/><category term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত (২০০৯-০৮-১৬)'/><category term='কাব্যমদে ডুবুডুবু'/><category term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত (২০১০-০৯-২৯)'/><category term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত (২০০৯-০৬-১২)'/><category term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত(২০১০-০৫-১৭)'/><category term='২০১০) তে প্রকাশিত'/><category term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত (২০০৯-১০-০২)'/><category term='পথ চলতে কুড়িয়ে পাওয়া'/><category term='সংবাদ সাময়িকী(১/৭/২০১০)'/><category term='ছবি সাবাহ শীষ&apos;র তোলা'/><category term='কথাপোকা দিচ্ছে কামড় তাইতো লেখা'/><title type='text'>নির্জলা নৈবেদ্য</title><subtitle type='html'>শহরজুড়ে পোকামাকড় বাঁধছে বাসা... উগ্র প্রহ্লাদ...
 নষ্ট - ভ্রষ্ট এ সময়ে বিলিয়ে দিলাম, মিথ্যে আহ্লাদ... 
ডায়েরী ভর্তি ভালোলাগা, কয়েক লিটার বোধ... 
ঢেলে দিলাম, ছড়িয়ে দিলাম, এই উঠোনে আজ......</subtitle><link rel='http://schemas.google.com/g/2005#feed' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/posts/default'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default?max-results=100'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/'/><link rel='hub' href='http://pubsubhubbub.appspot.com/'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><generator version='7.00' uri='http://www.blogger.com'>Blogger</generator><openSearch:totalResults>30</openSearch:totalResults><openSearch:startIndex>1</openSearch:startIndex><openSearch:itemsPerPage>100</openSearch:itemsPerPage><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-7207213862125475147</id><published>2012-01-27T21:42:00.000-08:00</published><updated>2012-01-29T03:13:18.828-08:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='গপ্পো - কথা'/><title type='text'>ভ্রান্তিবিলাস কিংবা সোনা-মাছ এর স্মৃতিভ্রম</title><content type='html'>কী বলবো? কী বলবো ভাইজান? দিনের প্যাডেল মারতে মারতে, চালাতে চালাতে নিত্য ভাবনাটা ফুলে-ফেঁপে গল গল গড়াচ্ছে, আগুনের আঁচে য্যান ভাতের ফ্যান!&lt;br /&gt;মিতালী আজও এল, আহারে! ইশ্ রে! ফাঁদ ভাইজান, ফাঁদ। জানো, কী যে এক জাল, ছাড়ানো তো দূর, ফাঁক-ফোকর পাচ্ছেই না মেয়েটা – ডানা ঝাপটাবে, হাহ্!&lt;br /&gt;ক’দিন ঘুরতে না ঘুরতেই কোন্ মাছ যেন সব ভুলে-মুছে-চেপে-ঢেকে স্মৃতি ধামাচাপা দেয়? গোল্ড-ফীশ, আহা বাংলায় কী সুন্দর দাঁড়ায় গো শব্দটা সেজে-গুঁজে, সোনা-মাছ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;‘লক্ষ্মী সোনা, বাপের কাছ থেকে টাকাটা আমায় এনে দাও।’&lt;/i&gt; – কথার ধারে মিতালীর সোনা-সোনা শ্যামরঙা মুখ কেমন চুপসে ফাটা বেলুন। আমরা তো বেলুন-ওড়া দুর্দান্ত কৈশোর দেখেছি ঘোরে-বেঘোরে স্কুল পালিয়ে-কাটিয়ে। সূবর্ণ বেশ পুরুষ-পুরুষ হয়ে উঠছে বুঝি আজকাল?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গাঢ় সন্ধ্যায় আমি মিতালীকে পড়ি, পড়তেই থাকি। মিতালী ছেঁড়া-ফাটা-ছিন্নভিন্ন-ঝাঁঝরাও। মিতালী কাজল ছুঁতে ভয় পায়। সূবর্ণ যে জানে কাজল আর মিতালীর গভীর দু-চোখ কী নিবিষ্ট প্রেমমগ্ন, নেশা-জাগানীয়া!&lt;br /&gt;&lt;i&gt;‘জানিস্ বেশ্যা হয়ে আছি। ও চাইলে আমায় দিতেই হবে। আমি চাইলে ওকে খুঁজেই পাইনে কোথাও।’ &lt;/i&gt;– মিতালীর চোখ যেন বায়স্কোপ, যেন পুঁথি পাঠ চলে কোন আসরে। আর একের পর এক দৃশ্য দেখে চলা, সূবর্ণ-মিতালীর ঘর-ভাবনা, আমি দর্শক! &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঘরটা এ্যাকুরিয়াম হয়ে উঠলে মিতালীকে আমি সোনা-মাছ হতে দেখেছি। ধুলো জুটিয়ে সযতনে ঢেকেছে মিতালী ধল-প্রহরের কান্না।&lt;br /&gt;‘মিতালী’কে ভুলিয়ে বুঝিয়ে পুতুল-পুতুল সাজিয়ে নৈবেদ্যর থালে সন্তর্পণে বসেছে মিতালী – ঠোঁট হেসেছে, চোখ জ্বলেছে যার। তবু সোনা-মাছ ফাঁদ পেরোবার পথে পালায় না। জীবনের তীব্র মাদকতা, টেনে দিয়েছে না পেরোবার সীমানা – চেনা শরীরের ঘ্রাণ!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মিতালীকে শুনতে শুনতে আমার কেবল, কেবলই আমার মা-কে বোঝা হয়ে উঠে ভাইজান।&lt;br /&gt;মায়ের সত্যি নিজস্ব কোন ঘর ছিল না কখনও। গোধূলি পেরোনো অবকাশে কিছু লিখতে বলা হলে কী ই বা লিখে ওঠা হতো তাঁর। ঠিক-ঠিক সব ঠিক হয়ে এল – ভাবতে থাকার দ্বন্দ্বে ডুবে চল্লিশোর্ধ্ব বৎসরের দিন-পরিক্রমা। কর্তৃত্বের অহম্ বড্ড লোভনীয় এক বস্তু, তাই বাবারও ততদিনে মা-কে চিরে-কেটে-খুঁড়ে দেখা শেষ।&lt;br /&gt;জানো না, তুমি জানো না ভাইজান, মায়ের মাঝেও তরতাজা এক সোনা-মাছ বসত করে চুপিসারে, ভেতর ঘরে।&lt;br /&gt;শিল-নোড়ায় ভর্তা পেষা শেষে টুং-টাং চুড়ি বাজানো হাতে মাখা ভাত খেতে খেতে কী সন্তুষ্ট এক মা-কে দেখি। ঘর গোছাতে থাকা মা, পিঠা বানাতে থাকা মা, জায়নামাজে ঝিম-গ্রস্ত মা। মুহূর্ত-মুহূর্ত, দিন-দিন, স্বেচ্ছাশ্রমে স্মৃতিভ্রষ্ট সোনা-মাছ মা আমার!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভাইজান, মনে পড়ে ভাইজান, কার্তিকের নিস্তব্ধ দুপুর, স্কুল শেষের ক্লান্তি মেখে কী দারুণ চুপ-চাপ! আর মা-এর ফোঁপানো যন্ত্রণায় ভেঙে ভেঙে পড়ছে সমগ্র সত্তা। কাঁপছি দুজনে – ভয়ে। কী বিপন্ন এক বোধে! আর ভেসে যাচ্ছে ঘর, দুটো মানুষের খোলস সাঁটা সংসারের বিষে। কী বিভ্রান্ত অবগাহনে জেনে নিয়েছিলাম ক’মাস পর পর মার্ মার্ কাট্ কাট্ মুহূর্তদের বেমালুম চেপে-ঢেকে ভুলে বসতে জানে মানুষগুলো।&lt;br /&gt;আজও মনে আছে, কড়া রোদ ডিঙিয়ে সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকার খেলায় জিতে যাওয়া আমি তোমার চোখের দিকে তাকানোর স্পর্ধা পেতাম না সেসব দিনে। মনে হতো যেন পুড়িয়ে দিতে চাইছো – প্রতিবেশীদের প্রশ্ন, বুয়ার অহেতুক কৌতূহল, দিদা-দাদুর দুঃশ্চিন্তা আর, আর আমার প্রচন্ড ভয়টাকেও। কী গাঢ় স্বরে বলতে – &lt;i&gt;‘সব মানুষ আর তুই কি তা এ্যাক নি? অতো ডরাইবার কি তা আছে?’&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জানো ভাইজান, গেল বৃহস্পতি, ডুবে গেলাম-ভেসে গেলাম-উড়ে গেলাম আর মরে গিয়েছিলাম একবার। কয়েকটা পাড়া থাকে কি? কিংবা একটা জায়গা, নেশার-মোহের-ভরসার-অভ্যেসের। অঙ্কুর সূর্যাস্তের পর এল সেদিন। আর দু’হাতে মেখে-মেখে দিতে থাকলো সমস্ত চাওয়াগুলোকে, হাতে-গালে-কপালে! অঙ্কুর চাইছে, খুব করে চাইছে – একটা সোনামাছ! যেন ভ্রান্তিবিলাস জমা রেখে রেখে নিজেদের অপরাহ্ণের কাছে বেচে দেবার পালা। অঙ্কুর আর আমি, আমি আর অঙ্কুর – উড়ে বেড়ানো, ঘুরে বেড়ানো, ডানা মেলার খেলা।&lt;br /&gt;তবে পিছ্লে গেলাম বটে! &lt;i&gt;‘ভুলে যাও, প্লিজ ভুলে যাও’&lt;/i&gt; উড়ে এসে ঠিক ঠিক জুড়ে বসলো আমাদেরও মাঝে। ভুলে যাও অপমান – অসম্মান – নিকৃষ্ট গালিগালাজের দিন, ভুলে যাও শরীরের ক্ষত চিহ্ন যত!&lt;br /&gt;গোধূলি পেরোনো নৈঃশব্দ আঁকড়ে ধরলে ভাবতে শেখার পালা – মা ও এভাবে ভুলে যেতে যেতেই জড়িয়ে গিয়েছিল বুঝি! ভুলে যেতে যেতেই মায়ের মাঝে আমরা বসত বাঁধি, মায়ের এক জন্মের কী তীব্র আফসোস। পালাবার দ্বারের শেষ কপাট তুলি - এই আমরা!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অঙ্কুর আমার ভেতরটা মাড়িয়ে আশ্চর্য এক দম্ভে বাঁচে ইদানীং। এবং আমি কেবলই কৈশোরে ফিরে যাই। আজ এতোকাল পর তরুণী-সন্ধ্যায় অঙ্কুরের চোখ দুটো কী ভীষণ চেনা-চেনা এক ভয় এনে দেয় ফের! ঠিক যেন রোদ-রোদ বিষণ্ন কার্তিকের দুপুরে অস্তিত্বে ভাঙন। ঠিক যেন অসহ্য সেই ডুকরে ওঠা! অনেক দিনের ধুলো মুছে চেনা বিষের কী অদ্ভুত অনুভব।&lt;br /&gt;দিনশেষে আবার আমার মিতালীকে মনে পড়ে, মা-কে মনে পড়ে খুব আর মনে হতে থাকে –&lt;br /&gt;&lt;i&gt;‘অতো ডরাইবার কি তা আছে? সব মানুষ আর তুই কি তা এ্যাক নি?’……&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;তখন নিষ্পলকে দেখি ঘরের কোণে এ্যাকুরিয়ামে গোল্ড-ফীশটা ঘুরে ঘুরে একই জায়গায় ঘুরপাক খায় কেবল।&lt;br /&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-7207213862125475147?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/7207213862125475147/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=7207213862125475147' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/7207213862125475147'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/7207213862125475147'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2012/01/blog-post.html' title='ভ্রান্তিবিলাস কিংবা সোনা-মাছ এর স্মৃতিভ্রম'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-2635176843527756020</id><published>2011-11-22T02:21:00.001-08:00</published><updated>2011-11-22T02:25:55.964-08:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কাব্যমদে ডুবুডুবু'/><title type='text'>৮ অগ্রহায়ণ ১৪১৮</title><content type='html'>চোখের সামনেঃ&lt;br /&gt;২০৪&lt;br /&gt;২০৩&lt;br /&gt;২০২&lt;br /&gt;ব্লাড ব্যাংক&lt;br /&gt;প্যাথলজি ....&lt;br /&gt;আর&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;টুকরো রোদ্দুর মুক্ত!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চোখের সামনেঃ&lt;br /&gt;ফিনাইল&lt;br /&gt;ডেটল&lt;br /&gt;ব্যান্ডেজ&lt;br /&gt;হতাশ মানুষ&lt;br /&gt;বন্দী ...&lt;br /&gt;আর&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আহত চড়ুই মুক্ত!&lt;br /&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-2635176843527756020?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/2635176843527756020/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=2635176843527756020' title='4টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/2635176843527756020'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/2635176843527756020'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2011/11/blog-post.html' title='৮ অগ্রহায়ণ ১৪১৮'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>4</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-3580840404927332568</id><published>2011-07-27T06:23:00.000-07:00</published><updated>2011-12-21T07:45:47.188-08:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='গপ্পো - কথা'/><title type='text'>কফিনের সংসার</title><content type='html'>দুটো কফিনের বাক্স কয়েকটা সংসার এর সরঞ্জামাদিতে ভরপুর। কফিন দুটোতে যারা এসেছিল তাদের অস্থি-মজ্জা এতোদিনে গোরস্থানের মাটি কিছুটা উর্বর করেছে। মৃতজীবী, ক্ষুধার্ত পোকা-মাকড়ের অন্ন যুগিয়েছে ওদের দেহ। শুধু কফিন দুটো বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে শুকিয়ে বহাল তবিয়তে ঠায় দাঁড়িয়ে ফুটপাতের অর্ধেক জায়গাজুড়ে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অনায়াসে মৃত শরীরের বাহনের ভেতর জীয়ন্ত মানুষগুলোর যাবতীয় সংসারের ঠাঁই মিলেছে। ফুটপাতে গজিয়ে ওঠা ভরন্ত সংসার। একটা-দুটো নয়, চার-পাঁচ ঘর সংসার ঢুকে গেছে দুটো কফিনের ভেতর। ভরপুর সংসারের উপজীব্য কাঠের কফিন। একটার উপর আরেকটি তুলে রাখা, একটুখানি ফাঁক ডানপাশে। উপরেরটি থেকে সময়মত বের করা হয় হাড়ি-পাতিল-গ্লাস। নীচেরটায় বিছানা-বালিশ, কাপড়-চোপড়।&lt;br /&gt;আসমা ইট আর লাকড়ির চুলো সাজায়। চুলো সাজায় রুকি, ডালিয়া, মইন্যার মাও।  পথচারীর পথ আর থাকে কই। তবে অসুবিধা খুব একটা হয় না। গোরস্থানের দেয়াল লাগোয়া এই সংসারগুলোর সাথে বেশ ভাব দারোয়ান আর কর্তৃপক্ষের। প্রতি শুক্রবার কবর জিয়ারত, দোয়া, মিলাদ, দান-খয়রাত এর বদৌলতে মোটাসোটা আয় হয় এদের। শবেবরাত-শবেকদর-রমজান-ঈদ এর কথা বলাই বাহুল্য। দারোয়ান- গোর খোদক - ড্রাইভার- রক্ষণাবেক্ষণের কর্মী- ঝাড়ুদার - এদের ওদের সাথে ভাগ-বাটোয়ারা করে, দিয়ে-নিয়ে, লাভে-লোকসানে ভালো বৈ মন্দ নয় আয়-রোজগার। &lt;br /&gt;আসমার দিন আমোদেই কাটে। কবে কোন্ আশ্বিনে মুখে স্তন গুঁজে মা এই শহরে নিয়ে এসেছিলো সে বৃত্তান্ত মার মুখেই শোনা। এ শহরের অলি - গলি, ঘুপচি আন্ধার আর ঝলসানো পথে তারপর কেটে গেছে অনেকগুলো বছর। এখন ষোড়শী কন্যার সংসারে একজন অন্ধ সঙ্গী আর কোলজুড়ে আটখানা ছা। অন্ধকে সবাই বুড়া ডাকে। জন্মের পর বুড়ার নাম কি ছিল, কিংবা আদৌ কোন নাম মা-বাবার কাছ থেকে বুড়া পেয়েছিল কিনা তা আসমারও জানা নেই। তিনজন ঘরণীকে কোন্ কোন্ পথের বাঁকে যেন রেখে এসে এখন এই আসমার সাথে ঘর করছে বুড়া। দিন-রাত্রি লাঠি ধরে পথে বসে দু’এক পয়সা কামাই করে, বলা চলে আসমার ঘাড়ে চেপেই পথ চলে। আসমা টাকা আনে কিংবা কোন না কোনভাবে খাবার যোগাড় করে। ষোড়শীর শরীরে ছল ছল নারীত্ব, বুড়া অনেককিছুই জেনেও দেখে না বটে। অন্ধত্ব তাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মইন্যার মা’র কষ্টের দিন শুধু ঘুচে না। মা-বেটা দু’টা মাত্র মানুষ, হোটেলের উচ্ছিষ্টে ভরপেট খেয়েও বলে ফিরে - “আহারে! মোর জমিন, উডান, ঘর সব তলায়া গ্যালো। হায়রে রাক্ষুইসী নদী। কই পামু এমুন ঘর-গেরস্থালী। আফনে কই গ্যালেন মইন্যার বাপ।" দীর্ঘশ্বাস ফেলে ডুকরে কেঁদে উঠলে পাঁচ বছরের মইন কোন এক অজানা ভয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে।&lt;br /&gt;খানিক দূরে সবজির ঠেলা নিয়ে বসে থাকে শামসু আর চায়ের অস্থায়ী টঙটাকে প্রায় স্থায়ী করে ক’দিন থেকে চা-বিস্কুট-কলা-সিগারেট-পান নিয়ে পসরা সাজিয়েছে গণেশ। বিদ্যুতের খুঁটি দুটোয় রশি বেঁধে কিংবা কবরস্থানের গ্রিলে বেশ শুকোচ্ছে ওদের ভেজা শাড়ি, ব্লাউজ, বাচ্চার কাঁথা, প্যান্ট, টুকরো ত্যানা। ফুটপাথের ধারে এসে মিলেমিশে একাকার ঘর- গেরস্থালী- রাজপথের চাঞ্চল্য কিংবা দিনযাপন।&lt;br /&gt;মৃত্যুর শীতলতা চোখে- মুখে মেখে আল-আমিন গোলাপজল-কাফনের কাপড়-আগরবাতি সাজানো ‘শেষ বিদায়’ স্টলে বসে থাকে। বারোমাস সাদা টুপি মাথায় হাসি-কান্নার নিপুণ অভিনয় করে চলে।&lt;br /&gt;বাচ্চাগুলো খেলে বেড়ায় - হেসে কাটায় অহর্নিশ দিন-রাত্রিগুলো। কত কত কাফনমোড়া লাশ আসে নিত্য, কয়েক মুহূর্ত পর পরই। খেলা ফেলে দৌঁড়ে যায় পাঁচ বছরের মইন, দশ বছরের মিতালী, আট বছরের শ্যামা, রুকসানা, চৌদ্দ বছরের কলিম আরও গুটিকতক পাঁচ-তিন-নয়-দশ-বারো-চৌদ্দ বোঝাই দল। তিন বছরের আয়শাটাও ইদানীং এগোয় গুটি গুটি পায়ে। বড়রাও এগোয় তারপর ধীরে ধীরে। মৃত্যু এখানে উৎসব, মৃত্যু এখানে পাঁচ-দশ-বিশ-পঞ্চাশ টাকা পেয়ে চকোলেট-চুইংগাম-ঝালমুড়ি-লজেন্স কিনে খাওয়া। মৃত্যু এখানে জীবনধারণের অন্যতম পন্থা।&lt;br /&gt;আঞ্জুমান মুফিদুলের লাশবোঝাই গাড়ি মানেই তাই চরম বিরক্তি। বেওয়ারিশের দোয়ায় কেউ অর্থ ঢালেনা। বেওয়ারিশ লাশের ভাগ্যে ভ্রু-কুটি ছাড়া কিছুই জোটেনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এভাবে দিন কেটে যাওয়ার কথা। এভাবেই দিন কেটে যাবে। তাই এর বেশি কিছু ভাবতে পারেনা মানুষগুলো কিংবা ভাবনাকে অন্য কোথাও ঠাঁই দেয়ার ইচ্ছাই নেই ওদের। আসমা তাই রুটি-তরকারি মেলে ধরে আটটা আন্ডা-বাচ্চাসহ সকালের নাস্তা খেতে বসে পড়ে। বুড়ো হোটেলের দয়ায় চা খেয়ে বিড়ি ধার করে গণেশের কাছে। রুকিকে আজকাল আল-আমিনের সাথে কোথায় কোথায় যেন উধাও হতে দেখা যায় সন্ধ্যার আঁধারে। শামসু মাঝে মাঝে মইন্যার মাকে নিজ থেকেই দিয়ে যায় কপিটা, বেগুনটা, শাকের গুচ্ছাটাও। আর গণেশ জমানো টাকা থেকে এক হাজারে একটা মোবাইল কিনে নিল কয়েক বছর পুরোনো এক সাধ মেটাতে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নিত্যদিনের মতো সূর্য-চাঁদের আলো-আঁধারি খেলার পরে রাত নেমে আসে। কবরের উপরে আলো ছড়ায় সরকারী বাতিগুলো। কফিনের পাশে সারি সারি পলিথিন-তাবুর আড়ালে যাযাবর সংসারগুলো দিব্যি সুখনিদ্রায় ঢলে পড়ে। কিন্তু হঠাৎই প্রচন্ড হট্টগোলে চমকে ওঠে রাত। বুড়ার কর্কশ আর্তনাদে কোন এক শিশু ঘুমভাঙা কন্ঠে কেঁদে ওঠে। বুড়ার মাথা ফেটে রক্ত গড়াচ্ছে অন্ধ দু’চোখ বেয়ে। আকুলভাবে তবু কয়েকটা টাকা জড়িয়ে আছে বুড়া। কফিন দুটো উল্টে পড়ে আছে বেওয়ারিশ হয়ে। চার-পাঁচটি সংসার এখানে-ওখানে ছড়িয়ে লন্ড-ভন্ড হয়ে গড়াগড়ি খায় রাস্তায়। লাঠির নির্যাতনে পলিথিনের সম্ভ্রম খুলে নগ্ন হয় সাংসারিক নিদ্রা। ফুটপাত-দখলমুক্তকরণ কমিটির কর্মীরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এ রাস্তা- সে রাস্তা, এ ফুটপাত-সে ফুটপাত ঘুরে ঘুরে রাতশেষে এখানে পৌঁছে।&lt;br /&gt;সিটি-কর্পোরেশনের গাড়ি বোঝাই হয়ে অনেক জিনিস অদৃশ্য হয়ে যায়। ততক্ষণে মাটির হাড়ি-পাতিল ভেঙে চৌচির, ভয়ার্ত শিশুদের ক্রন্দন শ্রান্ত ফোঁপানীতে সীমাবদ্ধ। আর বুড়ার মনে হচ্ছে, পৃথিবীতে মানুষ আজকাল বড্ড বেশি বাতাস টেনে নিচ্ছে নি:শ্বাসের সাথে। বাতাসের অনেক অভাব বোধ হয় পৃথিবীতে.....&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সকালের আলো ফুটলে কফিনের বাক্স দুটোকে কোথাও দেখা যায়না। শুধু বুড়ার লাশটার জন্য কাফনের কাপড় ফ্রিতে দিয়ে দেয় আল-আমিন। একেবারে ছোটটিকে নিয়ে আসমা সেই সাত-সকাল থেকে কোথায় যেন হাওয়া হয়ে গেছে। সাতটি ওয়ারিশ নাকের সর্দি - চোখের জল মিশিয়ে বিক্ষিপ্তভাবে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়ালেও বুড়ার লাশ দাফনে কেউ অর্থ ঢালেনা। তাই বেওয়ারিশের সমতুল্য দোয়া-দুরূদটুকুই জোটে লাশের ফেটে যাওয়া কপালে।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-3580840404927332568?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/3580840404927332568/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=3580840404927332568' title='2টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/3580840404927332568'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/3580840404927332568'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2011/07/blog-post.html' title='কফিনের সংসার'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>2</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-6219512160025528926</id><published>2011-03-30T08:52:00.000-07:00</published><updated>2011-03-30T08:52:38.057-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='পথ চলতে কুড়িয়ে পাওয়া'/><title type='text'>মেঘগুলো সব ভারমুক্ত বাষ্প অভিলাষে</title><content type='html'>ঝুম ঝুম কিংবা ঝর ঝর ঝর। কখনও টিপ্‌  টিপ্‌  টিপ্‌। জলের শব্দ। জল ঝরার শব্দ এক আবেশে জড়ায় আমায়। চিরকাল। ভালোলাগার স্পর্শে হঠাৎ হারাই... নিজের মাঝে... গহীন আমিতে। রাস্তা ধীরে ধীরে ভিজছে। জল ফোঁটায় ফোঁটায় বৃষ্টি নাম এ নামছে। হাঁটতে হাঁটতে ছোট্ট জল ফোঁটা বড় বড় হয়ে নামে আর তারপরেই – মেঘগুলো সব ভারমুক্ত বাষ্প অভিলাষে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রজাপতিরঙ মন উন্মত্ত, উন্মনা। অজানা ভালোলাগা। রাস্তায় খানা-খন্দ, এ শহরের ভাঙা পথে প্যাঁচপ্যাঁচে কাদা। এক যুবতী স্নিগ্ধতাকে দুমড়ে মুচড়ে বুড়ো-বুড়ো বিরক্তিতে ভরপুর। নীলক্ষেত বইয়ের দোকানের সামনে যেন মরণ-ফাঁদ। এতো বড় গর্ত! হাঁটার জায়গাটুকোয় বিরক্তি-বীভৎসতা-কটুক্তিসহ নিরস মানুষেরা। অথচ কী অদ্ভুতভাবে কাদা পায়ে জড়ানো মূহুর্তে দারুণ স্নিগ্ধতায় ডুবে যাই আজ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অলি-গলি তখন থকথকে কাদা আর পানি সর্বস্ব। থপথপ পায়ে হাঁটা সুন্দরবন ক্যুরিয়ার সার্ভিস – নীলক্ষেতের ঘুপচি কোণে। সখীসমীপেষু – চিঠি পৌঁছে যাবে ঠিক। মানুষ দেখার খেলাটুকু বরাবরই বেশ উপভোগ্য। খাম হাতে পাঁচ-ছ’জন। একজন সবার শেষে এসেও আগে পোস্ট করতে চাওয়ায় কথার উপর কথা, কথা দিয়ে কথা কাটা। কী ব্যস্ততা, কী তাড়া সবার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি শুধু খামগুলো দেখি। গুটি গুটি হাতের লেখা, কোনটায় লেখাগুলো বড্ড এলোমেলো। কিছু হয়তো পৌঁছে যাবে কাঠখোট্টা কোন অফিসে-দফতরে। কিছু চিঠিতে বোধহয় মন আলপনা এঁকেছে। এমন অন্য কোন বৃষ্টিভেজা দিনে কেউ হয়তো আনমনে খুলে নেবে খয়েরী-হলুদ খাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঘরে ফেরার তেমন তাড়া কোনকালেই থাকেনি তেমন, তবুতো ঘরেই ফেরা। স্নাঙ্ঘরে স্বয়ম্ভরের সুর। থেকে থেকে মনে অদ্ভুত গুণগুণ। দোল দোল, দোল খায় প্রিয় শিহরণ!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জানালার ওপারে মেঘ মেঘ ধোঁয়াশা। বটগাছের ওপ্র নিকষ আঁধার। ঘোর লাগা মনে ঔদাসীন্য ভর করে। আমাদের মানুষেরা বেঁচে-বর্তে থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে ওঠে। আমাদের মানুষেরা আকাশের রঙ দেখতে ভুলে যায়। শুধু শূন্যতাই দেখে। আমাদের মানুষেরা বুড়িয়ে যেতে এতো ভালোবাসে ??&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বৃষ্টি তবু এ শহরেও আসে। নোংরা ভাঙা শহরের বাসস্টপে, অলি=গলিতে, কলেজে-স্কুলে-ভার্সিটিতে। বৃষ্টি আসে চাচীর চায়ের ঠেলাতে, যে ঠেলার পাশে অস্থির ছেলে-মেয়ের আড্ডা বসে। বৃষ্টি আসে পথের ধারের ভাপা পিঠার উনুনের ওপর। মামা চটজলদি পিঠা উঠোয়, উনুন নেভোয়। বৃষ্টির ফোঁটা পড়তেই পথের ধারে হামাগুড়ি দেয়া উলঙ্গ শিশু ফিক করে হেসে ওঠে। ব্যবসা গুটোতে গুটোতে আয়না-চিরুণী-হাতঘড়ি বিক্রেতা বলেন- “আহ্! জব্বর বৃষ্টি আইবোরে!”&lt;br /&gt;ক্ষতির যন্ত্রণাকে কষ্টকে প্রকৃতি গ্রাস করে কত সহজেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মেঘ খন্ড খন্ড দামাল উদ্দামতায় আকাশের একোণ থেকে ওকোণ দাপড়ে বেড়ায়। পাগল করা বাতাস ছুঁয়ে যায় সমস্তটুকু। হয়তো কিছু মানুষ ধুপ ধাপ জানালা লাগায়। কেবল কয়েকজন জল ছুঁয়ে ছুঁয়ে মাতাল থেকে তীব্র মাতাল হয় ক্রমশ…&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-6219512160025528926?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/6219512160025528926/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=6219512160025528926' title='10টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/6219512160025528926'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/6219512160025528926'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2011/03/blog-post.html' title='মেঘগুলো সব ভারমুক্ত বাষ্প অভিলাষে'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>10</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-2400458596383946818</id><published>2011-01-24T10:19:00.000-08:00</published><updated>2011-04-03T04:16:13.506-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='পথ চলতে কুড়িয়ে পাওয়া'/><title type='text'>নৈর্ব্যক্তিক বেদনা পুষেও গান গেয়ে হেঁটেছি তোদের শহরে</title><content type='html'>এক পা, দু পা করে পিছিয়ে যাও ঘন অন্ধকারে। একদিন … দু’দিন … তিন দিন… তারপর একদিন গভীর চোখে তাকাও ধূসর পর্দার ওপাশে। দেখবে চার, তিন, দুই, এক কিংবা শূণ্য … ! শ’চারেকের মধ্যে এইতো এ ক’জন একটা নাম তোলে রাখবে অতীতগন্ধী তোরঙ্গে ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;“ আমার হবে না, আমি বুঝে গেছি, আমি সত্যি মূর্খ, আকাঠ!&lt;br /&gt;সচ্চরিত্র ফুল আমি যত বাগানের মোড়ে লিখতে যাই, দেখি&lt;br /&gt;আমার কলম খুলে পড়ে যায় বিষ পিঁপড়ে, বিষের পুতুল!”&lt;/i&gt; – (আবুল হাসান)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কোন কোন কবিতার ঘ্রাণ নিয়ে দেখো, ঠিক যেন তোমার যন্ত্রণাটা গুমরে উঠছে উচ্চারণে। তোমায় ফিরতে হবে অতঃপর। ক্লান্ত - শ্রান্ত - ক্লিশিত - ভঙ্গুর তুমি, কুৎসিত কাকটার চেয়েও অধম তখন। তোমার তো ডানাটুকু নেই, ডাস্টবিনের মতোন কোন অবলম্বন নেই। এমনকি আবর্জনার মতোন কোন নির্ভরযোগ্য পুঁজিও নেই তোমার তখন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;“ কেউ বা ফিসফিস করে বলেছেন, সত্যি&lt;br /&gt;সম্ভাবনা ছিলো! কেবল আমি জেনে গেছি লোবানের ঘ্রাণে আসলে পরাজিত মৃত্যুর&lt;br /&gt;কথাই লেখা থাকে!”&lt;/i&gt; – (সুমন সুপান্থ)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পরাজিত নাম আর কার প্রয়োজন?! আর কি কি চাও বলো তো? অনেক প্রাপ্তির চাহিদা তখন নগরের নিস্তব্ধ দুপুরের নিঃসঙ্গতাকে চিরে, কেটে, গুঁড়িয়ে দেবে অসহ্য অপমানে। &lt;br /&gt;পুনরায় তুমি নিশ্চিত থেকো, তবু, তোমার কবিতাই মনে পড়বে –&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;“অনেকদিন দেখা হবে না&lt;br /&gt;তারপর একদিন দেখা হবে।&lt;br /&gt;দু’জনেই দু’জনকে বলবো,&lt;br /&gt;‘অনেকদিন দেখা হয়নি’।&lt;br /&gt;এইভাবে যাবে দিনের পর দিন&lt;br /&gt;বৎসরের পর বৎসর।&lt;br /&gt;তারপর একদিন হয়ত জানা যাবে&lt;br /&gt;বা হয়ত জানা যাবে না,&lt;br /&gt;যে&lt;br /&gt;তোমার সঙ্গে আমার&lt;br /&gt;অথবা&lt;br /&gt;আমার সঙ্গে তোমার&lt;br /&gt;আর দেখা হবে না।”&lt;/i&gt; – (তারাপদ রায়)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অতএব ফের একটা ঘুড়ি কাটা পড়লো দেখে, অহেতুক মন কেমনের অপরাহ্ণে অর্থহীন ভাবালুতায় কলম পিষে যাবে। তখন অযথাই কিছু কথা কিংবা ঘটনার দোলাচলে অনেক কথা উঁকি দিলে গোটাকতক বিকেল কাউকে না কাউকে বিলিয়ে দিতে ইচ্ছে করবে।&lt;br /&gt;-------------------------------------------------------------------------------------------------------------&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;* শিরোনাম ভাইয়ার (সুমন সুপান্থ)&lt;a href="http://hritkalom.blogspot.com/2009/08/blog-post_5789.html"&gt; "সওয়াল"&lt;/a&gt; কবিতাটি থেকে ধার করেছি&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-2400458596383946818?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/2400458596383946818/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=2400458596383946818' title='12টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/2400458596383946818'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/2400458596383946818'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2011/01/blog-post_24.html' title='নৈর্ব্যক্তিক বেদনা পুষেও গান গেয়ে হেঁটেছি তোদের শহরে'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>12</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-1479463479994679653</id><published>2011-01-04T00:18:00.000-08:00</published><updated>2011-01-04T00:18:03.055-08:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কাব্যমদে ডুবুডুবু'/><title type='text'>শীত-শীত রাতেরাও পোষা সারমেয়</title><content type='html'>অবাঞ্চিত হতে হতেই চরম স্পর্ধা জাগে -&lt;br /&gt;তোকে ইদানীং আর ছুঁয়ে দেখিনা অন্তত।&lt;br /&gt;শীত - শীত রাতেরাও পোষা সারমেয় বেশ,&lt;br /&gt;তোকে ইদানীং আর মনে ধরেনা বিগত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার প্রপিতামহ -&lt;br /&gt;রাত রাত গন্ধ মেখে, গ্রাম-নদী-গঞ্জ-ঘাট,&lt;br /&gt;পেরিয়ে-জাগিয়ে-উড়িয়ে, হাঁটা পথ - ঘুর পথ বেয়ে -&lt;br /&gt;কত নারী - কত ভিটে - সে কত রূপোলী গল্প!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার প্রপিতামহী-&lt;br /&gt;মহুয়ার নেশাগন্ধী ব্যাকুল অতৃপ্ত রাত্রি।&lt;br /&gt;জংলার ধার ঘেঁষা বেড়া ভাঙা নড়বড়ে ঘর।&lt;br /&gt;অনুভবে খন্ড-বিখন্ড বোধ আর&lt;br /&gt;পাপ - পাপ শঙ্কা পরেও তীব্র সুখ ছুঁয়েছেন -&lt;br /&gt;নিয়ত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যন্ত্রণা উগরোতে গিয়ে জেনেছি -&lt;br /&gt;বিষ - বিষ জ্বালায় সর্বাঙ্গ কুঁকড়ে যায় ক্রমশ।&lt;br /&gt;ব্যর্থতা চেপে এলে কন্ঠনালীতে কী ঘন মেঘ জমে!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রশ্নের চোখ লাল-লাল, তপ্ত নিঃশ্বাস-&lt;br /&gt;ছিঁড়ে-খুঁড়ে-ফুঁড়ে খাওয়ার আগ্রাসী চেহারা ফোটে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অতঃপর -&lt;br /&gt;হে সুহৃদ, প্রিয় পাঠক, নাম অজানা সম্পর্কের জন-&lt;br /&gt;স্বপ্ন আবাদ করেও , আমি এক তুচ্ছ অধীশ্বর।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৩০/১১/২০১০&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-1479463479994679653?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/1479463479994679653/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=1479463479994679653' title='4টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/1479463479994679653'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/1479463479994679653'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2011/01/blog-post.html' title='শীত-শীত রাতেরাও পোষা সারমেয়'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>4</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-4152175391997060301</id><published>2010-12-20T00:22:00.000-08:00</published><updated>2010-12-20T00:22:41.504-08:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কাব্যমদে ডুবুডুবু'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত (২০১০-১১-২৫)'/><title type='text'>শব্দচাষ</title><content type='html'>ঝকঝকে মলাটবাঁধা খাতা টমেটোরঙ কৈশোরের,&lt;br /&gt;আর একটা যুৎসই কলম -&lt;br /&gt;সেই কবে যে খোঁজা শুরু আমার।&lt;br /&gt;ইকোনোঃ হলুদ - কালো, কালো - নীল ডোরাকাটা।&lt;br /&gt;'সেলো' তে অক্ষরগুলো ষোড়শী কি তরুণী।&lt;br /&gt;আর জেল-পেন এ বেনীআসহকলা -&lt;br /&gt;ঝিকিমিকি - চকচকে, শব্দের শার্ট পরা।&lt;br /&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://3.bp.blogspot.com/_yKqD4nrH5HU/TQ8RDr2zDeI/AAAAAAAAABo/jqeV9HYEskI/s1600/shontoron.jpg" imageanchor="1" style="clear:right; float:right; margin-left:1em; margin-bottom:1em"&gt;&lt;img border="0" height="320" width="240" src="http://3.bp.blogspot.com/_yKqD4nrH5HU/TQ8RDr2zDeI/AAAAAAAAABo/jqeV9HYEskI/s320/shontoron.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একটা যুৎসই কলম খোঁজা দোকানে - দোকানে,&lt;br /&gt;সকাল, দুপুর, গোধূলী, বিকেল, ভর সন্ধ্যায়।&lt;br /&gt;মলাটবাঁধা খাতা সেই কবে থেকে একা।&lt;br /&gt;ওখানে ভালো ভালো কথা লেখা হবে।&lt;br /&gt;আপাতত লেখা ঝরে, ঝরে ঝরে পড়ে যায় -&lt;br /&gt;টুকরো শ্রীহীন কাগজে,  ছেঁড়া ডায়েরীর পাতায়।&lt;br /&gt; &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ছন্নছাড়া শব্দের সাথে তুমুল আড্ডাবাজি,&lt;br /&gt;আর নীল শাড়ি অক্ষরদি বলে - "একটা বেনসন চাই।"&lt;br /&gt;নষ্ট - ভ্রষ্ট সময়জুড়ে ফাঁকা স্বপ্নবাজি।&lt;br /&gt;একটা যুৎসই কলম আমার চাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অনেক কথা লিখে রাখা যাবে, মিনিট না ঘুরতেই।&lt;br /&gt;শব্দের সাথে শব্দ জুড়ে ঈশ্বর হওয়া যায়।&lt;br /&gt;সন্তর্পণে শব্দে বাক্যে প্রবল ঠুকোঠুকি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অতএব -&lt;br /&gt;"চলৎ" উচ্চারণে, যুৎসই কলমখানি চাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;২৩/১১/২০১০&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-4152175391997060301?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/4152175391997060301/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=4152175391997060301' title='2টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/4152175391997060301'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/4152175391997060301'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/12/blog-post.html' title='শব্দচাষ'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://3.bp.blogspot.com/_yKqD4nrH5HU/TQ8RDr2zDeI/AAAAAAAAABo/jqeV9HYEskI/s72-c/shontoron.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>2</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-3313746323755902302</id><published>2010-09-29T00:58:00.000-07:00</published><updated>2010-11-27T08:03:28.126-08:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত (২০১০-০৯-২৯)'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কথাপোকা দিচ্ছে কামড় তাইতো লেখা'/><title type='text'>কথাপোকার কচকচানী…</title><content type='html'>মাঝে মাঝে অহেতুক কিছু কথা জমে… দুষ্টুমিতে মন ভরে… বৃষ্টি ধোয়া ক্ষণে কিংবা দারুণ বিকেল এলে। সন্ধ্যাতারা দেখে দেখে ডুব দিয়ে তাই শব্দ খোঁজা, উছল অনুভবে…&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একঃ&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অনেকখানি আদর ছিল সিন্দুকেতে,&lt;br /&gt;কাজলেতে আছে অনেক সোহাগমাখা,&lt;br /&gt;ভোর হলে ফুরিয়ে যাবে সবটুকুই&lt;br /&gt;তুই সত্যি কপালপোড়া, হতচ্ছাড়া… :p&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দুইঃ&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একটা ঘোড়া ডিঙিয়ে গরু ঘাস খেলো…&lt;br /&gt;মেয়েটার মন আনচান আর&lt;br /&gt;বালকটা তাই বাঁশ খেলো… ;)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তিনঃ&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ময়না পাখি মেঘকে বলে –&lt;br /&gt;রাতের বেলা কল রেট কম,&lt;br /&gt;চলো, এবার প্রেম করি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মেঘটা বলে – দাঁড়াও সোনা,&lt;br /&gt;ঝুম বৃষ্টি hold এ আছে,&lt;br /&gt;পরে তোমায় back করি। ;)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চারঃ&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জ্বরটা ভীষণ-তীব্র-প্রবল&lt;br /&gt;যাচ্ছে করে মাতলামি।&lt;br /&gt;বলছে দেখো – লেপ্টে আছি,&lt;br /&gt;তরূণীর গা’য় এই আমি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নাপা এক্সট্রা চোখ রাঙালো –&lt;br /&gt;পেয়েছিস্ তুই ফাজলামি?&lt;br /&gt;তোর ওমটা কাজের তো নয়,&lt;br /&gt;যাচ্ছেতাই এক বাঁদরামী।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দেখবি যখন ঠোঁটের ‘পরে&lt;br /&gt;নেবে আমায় তরূণী।&lt;br /&gt;জটিল ঘামে তৃপ্তি পাবে,&lt;br /&gt;লাল টুকটুক রমণী। ;)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পাঁচঃ&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যাই যাই করে গুরু&lt;br /&gt;থেকে যাই এইখানে।&lt;br /&gt;নাই নাই বলে শুরু&lt;br /&gt;শেষতক ঠনঠনে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;করি করি কী যে করি –&lt;br /&gt;দাঁড়ি-গোফ জঙ্গল,&lt;br /&gt;বসে বসে ভাবছিল&lt;br /&gt;কোন এক ভ্যাগাবন্ড।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হবে হবে কিছু-মিছু&lt;br /&gt;ভেবে গেল প্রাণপণ।&lt;br /&gt;প্রেমিকাকে নিয়ে গেল&lt;br /&gt;ও-পাড়ার রঞ্জন। :((&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-3313746323755902302?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/3313746323755902302/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=3313746323755902302' title='2টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/3313746323755902302'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/3313746323755902302'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/09/blog-post.html' title='কথাপোকার কচকচানী…'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>2</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-376568060752026517</id><published>2010-08-08T23:52:00.000-07:00</published><updated>2010-08-08T23:57:24.842-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কাব্যমদে ডুবুডুবু'/><title type='text'>আহ্ ! প্রতীতি ! – দুই</title><content type='html'>যাচ্ছো চলে ?&lt;br /&gt;- যেতেই হবে ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একলা হবো ।&lt;br /&gt;- কিইবা তাতে !&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তোমার বুঝি ?&lt;br /&gt;- অনেক পুঁজি ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তুচ্ছ আমি।&lt;br /&gt;- অজ্ঞ ভারী ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ক্ষুদ্র ভীষণ ?&lt;br /&gt;- জানোই যখন…&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নীল টিপটায় ?&lt;br /&gt;- জমলো স্মৃতি…&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কন্যা তবে ?&lt;br /&gt;- একলা র’লো ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিদায় বুঝি ?&lt;br /&gt;- ক্ষতিটা কী ?&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-376568060752026517?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/376568060752026517/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=376568060752026517' title='6টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/376568060752026517'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/376568060752026517'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/08/blog-post_08.html' title='আহ্ ! প্রতীতি ! – দুই'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>6</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-7827134323370273922</id><published>2010-08-06T11:54:00.000-07:00</published><updated>2010-08-06T12:17:35.377-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কাব্যমদে ডুবুডুবু'/><title type='text'>আহ্ ! প্রতীতি ! – এক</title><content type='html'>ও গো শোন।&lt;br /&gt;- কী-গো বলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যাবে তুমি ?&lt;br /&gt;- কোথায় শুনি। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নদীর জলে ?&lt;br /&gt;- আচ্ছা, তবে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ও মা দেখো !!&lt;br /&gt;- দুটি দেহ । &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শব নাকি ?&lt;br /&gt;- হয়তো হবে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কারা ওরা ?&lt;br /&gt;- আমরা দু’জন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমরা তবে ?&lt;br /&gt;- অনুভবে…&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-7827134323370273922?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/7827134323370273922/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=7827134323370273922' title='16টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/7827134323370273922'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/7827134323370273922'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/08/blog-post.html' title='আহ্ ! প্রতীতি ! – এক'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>16</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-8314930063722285722</id><published>2010-07-17T00:37:00.000-07:00</published><updated>2010-08-09T05:29:09.864-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='ছবি সাবাহ শীষ&apos;র তোলা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কাব্যমদে ডুবুডুবু'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='২০১০)তে প্রকাশিত'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='&quot;দাহপত্র&quot;(মে'/><title type='text'>দগ্ধ প্রচ্ছন্নতা</title><content type='html'>&lt;a onblur="try {parent.deselectBloggerImageGracefully();} catch(e) {}" href="http://4.bp.blogspot.com/_yKqD4nrH5HU/TF_z6pwQ13I/AAAAAAAAABY/lXcHN7xUfUI/s1600/Sabah+Sheesh+Ahmed.jpg"&gt;&lt;img style="float:right; margin:0 0 10px 10px;cursor:pointer; cursor:hand;width: 130px; height: 96px;" src="http://4.bp.blogspot.com/_yKqD4nrH5HU/TF_z6pwQ13I/AAAAAAAAABY/lXcHN7xUfUI/s400/Sabah+Sheesh+Ahmed.jpg" border="0" alt=""id="BLOGGER_PHOTO_ID_5503385458636281714" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সরাইখানার দেয়াল গজিয়ে উঠছে চারপাশে।&lt;br /&gt;সভ্যদের উচ্ছিষ্ট হাতড়ে - ছেনে,&lt;br /&gt;হাড় জিরজিরে মানুষগুলো বেঁচে-বর্তে যাচ্ছে।&lt;br /&gt;দস্যি স্বপ্নগুলোয় দগ্ধ সময় বসিয়েছে&lt;br /&gt;কুড়োলের কোপ।&lt;br /&gt;কল্পনায় শ্যাওলা জমছে আর ভাবনার ভ্রুণে&lt;br /&gt;প্রকট-প্রচ্ছন্নের অমীমাংসিত জটিলতা।&lt;br /&gt;ফার্টিলাইজেশন শেষে থকথকে বিকলাঙ্গ চিন্তায় -&lt;br /&gt;সময়ের ঝুলি ভরপুর।&lt;br /&gt;নগরের গর্ভ ফুঁড়ে কিলবিলে কীটেরা ছুটে,&lt;br /&gt;আস্থায় - স্বপ্নে - ইচ্ছায় - সম্পর্কে।&lt;br /&gt;আহ্ ! কী তীব্র পিয়াস ! কী ভীষণ জ্বলন !&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;-------------------------------------&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;২৬/৩/২০১০&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-8314930063722285722?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/8314930063722285722/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=8314930063722285722' title='14টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/8314930063722285722'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/8314930063722285722'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/07/blog-post_2264.html' title='দগ্ধ প্রচ্ছন্নতা'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://4.bp.blogspot.com/_yKqD4nrH5HU/TF_z6pwQ13I/AAAAAAAAABY/lXcHN7xUfUI/s72-c/Sabah+Sheesh+Ahmed.jpg' height='72' width='72'/><thr:total>14</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-7217058849175554553</id><published>2010-07-17T00:29:00.000-07:00</published><updated>2010-07-18T08:58:07.969-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='ছোটকাগজ &quot;দাহপত্র&quot;(মে'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কাব্যমদে ডুবুডুবু'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='২০১০) তে প্রকাশিত'/><title type='text'>মৌতাতকাল - ২৯শে চৈত্র ১৪১৬</title><content type='html'>ঘামগন্ধী পিয়াসা উগরে এলে পরে-&lt;br /&gt;সাধ জাগে ফের ফিরে পাওয়ার।&lt;br /&gt;কিছু স্মৃতি আযৌবন টাটকা ও প্রাঞ্জল।&lt;br /&gt;তোর বনেদি লোমশ আলিঙ্গনের&lt;br /&gt;দাম র’লো একমুঠো যৈবতী ক্ষণ।&lt;br /&gt;তবু কিছু বন্দনা অবশিষ্ট আজ,&lt;br /&gt;অবুঝ - আকুল - প্রেমান্ধ প্রেয়সী পরাণ।&lt;br /&gt;পেরিয়ে গেলে প্রিয় মৌতাত আয়েশের মোহে,&lt;br /&gt;সওদার রতিতে জাগে বিক্ষিপ্ত রাত।&lt;br /&gt;গভীর অভিমানে আলাপী ওষ্ঠ কাঁপে।&lt;br /&gt;স্মৃতি আর অনুভূতি অনুভবে এলে-&lt;br /&gt;ডাকিস্ তবে দস্যি ছেলে। বড় সাধ জাগে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;--------------------------------------&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১২/৪/২০১০&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-7217058849175554553?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/7217058849175554553/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=7217058849175554553' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/7217058849175554553'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/7217058849175554553'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/07/blog-post_17.html' title='মৌতাতকাল - ২৯শে চৈত্র ১৪১৬'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-4945535578522349071</id><published>2010-07-16T22:57:00.000-07:00</published><updated>2010-07-16T23:08:06.816-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত (২০০৯-০৬-১২)'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='গপ্পো - কথা'/><title type='text'>ক্ষেপাটে অস্তিত্ব কিংবা শ্যাওলার আস্তরণ</title><content type='html'>“কিছুতে ভ্রুক্ষেপ নাহি, মহাগাথা গান গাহি&lt;br /&gt;সমুদ্র আপনি শুনে আপনার স্বর।&lt;br /&gt;কেহ যায়, কেহ আসে কেহ কাঁদে, কেহ হাসে,&lt;br /&gt;খ্যাপা তীরে খুঁজে ফিরে পরশ পাথর ॥” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;sin, cos, ^/2, . . . . . . . .শ’খানেক ........ হাজারখানেক, না, না, লক্ষ কোটি ম্যাথম্যাটিক্যাল টার্মস মস্তিষ্কের কোষে কোষে তান্ডবনৃত্য শুরু করেছে। কি যেন করছে? হ্যাঁ, মনে পড়েছে, জটিল ইকোয়েশনের মধ্যে আছে সে। হাতের পাতায় আঁকিবুকির সংখ্যা বেড়েই চলে ক্রমাগত। খসখসে হাতে কালো কালো সমান্তরাল কিংবা এলোমেলো রেখা। সূর্যের তেজ খুব বেশি আজ। নোনতা ঘাম-ভেজা শরীর পথচারীদের। ক্ষেপার গায়ে চাপানো সেই কালো চাদর। বউ কবে যেন দিল, কাল বোধহয়, যখন কুয়াশা ছিল, নাকি ধোঁয়াটে সকাল আরও এক মাস আগে ছিল এই শহরে। ব্যক্তিত্বভাবখানা ছিটেফোঁটা থেকে গেছে ক্ষেপাটে অবয়বে।&lt;br /&gt;আলুথালু লম্বা চুল, ময়লা পরিচ্ছদ - ক্ষেপাকে সহজে অবজ্ঞা করা যায়না তবু। মৃদু হাসির আভাস ছড়িয়ে সেলুন, দোকান, বাজারে; অলি-গলিতে ঘুরে ফিরে ক্ষেপা দিনমান ব্যস্ত থাকে। ধীরে ধীরে ক্ষেপা এক অভ্যস্ততায় পরিণত হয় তাদের কাছে, যাদের দৈনন্দিন চলাফেরা ঐ রাস্তাগুলোতে। অবাধ অধিকার ক্ষেপার সেলুনের চেয়ারে, দোকানের বারান্দায়, পরম প্রশান্তিময় শিশুসুলভ হাসিতে। ক্ষেপার পরিচয়ে ভরাট শ্যাওলার আস্তরণ, নাম-গোত্র-বর্ণের উর্ধ্বে ক্ষেপা শুধুমাত্র সুদৃঢ় এক ক্ষেপাটে অস্তিত্ব।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মহাকালের যাত্রাপথে ‘ক্ষেপা’রা অনায়াসে পথ চলে। ক্ষেপার চোখেমুখে তাই হাসির দমক - মঙ্গায়, সিডরে, ১/১১ এ, আইলায়, বিডিআর বিদ্রোহে, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে. . . . . . . . . ক্ষেপা হেসে যায়। সূর্যেরা অত্যুজ্জ্বল দ্যুতির আশ্রয়, ক্ষেপার আকাশে লজ্জাবতী চাঁদেদের ঘর।&lt;br /&gt;ক্ষেপা অচেনা, অজানা নাকি অনেকখানি চেনা? বিভ্রান্ত হওয়ার সময়টুকু ‘সময়’ এর অপব্যয় হতে পারে ভেবে কেউ আর একথা ভাবেনা। ক্ষেপার চারপাশে - কারও ভয়, কারও কারও এড়িয়ে চলা; তবু চকচকে দুটি চোখের তারা আমায় তা বলে না। কিছুটা বিস্ময় জাগে - উপহাস কেউ ক্ষেপাকে করে না কিংবা করতে পারে না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চকচকে সাদা নতুন একটি শার্ট সেদিন ক্ষেপাকে খানিকটা বেশি লক্ষ্যনীয় করে তোলে। বিজ্ঞাপনের ‘এ এক নতুন সাদা’ রঙের শার্ট অদৃশ্যমান সনদপত্র যেন - ক্ষেপার এক ঘর আছে, গায়ে সাদা শার্ট চাপিয়ে দেবার কেউ আছে, ক্ষেপা পথ ভুলে কদাচিৎ সেই ঘরে ফিরে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ক্ষেপা সময়ের ঘুড়িকে ভো-কাট্টা কেটে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়। সময় বাস্তবতা নিয়ে ক্ষেপার সামনে আসেনা, কিংবা আসার সাহস পায়না। প্রাপ্তিকে দাবী ভেবে দিনের আঁধার, রাতের আলো নিয়ে ক্ষেপা আবেগী খেলায় মাতে। ছুট্ ছুট্ জীবন বয়ে বেড়ানো কলের মানুষগুলোকে সে অদ্ভুত চোখে দেখে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ক্ষেপার অফিসফেরত অবকাশে এক কাপ চায়ের তৃষ্ণা নেই। খিটখিটে মেজাজে বউয়ের সাথে ঝগড়া করা নেই। সন্তানের মুখ ধরে চুমু খেতে খেতে তাকে নিয়ে সাজানো কোন স্বপ্নের ডালা নেই, তাই স্বপ্নভঙ্গ নেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ক্ষেপাকে নিয়ে সহানুভূতি দেখানো দুঃসাহসিকতা। ক্ষেপার হাসি ঘুণেধরা হতাশ চিত্তের পরম ঈর্ষা। ক্ষেপার অনাদিকালের গল্প তাই পূর্ণতার আস্বাদ পায়না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;------------------------------------------------------------------&lt;br /&gt;[ পাদটীকা : যাকে দেখে এ গল্প লেখার অনুপ্রেরণা পেলাম গল্পটি তাকেই উৎসর্গ করলাম। ]&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;২৮/৫/২০০৯, রাত: ১.২০ ঘটিকা&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-4945535578522349071?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/4945535578522349071/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=4945535578522349071' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/4945535578522349071'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/4945535578522349071'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/07/blog-post_5480.html' title='ক্ষেপাটে অস্তিত্ব কিংবা শ্যাওলার আস্তরণ'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-6124829681339015173</id><published>2010-07-16T01:23:00.001-07:00</published><updated>2010-07-16T01:27:43.736-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='গপ্পো - কথা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত (২০১০-০৩-২০)'/><title type='text'>গণি মিয়া বিষয়ক অনধিকার চর্চা</title><content type='html'>টোস্ট আর অমলেটে সকাল শুরু হয় ল্যাপটপের স্ক্রীনে চোখ রেখেই। ব্যস্ততা কামড়ে ধরতে উদ্ধত, ক্ষতি কি, ব্যস্ততার সাথে এতো বছরের সংসার। গগন চৌধুরী ছুটে চলেন, এমনভাবে ছুটে চলতেই চেয়েছিলেন। ছুটতে ছুটতে ফেলে এসেছেন ধারাপাত, মোরগ লড়াই, ডজনখানেক চিঠি। একসময় নৌকা বাইচের নাম ছিল ব্যস্ততা, এখন ব্যস্ততার নাম সেমিনার - অফিসে কাজের চাপ। হঠাৎ পত্রিকার একটা খবর সকালে খাবার টেবিলের জন্য বরাদ্দ সময়ের খানিকটা বেশিই কেড়ে নেয়; বলা চলে খবর ছাপিয়ে জ্বলজ্বল করে একটা শব্দ - “জেলিয়াখালি”। কাপ নামিয়ে রেখে আরোও একবার পড়েন গগন চৌধুরী - ‘জেলিয়াখালি’। এরপর উঠে দাঁড়াতেই হয়, নিজে লেট হলে অধস্তনদের লেট করার কৈফিয়ত চাইতে কিছুটা বাঁধে বৈকি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মনের ভেতর খচখচ করে। গণি মিয়া এখন, এভাবে আসবে কোনদিন ভাবা হয়নি কিনা। কিন্তু জেলিয়াখালি আর গণি মিয়া হুড়মুড় করে একশ একটা ভাবনা-চিন্তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঠিক বেরিয়ে এল। কালচে কাচঘেরা গাড়ির নিরাপদ আশ্রয়েও ভীষণ অসহায় বোধ করেন গগন চৌধুরী।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অফিস পৌঁছে কর্তৃত্ব জাহির করার ইচ্ছে উধাও হয়ে যায়। স্মরণ আজও দেরীতে এসেছে। ছেলেটা এখনও পুরোদস্তুর কামলা হতে পারেনি। ছাত্র-ছাত্র হাভ-ভাবে অপরাধবোধ মায়া জাগায় আজ। টুলে বসে ঝিমাতে থাকা দারোয়ান গলার ঝাঁঝ ছাড়াই সকাল শুরু করলো ভেবে খানিকটা অবাক হয় বোধহয়। নিজের উপর বিরক্তি তেতো করে সকালটাকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভাবনাগুলোকে তুচ্ছ বোধ করার আপ্রাণ চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে বার বার। মস্তিষ্কের জটিলতা কাছা দিয়ে লুঙ্গি পরা গণি মিয়াকে বড় বেশি জীবন্ত করে তোলে। প্রায় উলঙ্গ মানুষটিকে দেখতে ভালো লাগছে না গগন চৌধুরীর।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঢাকা শহরের নিত্যনতুন জায়গাগুলোয় যখন বন-বাদাড়ের ছাপ স্পষ্ট তখন গণি মিয়ার শরীরেও গাঁয়ের গন্ধ। বদলাতে হয় শহরকে, গণি মিয়াকেতো অবশ্যই। গণি মিয়ার গগন চৌধুরী হয়ে ওঠার নির্দিষ্ট কোন তারিখ ছিলনা। তাই কোন দিনের কথা মনে পড়েনা। কোন দিবস পালনের ঝক্কিও থাকেনা কিংবা কোন বিশেষ তারিখ ভুলে থাকার চেষ্টাও করতে হয়না। কিন্তু গণি মিয়া যে কোথাও না কোথাও ঘাপটি মেরে ছিল - ‘জেলিয়াখালি’ তা জানিয়ে দিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চৌকাঠ পেরিয়ে সেই গাছ, তারপর?&lt;br /&gt;তারপর, এক পা.. দুই পা.. তিন পা.. গণি মিয়ার সামনে ধোঁয়াশা। আবছায়ার মাঝে মায়াভরা সেই ডাক - “ও গণি, চাদ্দরখান নে।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হাড়কাঁপানো শীতেও ইনহেলার কাকে বলে জানাই ছিলনা গণি মিয়ার। বুবুর ডাক তাই সহজেই বাতাসে হারায়। ছুটতে থাকা, ছুটতে ছুটতে শিউলিতলা। প্রতিদিন ঘুমভাঙা চোখে প্রথম কাজ - গামছাভর্তি শিউলিফুল কুড়িয়ে চৌকাঠ পেরোনো সেই গাছের কাছে ফিরে আসা। তারপর আরোও এক পা .. দুই পা .. তিন পা .. ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কাচের টেবিলে পড়ে থাকা পত্রিকার ওজন বড় বেশি মনে হয় গগন চৌধুরীর কাছে। প্রায় অবশ হাত-এ পত্রিকাতেও খুঁজে ফেরে সেই খবর। সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদ ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত। বিধ্বস্ত গাবুরা ইউনিয়নের জেলিয়াখালি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বুবু কোথায় এখন? চার বছর আগে একবার এসেছিলো, পঁচিশেও সাত-আট এ আটকে থাকা প্রতিবন্ধী ছেলেটিকে সাথে নিয়ে। সম্মানে কমতি না থাকলেও গগন চৌধুরীর ছেলে-মেয়ে দুটোর সাথে একটা দূরত্ব থেকেই যায়। ওদের শহুরে আত্মীয়দের সাথে যেভাবে জমিয়ে বসে আড্ডা দেয়, বুবুর সাথে কোথায় যেন ছেদ পড়ে ওরকম আড্ডায়। গগন চৌধুরী জানেন এই সম্পর্কগুলো এমনই থাকবে। গোবরলেপা উঠোন ছেড়ে কেউ এ ফ্ল্যাটে নিজেকে আগন্তুক ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারেন না। আর কেউ কেউ ভাষার দুর্বোধ্যতা ডিঙিয়ে পারেনা অন্তরঙ্গ হতে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গণি মিয়া যাবে? বাড়িটার কি দশা? কিন্তু গগন চৌধুরীর যে অনেক কাজ জমে আছে, প্রচন্ড ব্যস্ততা। বারকয়েক লাথি-গুঁতো খেয়ে তল্পি-তল্পাসহ মুখ বন্ধে স্বীকৃতি জানানো সেই রঙচটা স্যুটকেস কই হারিয়ে গেছে। সেই সম্বল হাতে করে; বাসে ঝুলে ঝুলে লঞ্চঘাটে যাওয়া- এখন আর চলে না। বদলায় অবস্থান, বদলায় ছোটার ধরণ। ছুটতে হলে হাজারটা কাজ সামলে নিতে হবে। তবুও একবার যেতেই হবে বাড়ি। এক জীবনে একটাই বাড়ি থাকে মানুষের। ম্লান হাসি ফোটে এক বৃদ্ধার কথা মনে ভাসতেই। গণি মিয়ার দাদীজান, বলতেন - যে উঠোনে নাড়ি গাঁথা থাকে সেটাই নাকি ঐ ‘ছাওয়াল’ এর বাড়ি হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু আজ গগন চৌধুরী জানেন, নাড়ি গাঁথা না থাকলেও বাড়ি হয়। ছেলে-মেয়ে দুটোর নাড়ি ডাস্টবিনেই ফেলা হয়েছে, তবু ঐ ফ্ল্যাট ওদের একমাত্র আশ্রয়, জন্মসূত্রে ওদের বাড়ি। অথচ ত্রিশ বছর ক্রমে ডালপালা ছড়িয়ে, স্বামী আর বাবা-বাবা খেলার দুর্দান্ত সময় কাটিয়ে আজও ঐ ফ্ল্যাট গগন চৌধুরীর বাড়ি নয়, গণি মিয়ারতো নয়ই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাড়ি পড়ে থাকে জেলিয়াখালি। মাকে হারানোর বাড়ি। মাত্র দুবছরের বড় বুবুটার সে বয়সেই গিন্নী হয়ে ওঠার বাড়ি। উঠোনজুড়ে কবিগানের আসরে বাবার মধ্যমণি হয়ে বসে থাকার বাড়ি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ত্রিশ বছরে যাওয়া হয়েছে বটে দু’বার। দু’বারই নিকানো উঠোনে গিজগিজ করেছে কয়েক গ্রামের মানুষ। একবার উচ্ছ্বাসে, আনন্দে, হৈ হৈ কলরবে বুবু বউ সাজলো। আর একবার ভয়ানক নৈঃশব্দে আসর জমানো মানুষটিকে সবাই গ্রামের গোরস্থানে রেখে এল। সেদিন মানুষগুলোর হাহাকারে গণি মিয়ার মনে হল - বাবার উপর ওদেরই অধিকার বেশি যারা এক ডাকে সব ফেলে পুঁথিপাঠ আর গান শুনতে আসতো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু তার বাড়ির অধিকার কার? কিংবা উঠোনের? চৌকাঠ পেরোনো সেই গাছের... তারপর .. এক পা .. দুই পা .. তিন পা .. মা। বেড়াঘেরা, রোজ রোজ তীব্র মায়ায় শিউলিফুল ছড়িয়ে দেয়া মায়ের কবরের? মা বাড়িতেই থাকতে চেয়েছিলেন। বাড়িতেই থেকে গেলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;উঠতেই হয় গণি মিয়াকে। প্রাইভেট কার নিয়েই ছুটতে হয়। বাড়ি ডাকে, নাড়ি ডাকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভাঙা পাকা রাস্তার দুর্ভোগ কাচা রাস্তাকেও হার মানায়। এখানে-সেখানে গর্তে পানি উপচে পড়ছে। গাড়ি এগোয় না। ড্রাইভারের জিম্মায় গাড়ি রেখে পা দুটোও বেশি দূর নিয়ে যেতে পারেনা। অতঃপর নৌকাই ভরসা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সমস্ত গ্রাম যেন বর্ষার স্পর্শমাখা যৌবনা এক নদী। কোথাও প্রবল ঘূর্ণি নৌকাকে গিলে খেতে চায়। এরই মাঝে গাছ আর বাড়ির ছাত হয়ে টুকরো টুকরো গ্রাম জেগে আছে। গণি মিয়া খোঁজে- গাছ, সম্বল, বাড়ি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গাইনের (গায়েনের) বাড়ি - মাঝির হাতের ইশারায় থৈ থৈ জলের উপর নড়বড়ে ছাত ভাসে চোখে। গ্রাম সম্পর্কীয় কিছু আত্মীয়ের ছানাপোনারা বসে আছে। ঘরের ছাউনী এখন আশ্রয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;উঠোন নেই, চৌকাঠ নেই, ঘূর্ণিঝড় উপড়ে নিয়েছে শেকড়। কিন্তু পরবাসী আদুরে খোকাকে ঘর চেনাবে বলে, প্রবল জলের তোড়েও ঠায় দাঁড়িয়ে জননী গাছ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মাঝি গাছ ছাড়িয়ে সামনে এগোলে শেকড়হীন, উদ্বাস্তু গগন চৌধুরী ওরফে গণি মিয়া যেন আর্তনাদ করে ওঠে - ধীরে চল মাঝিভাই, ধীরে ধীরে ধীরে।&lt;br /&gt;নৌকা এগোয় বড় ধীরে,&lt;br /&gt;এক দাঁড়... দুই দাঁড়... তিন দাঁড়...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;-------------------------------------------&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৮/০৩/২০১০&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-6124829681339015173?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/6124829681339015173/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=6124829681339015173' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/6124829681339015173'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/6124829681339015173'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/07/blog-post_6265.html' title='গণি মিয়া বিষয়ক অনধিকার চর্চা'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-549239606043720007</id><published>2010-07-16T01:16:00.001-07:00</published><updated>2010-07-16T01:22:17.265-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='গপ্পো - কথা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত (২০০৯-০৭-২৪)'/><title type='text'>ভাতওয়ালী</title><content type='html'>মাটির ঢাকনা সরালে অ্যালুমিনিয়ামের পাতিল থেকে ভাপ ওঠা ভাত ভাত গন্ধ ছড়ায়। ঝোলের সমুদ্রে মাংস খুঁজে পাওয়া ভার। ডালের হাঁড়ি পরিপূর্ণ, পাতলা- তবু অতোটা বিস্বাদ নয়। পলাশীর মোড় থেকে এগিয়ে এসে রিক্সা দাঁড় করায় আলম। পরিচিত খদ্দের সৌজন্য হাসির আভা ফুটিয়ে তোলে রুকির মুখে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সূর্য তখন সবটুকু তেজ নিয়ে মধ্য আকাশে। পরিশ্রমকে দরকষাকষির পাল্লায় তুলে অনেকেই ছুটে আসে এই ফুটপাতের ধারে মধ্যাহ্ন আহারে। কোন ঘর, ঘরণী, এককোণে সাজানো ঘরের লক্ষী চুলো নেই। মূল্যের হিসেব কষে কেউ এখানেই বসে পড়ে চকচকে এক থাল ভাতের সামনে। নিয়মিত খদ্দেরদের চাওয়া একটু বেশি থাকে, কিছুটা আবদারও। দিনমজুর, রিক্সাচালক, ঠেলাওয়ালা, পাঁচমেশালী কাজে উপার্জনওয়ালা পুরুষ, খদ্দের সাধারণত এরাই। তরকারী আর ডালের দাম আলাদা, এক থাল ভাত দশ টাকা। নিয়মিত খদ্দের পাবে একটুকরো কাঁচামরিচ কিংবা পেঁয়াজ, যদি বাজার গরম না থাকে তবেই। কুড়িয়ে পাওয়া পত্রিকার হাতপাখায় রুকির হাতের সোহাগী বাতাস, বাড়তি পাওনা। ওটুকু রুকি নিজে থেকে করে, বড্ড মায়া হয় ক্লান্ত, ঘর্মাক্ত পুরুষগুলোর জন্যে। কিংবা হয়ত কিছুটা সময় গিন্নী-গিন্নী খেলায় মেতে ওঠে ওর যৈবতী মন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ফুটপাতের ওপর গণগণে আগুনের উত্তাপমাখা ইটের অস্থায়ী চুলো, হাড়ি-পাতিল, গুটিকতক পানির বোতল - সবই সংসারের সরঞ্জামাদি। কিন্তু এখানে কোন সংসার নেই। রোজদিন দুপুরের প্রারম্ভে পসরা সাজিয়ে বসতে হয় রুকিকে। বিকেলের লালচে আভায় আকাশের যখন লাজরাঙা রঙ তখনও পাওয়া যায় দু-তিনজন খরিদ্দার। এরপর সব গোছানোর পালা। প্রায়ই তখন মনে ভাসে মেয়েবেলার সংসার-সংসার খেলা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যখন মনে হয় ছোট্ট শিশু-হাত জলরঙে আঁকা সূর্যকে লেপটে দিয়েছে আসমানের গায়ে, তখনই ছিল খেলা সাঙ্গ করার সময়। কখনও উঠোনে শিমের মাচানের পাশে, কখনও মাটির বারান্দায়, জমে উঠতো উচ্ছ্বল ক’টি কিশোরীর জমজমাট মিথ্যে ঘরকন্না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সময়গুলো তখনকার যখন রুকি বনেদি কৃষক পিতার কন্যা, শহুরে তাচ্ছিল্যের ‘চাষার মাইয়্যা’ নয়। তখনও নদীর যৌবন বাঁধ ভেঙে ওদের জমিন আর উঠোন গিলে খায়নি। চিন্ চিনে ব্যাথায় বুক ভার হলে এককালের স্বপ্নভঙ্গ কোন্ এক অতল থেকে উঠে আসে। এই শহর অনেক দিয়েছে, অনেক নিয়েছে। শহরের ভাগাড়-বস্তিতে মাথা গোজার ঠাঁই দিয়েছে, বাপ মরলে এক গন্ডা ভাই-বোন আগলে রাখতে এই পথ দিয়েছে। এ শহর জোয়ান কৃষকের যৌবনরস চুষে নিয়েছিলো। বাপটা শহরে এসেই বুড়িয়ে গেল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘মাটির গন্ধ কই? চাষ নাই, ভিক্ষে করে খাই, এই দোযখে মাটির গন্ধ নাই।’-কোন হতভাগা কৃষকের নাকি ভিক্ষুকের আর্তচিৎকার রুকির ভেতরকে নাড়িয়ে দেয় আজও। মৃত্যুই সকল যন্ত্রণার নিষ্কৃতি -এতোটা ভাল করে বোঝা হয়নি আর কখনও।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একত্রিশের কোঠার আইবুড়ো মেয়েকে কাঁখে-পিঠে বাচ্চা ছাড়াই গ্রহণ করে এ শহর। তৃষ্ণা, গভীর তৃষ্ণা। প্রায়ই ছলকে ওঠে রুকি, বাঁকা হাসি, মাতাল চাহনি, উচ্ছ্বল খুনসুটি। ফুটপাতবাসী কিংবা বস্তিঘরের সংসারী যুবতীরা দেখে - বড় বেহায়াপনায় মেতেছে মেয়েটি।&lt;br /&gt;বস্তির দূর্গন্ধে আতুড়ঘর সাজে কখনও, নবজাতকের চিৎকার জানায় - আরেকটি মুখের অন্ন যোগানোর পালা। রাতের অন্ধকারে খুপড়ি ঘরে রুকি তখন দেখে মুগ্ধ এক তরুণী মা, স্তনদানের স্বর্গীয় অনুভবে বিভোর।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ফুটপাতের খসখসে পাথুরে মাটিতে হামাগুড়ি দিয়ে বন্যার পুতুল পুতুল মেয়েটা প্রায়ই এগিয়ে আসে ওর দিকে। বুকে তুলে নিতেই খলবল করে ওঠে; হাত-পা ছুড়ে সে কী চাঞ্চল্য! রুকির সমস্ত অস্তিত্বজুড়ে তখন নরম মাটিতে কুড়োল বসানোর যন্ত্রণা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিশোরকালে টলমলে নদীতে গা ভাসিয়ে ডুব সাঁতার, চিৎ সাঁতার দিতে দিতে বহুদূর চলে যেতে পারতো। দিগন্ত ছোঁয়ার বড় ইচ্ছে হতো। আজ হঠাৎ খুপড়িতে পড়ে থাকা পক্ষাঘাতগ্রস্ত আতুড় মা, শৈশব-কৈশোরে খেলে বেড়ানো গন্ডাখানেক ভাই-বোনের মুখ ঝাপসা চোখে অস্পষ্ট হতে থাকে। একটা বৃত্ত, একটা গন্ডি ডিঙিয়ে যাওয়ার সাধ প্রবল হয় ক্রমশ..........&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;---------------------------------------------&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১০/৭/২০০৯&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-549239606043720007?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/549239606043720007/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=549239606043720007' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/549239606043720007'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/549239606043720007'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/07/blog-post_928.html' title='ভাতওয়ালী'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-2061351716936971254</id><published>2010-07-16T01:13:00.000-07:00</published><updated>2010-07-16T01:15:22.431-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='গপ্পো - কথা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত (২০০৯-১০-০২)'/><title type='text'>জলের মাঝে কাঁটাতার</title><content type='html'>নীল টিপ নৌকোর পাটাতনে বসে জল ছুঁয়ে খেলছে। ঘাসফড়িং এর কাছ থেকে সবুজ ধার করেছে ওর মন। সাদা শার্ট এতোটা দক্ষভাবে নৌকা বাইতে পারবে জানা ছিলনা ওর।&lt;br /&gt;নীল টিপ - তোমায় বেশ লাগছে। জ্যোৎস্না মিশে গেছে তোমার শরীরে, শার্টের বুননে।&lt;br /&gt;সাদা শার্ট - নদীটা ভীষণ প্রিয়। ওর সাথে আমার অনেকদিনের প্রেম। ওকে তুমি ঈর্ষা করছোনাতো?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নীল টিপের অধরে মাতাল হাসি ভর করে। বৈঠা ছেড়ে নীল টিপের কোলে মাথা রাখে সাদা শার্ট। শান্ত নদীতে দুরন্ত নৌকো ভাসতে থাকে; জল আর নৌকো গড়াগড়ি খায় একে অপরকে স্পর্শ করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নদী ‘সীমানা’র অর্থ বোঝেনি কোন কালে। কোন শতবর্ষী গাছের ঝরা পাতা, দুরন্ত বালিকা-হাতের ভাঙা চুড়ি অথবা দস্যিছেলের ভাসানো কাগজের নৌকা ঢেউয়ে ডেউয়ে ভ্রমণ করে শ্বাশতকাল ধরে। নদীপাড়ের বালকেরা শৈশব-কৈশোর-যৌবনের আবর্তনে ঘুরপাক খায় নদীর মোহে আচ্ছন্ন সময়ের সমষ্টিতে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নদী খেলার সাথী, নদী ষোড়শীর উচ্ছ্বলতা আর পরিণতকালে সেই নদী কামুক নারীরূপে ধরা দেয় কাব্যে-গদ্যে নিঃসঙ্গ প্রহরে। নদী স্বাক্ষী থাকে ধীবরের ছেঁড়া জালের কষ্টের, ‘নাইওর’ যাওয়ার পথে মায়াবী বধূটির গভীর আনন্দের। ফিরতি পথে স্কুলপড়ুয়া মেয়েটি যখন কাচাহাতের, অসংখ্য ভুল বানানের চিঠিটি পড়াশেষে, লাজুক চুমু মিশিয়ে নদীতে ভাসিয়ে দেয়, তখন শুধু নদী জানে কতখানি কদর পেল চিঠিটি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নদী ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকে গ্রামগুলো কিংবা বলা চলে বেশ কিছু কর্ষণযোগ্য জমিন। ভূ-খন্ডের গাছ-ঘাস-পলিমাখা কাদামাটির উপর কাঁটাতারে আঁকা থাকে মানচিত্রের সীমারেখা। মাঝে থাকে চল্ ছুট্ ছুট্ নদী। এই যেমন এটি - ইছামতী। জল নদীর এপাড় ছুঁয়ে ওপাড়ে যায়, বটপাতায় ভাসতে থাকা একদল পিঁপড়ে পাসপোর্ট ছাড়াই পাড়ি জমায় বাংলাদেশ টু ভারত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘জানো, লাল-সবুজ আর তিনরঙা পতাকার চিহ্ন বুকে গেঁথে অনেক নৌকো ভিড়ে এখানে ভাসানের কালে।’ - সাদাশার্ট চোখ বুজে নরম গলায় কথা বলে।&lt;br /&gt;দূর্গো পূজোর ‘ভাসান’ ছেলেটির চোখে ভাসে। মানুষের ঢল নামে দু’পাড়জুড়ে। সীমানা বিলীন হয় কর্তৃপক্ষের আদেশে। বিসর্জনের পর নদীতে ভেসে যাওয়া প্রতিমায় চোখ পড়লে বলা ভার - কোন্ প্রতিমাখানি কোন্ বাংলার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নীল টিপ আলগোছে হাত রাখে সাদাশার্টের কপালে আর শোনে কথার ঝুনঝুনি। এখানে আজ প্রথম আসা হলো নীল টিপের। দুজনে একসাথে নৌকোতে ভাসবে কোন এক রাতে, আরও অনেক ছেলেমানুষী স্বপ্নের মতো এটাও একটি স্বপ্ন ছিল ওদের। এই নদী জানে শৈশবের দুরন্ত ছেলেটিকে, কৈশোরের প্রথম কবিতায় ছিল এই নদী।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘ মা’কে দেখানোর আগে নীল টিপকে তোমায় দেখালাম নদী’- মনে মনে ভাবে সাদা শার্ট।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মাঝিহীন নৌকা দোলে, ভাসে, ধীরে, অতি ধীরে। রাত গভীর হয় ক্রমশ আর নৌকো দোলে তার আপন তালে, হয়ত ভাসে দূরে, বহুদূরে। জ্যোৎস্না অগ্রাহ্য করে অকস্মাৎ এক তীব্র তীক্ষ্ণ আলোর ঝলকানিতে চমকে ওঠে নীল টিপ। আর ভয়ার্ত এক কর্কশ শব্দে রাতের পবিত্র নীরবতা ধর্ষিত হলে সীমান্তবাসীদের ইন্দ্রিয় ঘুমকেই অধিক প্রশ্রয় দেয়। দু’একজন জেগে উঠলেও স্বাভাবিকতার কাছে দমে যায় কৌতূহল। শুধু সাদা শার্ট ওর কপালের উপর ঢলে পড়া নীল টিপের মুখখানি তুলে ধরতে চেষ্টা করে বেশ ক’বার। কপালজোড়া নীল টিপ বুঝি একবার দেখার সাধ ছিল তার?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;টলটলে দীঘিতে সূর্যালোক খেলা করলে অনেক মাইক্রোফোন-ক্যামেরা জড়ো হয় নদীপাড়ে। সংবাদপত্র আর ঝকঝকে চ্যানেলের সংবাদে শিরোনাম চোখে পড়ে -&lt;br /&gt;“জলসীমা লঙ্ঘনের দায়ে বি.এস.এফ-এর গুলিতে দুই বাংলাদেশী তরূণ-তরূণী নিহত”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দু’দুটি দেশের কোন্ কোন্ প্রধান যেন আলোচনায় বসেন সাদা পতাকা হাতে। নদী অদৃশ্য কাঁটাতার ডিঙিয়ে বয়ে চলে আর ম্লান হাসে। টিভিস্ক্রীনে বারকয়েক ভেসে ওঠে রক্তাক্ত-কাদাজলে ভেজা সাদা শার্ট। রক্তেভেজা নীল টিপ রোদ রোদ সকালে কালচে হয়ে যাওয়ায় জানা হয়না কারও - এই কপালে নীল টিপ ছিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;--------------------------------------------------&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-2061351716936971254?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/2061351716936971254/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=2061351716936971254' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/2061351716936971254'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/2061351716936971254'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/07/blog-post_3854.html' title='জলের মাঝে কাঁটাতার'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-7906510662311057283</id><published>2010-07-16T01:05:00.000-07:00</published><updated>2010-07-16T01:12:01.844-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='গপ্পো - কথা'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত (২০০৯-১০-২০)'/><title type='text'>জিওল মাছের স্বাদ</title><content type='html'>চেইন-প্যাডেল ডিঙিয়ে জল যখন সিট ছুঁই ছুঁই তখন ত্রিগুণ ভাড়ার খেপ না নিয়ে আনমনে বসে থাকে গণেশ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ডুবছে ক্রমশ, প্রথমে ফুটপাত-রাস্তাঘাট-রোড বিভাজক। অতঃপর দোকান-বারান্দা, ঘরদোর, সুউচ্চ ভবনের অলংকার গ্যারেজগুলো। শ শ গাড়ি জলাবদ্ধ, ইঞ্জিনের দাম্ভিকতায় ভাটা পড়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শহরজুড়ে ‘জল’, আলোড়নে ‘জল’, আড্ডায় ‘জল’, সংবাদপত্রে ‘জল’, চকচকে চ্যানেলগুলোর নিউজের বিশেষ দৃশ্যপটে ‘জল’। দূর্ভোগ পোহানো মানুষ ঘরে ফিরে ‘দূর্ভোগ চিত্র’ দেখে। সস্তা চাদরে ছেঁড়া তোষক ঢেকে, কোন মধ্যবিত্তের ঘরণী গাড়ি অকেজোর রিপোর্টে অবচেতনে খুশী হোন। কেউ তখন জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের পদক্ষেপ বিষয়ে বিশেষ মনোযোগী। ক্রমশ জটিল হতে থাকে তিলোত্তমা নগরীর জল থৈ থৈ ঝঞ্ঝাট।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঝঞ্ঝাট, চাল-ডাল-তেল-নুনের খিটমিট্ হয়ে আসে। ঝঞ্ঝাট- আমাশয়, সোয়ান ফ্লু, ডেঙ্গু আর দাউদের ঘা হয়ে আসে। এখন ঝঞ্ঝাট ‘জল’ হয়ে এল। এই ঝঞ্ঝাটের তোড়ে মাঝরাতে ভেসে গেল একখান ভাঙা বদনা, ছেলেগুলোর খেলার বশে আস্তাকুড় কুড়োনো প্লাস্টিকের টুকরো, ভাঙা বল, শ্যাম্পু-লোশন-ঝলমলে চুলের রহস্য জুঁই নারিকেল তেলের বোতল। কনডম-কনফ্লেক্স-গুড়ো দুধের মলিন প্যাকেটও।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দু’খন্ড মেঘের আলিঙ্গনে সজোর বজ্রপাত শীৎকারের শব্দ ছাপিয়ে তীব্র হলে, গণেশ দেখে ঘরের আলতো দরজা ডিঙিয়ে হুড়মুড় করে পানি ঢুকছে। বউ তখন ঝটপট শাড়ি গোছায় আর তন্দ্রাচ্ছন্ন ছেলে তিনটিকে ডাকতে থাকে। গণেশ চালের প্যাকেট হাতে তুলে নেবার আগে কোমরে গুঁজে নেয় বাঁশিটি। সেই রাত কাটলে উঁচুতে মাচান বাঁধার পালা, ঘরের উপর ঘর। উদোম গায়ের কচিকাচাদের পানি দাপড়ানো প্রফুল্লতায় ম্লান হেসে, রিকশা নিয়ে বেরোয় গণেশ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অদ্ভুত এক বিষন্নতা ভর করেছে আজ। ঘিঞ্জি বসত পেরিয়ে কিছুদূর এসে প্যাডেল ঘোরাতে আর ইচ্ছে করে না। এই জল নদী-ঝর্ণা-সমুদ্রে সুন্দর, বন্যার তোড়ে অলুক্ষণে আর নর্দমায় আবর্জনার নামান্তরমাত্র।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আসমান ভাঙা জলের ঢলে শ্যাওলা জমে মনে। কুন্তী মাসির ঘর পেছনে ফেলে, তালুকদারদের বিঘাখানেক জমি ডিঙিয়ে আরও কিছুদূর হেঁটে এসে খুঁজে পাওয়া; নদীঘাটে বেদেবহর। আজকের ঝুম্ বৃষ্টি শ্যামাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছে। বেদে কন্যার দেহের তেরছা বাঁক, চোখের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি যেন নাগিনীর দংশন। ঝড়-জলের সন্ধ্যায় প্রথম কোন রমণীর ভাঁজ খুলতে পারার উত্তেজনা আর প্রবল পাপবোধে আঙুলের রক্তে মাটিভেজা প্রায়শ্চিত্তের খন্ডচিত্র ফিরে ফিরে আসে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;স্মৃতিকাতরতায় ক্লান্ত গণেশ মাঝরাস্তায় কিছু বালকের উল্লাস শোনে। ঠিক বোঝেনা হয়েছেটা কি? এসময় হঠাৎ জটলার মাঝ থেকে ওর বারো বছরের ছেলেটি দৌঁড়ে আসে&lt;br /&gt;-বাপু, বাপু, তুমি এইহানে? বন্যার পানিত্ মাছ ধরা পইরতাছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মাছ? হৃদপিন্ডের কোঠরে-শিরায়-উপশিরায় অনুরণিত হয় শব্দটি।&lt;br /&gt;“রিকশায় ওঠ্।”- সজোরে প্যাডেল ঘোরায় গণেশ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একটা ছোট ট্রাঙ্ক, গেরামের গন্ধ যেখানে আটক। বাবার রঙচটা পাঞ্জাবী, মায়ের পেতলের বালা আরও কত কী সরিয়ে গণেশ বের করে আনে জালটা। এত বছর পর কোন এক অতীত থেকে উঠে আসা আঁশটে গন্ধে আর বাবার ঘর্মাক্ত গায়ের মায়া মায়া গন্ধে অবশ হয় চৈতন্য।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ছেলের হাত ধরে পথে নামে গণেশ, কাঁধে জাল। আগল ধরে দাঁড়িয়ে থাকা ঘুটে কুড়োনী রমনী ভাবে, নিত্যদিনের নগরে এ কোন্ অচিন পদশব্দ আজ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গাড়ি চলৎশক্তিহীন জলের ঘূর্ণিপাকে। দু’চারটি রিক্সা-ঠ্যালাকে গ্রাহ্য করেনা একদিনের নগুরে ধীবরদল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ধরা পড়ে তরতাজা ক’টি জিওল মাছ। হৈ-হুল্লোড়ে ভাসে জটলা। কিছু পথচারী শব্দ দূষণে কপাল কুঁচকে বিরক্তির সীমা বোঝায়। কোন কোন পথিক উপভোগ করে রঙ্গমঞ্চের ‘মাছ ধরা’ খেলা। গণেশের ফুলে ফেঁপে ওঠা পেশীতে তখন লেজ ঝাপটানো ‘সুখ’ আটকের প্রবল উত্তেজনা। ঝাঁক ঝাঁক সুখ তখন দুচোখজুড়ে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঝাকা প্রায় ফাঁকা, তলানিতে গুটিকতক মাছ। তবুও পূর্বাহ্নে কী এক গভীর সুখবোধ নিয়ে বাড়ি ফেরা।&lt;br /&gt;-বাপু, ঐ মাছ বেচুম না। ঐ মাছ আমার।&lt;br /&gt;-ঐ মাছ যে সব থেইকে চড়া দামে বিকোবে রে। আইচ্ছা, কাইল যে মাছ কবি সেটি তুই খাবি। বেচুম না, হইলো?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঝকঝকে বিদ্যুৎ খেলানো শরীর যার হাতে ধরা দেয় তার পাতে ওঠেনা। ইলিশের মৌসুমে ডাল-ভাত-উচ্ছো দিয়ে ভাত খেতে খেতে গলার কাছের দলা পাকানো কষ্টটাকেও এক ঢোকে গিলে খায় কিশোর গণেশ। সেই গণেশ ত্রিশ পেরুলো কবে?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;“বাজারে চলো বাহে, বন্যাতো দেহি কিছু ট্যাকার জোগান করি দিল।” - মধুর উচ্ছ্বাসে ঘোর ভাঙে গণেশের।&lt;br /&gt;জটলা তখন পানির উল্টো স্রোত ভেঙে হাঁটতে শুরু করেছে। পেছন পেছন দৌঁড়োচ্ছে উল্লোসিত কয়েকটি কিশোর-বালক।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ছেলেটি গণেশকে ঝাঁকায় - বাপু চলো।&lt;br /&gt;“না বাপ, ই মাছ বেচুম না। বাপ-বেটারা মিইলে আজ আয়েশ করি মাছ-ভাত খামু। চল্, বাড়ি চল্।" - গভীর স্বপ্নের ঘোরে কথা বলে গণেশ।&lt;br /&gt;কচি হাত শক্ত করে জাপটে ধরে মাছের ঝাপি&lt;br /&gt;- “কি কও বাপু? আমিন, কৃষ্ণ, চপলের বাপুরা এত্তো ট্যাকা নিয়া বাড়ি ফিরবো, আর আমরা ফিরুম খালি হাতে? কতো ওজনদার মাছ. কত্তো ট্যাকা- এতো ট্যাকা তুমি খাইয়া ফেলতে চাও বাপু?”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আজন্ম আঁশটে গন্ধে লালিত ‘গণেশ হৃদয়’ যোজন যোজন দূরের শহুরে পথশিশুটিকে ঠিক চিনতে পারেনা। কি প্রবল শক্তি ঐ কচি হাতে? গাঁয়ের কোন ধীবর পুত্র শহরের এই জটিল শেকল খুলতে পারেনা।&lt;br /&gt;জটলায় হারিয়ে যেতে যেতে ত্রিশোর্দ্ধো গণেশ আরও একবার ভাবে -&lt;br /&gt;জিওল মাছটির ঝোলমাখা এক লোকমা ভাতের স্বাদ কেমন হতো?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;--------------------------------------------&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-7906510662311057283?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/7906510662311057283/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=7906510662311057283' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/7906510662311057283'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/7906510662311057283'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/07/blog-post_16.html' title='জিওল মাছের স্বাদ'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-7712282615520098164</id><published>2010-07-15T00:00:00.000-07:00</published><updated>2010-07-15T00:08:55.139-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত (২০০৯-০৮-১৬)'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কাব্যমদে ডুবুডুবু'/><title type='text'>দস্যিপনা.....</title><content type='html'>আমার বাড়ির&lt;br /&gt;ছাদ ডিঙিয়ে-&lt;br /&gt;মালাইকারী চায়ের দোকান।&lt;br /&gt;নড়বড়ে বেঞ্চ&lt;br /&gt;ধুলোর পরত-&lt;br /&gt;ইঞ্চিখানেক জমছে নিদান।&lt;br /&gt;কাচের গেলাস&lt;br /&gt;ছলকে ওঠে;&lt;br /&gt;চায়ের সুবাস আড্ডামাঝে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;টঙঘরের ওই&lt;br /&gt;দোকান জুড়ে,&lt;br /&gt;জমছে সবাই একে একে।&lt;br /&gt;ফিরবো-না ঘর,&lt;br /&gt;ভাবছি বসে;&lt;br /&gt;‘আড্ডা’মদে মাতাল হয়ে।&lt;br /&gt;ভাবুক তারা-&lt;br /&gt;ভাবছে যারা;&lt;br /&gt;‘মেয়েছেলে’টা গেছে ‘বখে’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একটা পুকুর&lt;br /&gt;এই শহরে;&lt;br /&gt;বের করেছি অনেক খুঁজে।&lt;br /&gt;জল ভরপুর&lt;br /&gt;সিঁড়ির উপর;&lt;br /&gt;জলকেলিতে সময় কাটে।&lt;br /&gt;ছোট ছোট&lt;br /&gt;ঝাঁক বাঁধা মাছ,&lt;br /&gt;হঠাৎ যেন চমকে ওঠে।&lt;br /&gt;ছড়িয়ে ছুটে-&lt;br /&gt;মাঝ পুকুরে,&lt;br /&gt;দস্যি পা’য়ের আক্রমনে।&lt;br /&gt;এমনি করেই-&lt;br /&gt;কাটছে সময়,&lt;br /&gt;মুঠো মুঠো দস্যিপনায়।&lt;br /&gt;যে-যা ভাবে-&lt;br /&gt;ভাবতে পারে,&lt;br /&gt;ছেদ হবে না একটুক্ তায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;---------------------------------------------------------&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-7712282615520098164?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/7712282615520098164/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=7712282615520098164' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/7712282615520098164'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/7712282615520098164'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/07/blog-post_15.html' title='দস্যিপনা.....'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-4276571902526456209</id><published>2010-07-14T23:49:00.000-07:00</published><updated>2010-07-14T23:59:18.326-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কাব্যমদে ডুবুডুবু'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সংবাদ সাময়িকী(১/৭/২০১০)'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত(২০১০-০৫-১৭)'/><title type='text'>অহম্‌</title><content type='html'>ডুব সাঁতারে ভীষণ উদ্গ্রীব তুমি, সীমান্ত।&lt;br /&gt;অহং আর আমিত্বে ভরাট সময়ের ঝুলি।&lt;br /&gt;ঠিক কতটা ডুবে জেনে যাবে গহীন আমায়।&lt;br /&gt;ভেতরের ক্লেদে জমে থাকে শ্যাওলা ও ঝাঁজি।&lt;br /&gt;মৃত যা সে তো এক তীব্রতা ধরে রাখে -&lt;br /&gt;সংগোপনে, সংবেদনশীল এক অধীর আমি !&lt;br /&gt;দৃশ্যত উছলে ওঠা দীর্ঘ ছলছলে নদী।&lt;br /&gt;পচন ধরেছে কোথায় আর কী করে জানবে –&lt;br /&gt;সীমান্ত, অতোটা গহীনে কি পৌঁছোনো যায়?&lt;br /&gt;এতোটা মগ্ন কি কেউ হতে পারে, বলো?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;--------------------------------------------&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৬/০৫/২০১০&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-4276571902526456209?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/4276571902526456209/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=4276571902526456209' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/4276571902526456209'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/4276571902526456209'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/07/blog-post_14.html' title='অহম্‌'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-990282500566043665</id><published>2010-07-13T10:05:00.000-07:00</published><updated>2010-07-13T10:10:37.174-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত (২০০৯-১১-২০)'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কাব্যমদে ডুবুডুবু'/><title type='text'>গণকটুলির রায়বাবু</title><content type='html'>নিরাসক্তি আমার বড় -&lt;br /&gt;এমন কথা বল্লে যে,&lt;br /&gt;গণকটুলির রায়বাবুকে&lt;br /&gt;চেন নাকি, শুনি হে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;করছি না যে এই কাজটি-&lt;br /&gt;এটা বলো এমন কি?&lt;br /&gt;শুনলে তুমি বিষম খাবে-&lt;br /&gt;রায়বাবু আজ বল্লো কি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ন’নটি মেয়ে মাথার উপর-&lt;br /&gt;নিজের তাহার তিনজনা,&lt;br /&gt;তাদের মাঝে রইলো আরো&lt;br /&gt;ভেসে আসা ছ’জনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রসুই ঘরে আনাজপাতি-&lt;br /&gt;নুন-তেল তো হাতটানা।&lt;br /&gt;তবুও মশাই আজকে উনি&lt;br /&gt;পোষ্য নিল দু’জনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সিডর এলো, মঙ্গা এলো-&lt;br /&gt;এলো আরও কত কি!&lt;br /&gt;খুঁজে খুঁজে আগলে নিল-&lt;br /&gt;মা-বাপহারা মেয়ে ক’টি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি মশাই থমকে দাঁড়াই-&lt;br /&gt;বলি, ‘আজব! করছো কি?&lt;br /&gt;এত্তোগুলো মেয়েকে মশাই,&lt;br /&gt;পালবে তোমার সাধ্যি কি?’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তুলতুলে এক হাতে তখন-&lt;br /&gt;ধরিয়ে দিলেন লজেন্সটি।&lt;br /&gt;হাসতে হাসতে গুটিয়ে নিলেন-&lt;br /&gt;মলিন শার্টের হাতাটি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দু’টাকা দাম চায়ের কাপে&lt;br /&gt;চুমুক দিয়ে তৃপ্তিতে-&lt;br /&gt;শোন বলি, রায়বাবুটি&lt;br /&gt;আমায় ডেকে বল্লে কী?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘দাঙ্গা-লড়াই, দুর্যোগ সব&lt;br /&gt;এই আমাদের কাঁধেতেই।&lt;br /&gt;দায়গুলো সব বয়ে চলি&lt;br /&gt;জন্মসূত্রে রক্ততেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চলছে যেমন চলুক তেমন-&lt;br /&gt;এটা বলো এমন কি?&lt;br /&gt;বুঝতে হবে আমরা মশাই&lt;br /&gt;মধ্যবিত্ত বাঙালি।’&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-990282500566043665?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/990282500566043665/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=990282500566043665' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/990282500566043665'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/990282500566043665'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/07/blog-post_2846.html' title='গণকটুলির রায়বাবু'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-1465798758851613746</id><published>2010-07-13T10:02:00.000-07:00</published><updated>2010-07-13T10:05:10.944-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কাব্যমদে ডুবুডুবু'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত (২০১০-০১-০৫)'/><title type='text'>ফ্রাইপ্যানে হৃদয়-ভাজা</title><content type='html'>নগ্নতা ছেড়ে শরীরের ভাঁজে ভাঁজে&lt;br /&gt;উঠেছে রঙিন আভরণ।&lt;br /&gt;ভেতরে কাঁচা মাংসখেকো গুহামানব।&lt;br /&gt;প্যানথারের থাবার আগেই আজও&lt;br /&gt;হরিণের চামড়ায়-মাংসে মানুষের তীরের&lt;br /&gt;দগদগে ক্ষত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চড়চড় ফর্ ফর্ শব্দে ছিঁড়ে আনা&lt;br /&gt;দুধেল-গাভী, শম্বর, বারাশিঙা, পাঁঠার&lt;br /&gt;বড় - ছোট - মাঝারি হৃৎপিন্ড,&lt;br /&gt;হৃদয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পেঁয়াজ, মরিচ, হলুদে মাখামাখি, সুস্বাদু-&lt;br /&gt;গণগণে আগুনের আঁচে চকচকে ফ্রাইপ্যানে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গবেষকের নথিতে মানুষখেকোর&lt;br /&gt;দুঃখ উঠে আসে-&lt;br /&gt;ইন্টেলিজেন্ট মানুষের মাংস বড় বিস্বাদ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রকৃতির করুণা বটে -&lt;br /&gt;নতুবা&lt;br /&gt;লোলুপ আগুনে পেঁয়াজ-মরিচ-হলুদে&lt;br /&gt;পানপাতাকার হৃদয় ভাজা হতো মহাসমারোহে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সভ্যতার খোলসে বল্কলে ঢাকা -&lt;br /&gt;আদিম প্রতিমূর্তি,&lt;br /&gt;জিঘাংসায় - করুণায়,&lt;br /&gt;কামান্ধ হিংস্রতায় - ভালবাসায়,&lt;br /&gt;শ্রেষ্ঠত্বের চরম উত্থানে আর পতনে।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-1465798758851613746?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/1465798758851613746/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=1465798758851613746' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/1465798758851613746'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/1465798758851613746'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/07/blog-post_5578.html' title='ফ্রাইপ্যানে হৃদয়-ভাজা'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-4698015557214574463</id><published>2010-07-13T09:51:00.000-07:00</published><updated>2010-07-13T10:01:00.797-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='সচলপাড়ায় প্রকাশিত (২০০৯-০৫-০৭)'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='কাব্যমদে ডুবুডুবু'/><title type='text'>চিতায় অঙ্গার</title><content type='html'>লেলিহান আগুনের শিখায় ধোঁয়াটে আকাশটা&lt;br /&gt;কেবল পুড়ছে নিঃসাড় মানবদেহ,&lt;br /&gt;মৃত্তিকার গভীরে বিলীন হয় দেহ -&lt;br /&gt;মৃত্তিকা হয়ে ওঠে উর্বর।&lt;br /&gt;জ্বলন্ত অঙ্গারে পুড়ছে মনটা&lt;br /&gt;সন্ধান পাই প্রকৃত অনুভূতির।&lt;br /&gt;নিস্তব্ধ দেহের মতো নিথর সম্বন্ধ,&lt;br /&gt;নিঃশেষ মোহময় ভাললাগা।&lt;br /&gt;শেষ ??? হাহাকার ওঠে অন্তঃস্থল হতে,&lt;br /&gt;জীবনের ভান্ডারে সঞ্চিত অভিজ্ঞতা -&lt;br /&gt;জানায় শুধু ; শেষ হয়নি তবু।&lt;br /&gt;অবোধ মন, অবুঝ হৃদয় -&lt;br /&gt;দেয়না আজ আর অভিজ্ঞতার কদর।&lt;br /&gt;আকুলভাবে করে ওঠে নিবেদন -&lt;br /&gt;বল একবার শেষ হয়নি কিছু।&lt;br /&gt;চমক ভেঙেও কাটেনি আবিষ্টতা।&lt;br /&gt;জ্বলে অঙ্গার, শুধুই রিক্ততা।&lt;br /&gt;কেবল পুড়ে নিঃসাড় মানবদেহ।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-4698015557214574463?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/4698015557214574463/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=4698015557214574463' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/4698015557214574463'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/4698015557214574463'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/07/blog-post_13.html' title='চিতায় অঙ্গার'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-4560616837129448410</id><published>2010-07-05T09:36:00.000-07:00</published><updated>2010-07-05T09:41:00.069-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='অস্তিত্বে কুহেলিকা কিংবা টুকরো টুকরো প্রাণের কথকতা'/><title type='text'>অবয়বের বৈচিত্র্য</title><content type='html'>কোন কোন মানুষ এতোটাই নগণ্য আমাদের এ সমাজে যে তাদের উপস্থিতিতে কারও কিছু আসে-যায় না। আমার - আপনার মতো তাদের মৃত্যুতে কেউ কেঁদে বুক ভাসাবেনা। তবু সমাজে তাদের উপস্থিতি স্বীকার করতেই হয়।&lt;br /&gt; প্রিয় পাঠক, এমনই একজনের গল্প লেখার তাগিদ অনুভব করছি। শুরু থেকেই বলছি। শুরু অর্থাৎ সেদিনের কথা বলছি যেদিন থেকে তার নীরব উপস্থিতি অনুভব করছি।&lt;br /&gt;কয়েকদিন থেকেই বাসার গেটের সামনে কে যেন কচুশাক রেখে যায়। সামনাসামনি দুটো বাসার গেটের সামনে সমানভাবে ভাগ করা থাকতো কচুশাকের গোছা। প্রথমে সবাই ভাবলো, ভাত খুঁজতে যে ছোট ছোট শিশুগুলো এবাড়ি-ওবাড়ি ছুটে বেড়ায় তাদের কাজ হয়তো। কিন্তু এই দুর্মূল্যের বাজারে তারা শাক কুড়িয়ে এনে কেন রেখে যাবে - তার সদুত্তর পাওয়া গেলনা।&lt;br /&gt;     কিছুদিন পর অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটলো। উপর তলার এক বাসার গেটের সামনে কে যেন একটি মৃত হাঁস আর পেঁয়াজ রেখে গেল। আরেকদিন একটি মৃত কাক। এবার বিল্ডিং এর সবাই গুরুত্বের সাথে ভাবতে লাগলো বিষয়টি নিয়ে।&lt;br /&gt;অবশেষে একদিন খুঁজে পাওয়া গেল কে করছে এসব। বিল্ডিং লাগোয়া মুদির দোকানের দোকানদার দেখলো তাকে গেটের সামনে জিনিস রেখে যেতে। কোন স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে কী এমন অদ্ভুত কাজ অনবরত করে যাওয়া সম্ভব?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;     হ্যাঁ পাঠক, মানসিক ভারসাম্যহীন একজন এরকম আচরণ করছিলেন। বয়স খুব বেশি নয়, তরুণী বলা যায়। এলাকায় প্রায়ই দেখা যায় তাকে। ছোট ছোট চুল, অবসাদগ্রস্ত ম্লান অবয়ব। মলিন জামা থাকে গায়ে।&lt;br /&gt;এরপর এভাবে অন্ন বিলিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলতে থাকে। কখনও ফল, কখনও শাক কিংবা বিরিয়ানির প্যাকেট। জিনিসগুলো বাইরে পড়ে থাকতো, বুয়া কিংবা ভিক্ষুকদের ভাগ্যে যেত। একদিন দোকানদার জিজ্ঞেস করলো তাকে - এভাবে বাসায় বাসায় খাবার দিয়ে যাও কেন?&lt;br /&gt;তার উত্তর - এ বাসার বউ-ঝিরা খুব কষ্টে আছে। তাই তাদের সাহায্য করছে সে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আরও কিছু টুকরো ঘটনার কথা মনে পড়ছে তাকে ঘিরে।&lt;br /&gt;ঈদ শেষে ফিরে এলাম ঢাকায়, দেখি বাসার সামনে নতুন শাড়ি রাখা। কখনও কখনও সে টাকাও রেখে যেত।&lt;br /&gt;পাঠকবৃন্দ, একটি কথা জানিয়ে রাখি। মেয়েটির স্বভাবের যে বৈচিত্র্যের কারণে লেখাটি লেখার অণুপ্রেরণা পেয়েছিলাম তা হল - ভারসাম্যহীনতার মাঝেও হঠাৎ খুঁজে পাওয়া অবশিষ্ট আত্মসম্মানবোধ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একদিন বাবা অফিস থেকে ফেরার পথে দেখলেন পেয়ারা বিক্রেতার সামনে পেয়ারার দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটি। বাবা ভাবলেন হয়ত ওর পেয়ারা খেতে ইচ্ছে করছে। তাই পেয়ারা কিনে তার হাতে দিলেন। হাত থেকে পেয়ারা নিল ঠিকই কিন্তু সাথে সাথেই পাশে দাঁড়ানো এক টোকাইকে দিয়ে দিল পেয়ারাটা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এলাকার টিনশেডের চায়ের দোকান থেকে প্রায় প্রতিদিনই স্বেচ্ছায় মেয়েটিকে চা দিতেন দোকানদার। আবার হোটেলগুলো থেকেও খাবার দেয়া হয় ওকে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল যখনই মেয়েটা কোন পথিকের কাছ থেকে টাকা পায় তখনই কিছু না-কেনে টাকাগুলো দিতে যায় দোকানে।&lt;br /&gt;আরেকদিন বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি। ‘হরিপদ মিষ্টান্ন ভান্ডার’ হোটেল চোখে পড়ে রেলিং এর ওপাশ থেকেই। হোটেলের কর্মচারীরা খুব ব্যস্ত ছিল সেদিন। হঠাৎ দেখলাম মেয়েটি এসে কি যেন বললো, খাবার চাইলো হয়ত। ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে অপেক্ষা করতে বলেছিলো ছেলেগুলো। অবাক হয়ে দেখলাম বিন্দুমাত্র সময় অপেক্ষা না করে হাঁটতে শুরু করলো মেয়েটি। কর্মচারীরা অনেকবার ডেকেও ফেরাতে পারেনি তাকে। অবশেষে কয়েকজন কিছু খাবার নিয়ে তার পিছনে ছুটে গেল যদি গ্রহণ করে সে আশায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অবাক হয়ে ভাবি আত্মসম্মানবোধ, দায়িত্ববোধের কিছু থেকে গেছে অবশিষ্ট যা সে অর্জন করেছিলো জীবনের কোন এক পর্যায়ে। কিন্তু কখন, কোথায়, কি করে হারিয়ে গেল মানসিক ভারসাম্যটুকু, সে খবর কি কেউ জানবে কখনও?&lt;br /&gt;মা বলেন - হয়ত অন্নের অভাবে দরিদ্র জীবন কেড়ে নিয়েছে ভারসাম্য।&lt;br /&gt;আমি ভাবি - হবে হয়ত। নয়ত কার ঘরে অন্ন-বস্ত্রের প্রাচুর্য পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ অনুভব করে এ আকুল হৃদয়? দূর্বল মনস্তাত্বিক অবস্থার মাঝেও কার সাথে ভাগ করে নিতে চায় ঈদের আনন্দটুকু!&lt;br /&gt;হয়ত মা-বাবা, ভাই-বোন অথবা কোন প্রিয়জন এখনও মেয়েটিকে খুঁজে ফিরছে তিলোত্তমা এই নগরীর রাজপথে। হাজার ব্যস্ততা শেষে অবসন্ন মুহূর্তে হয়ত এখনও কোন অশ্রুসিক্ত চোখ পথ চেয়ে থাকে তার আগমনের আশায়।                &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;-----------------------------------------------------&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৩/৫/২০০৭&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-4560616837129448410?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/4560616837129448410/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=4560616837129448410' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/4560616837129448410'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/4560616837129448410'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/07/blog-post_2398.html' title='অবয়বের বৈচিত্র্য'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-1501254037377963154</id><published>2010-07-05T09:21:00.000-07:00</published><updated>2010-07-05T09:33:03.183-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='অস্তিত্বে কুহেলিকা কিংবা টুকরো টুকরো প্রাণের কথকতা'/><title type='text'>ক্ষণিকের আয়োজন</title><content type='html'>শ্যাওলাপাড়া থেকে মানুষের নিঃশ্বাসে গরম হয়ে উঠা বাসের অস্বস্তি গায়ে মেখে সায়েন্সল্যাব. এসে পৌঁছায় আদিব। তবু সকালের দিকে বাসের ভেতরের অবস্থা সহ্যসীমার মধ্যে থাকে। সন্ধ্যায় অফিস ছুটির সময় ক্লান্ত - শ্রান্ত বাঙালির ঘামের নোনা গন্ধে, টিকেট কিংবা ছোটখাট বিষয়ে কনটাক্টারের সাথে যাত্রীর তুমুল বাগবিতন্ডায়, অকথ্য গালিগালাজের উচ্চারণে অস্বস্তি সহ্যসীমা পেরোয়। টাইয়ের নব ঠিক করে নিয়ে ধানমন্ডির ভেতর দিয়ে হাঁটতে থাকে আদিব। আজ অতোটা দেরী হয়নি, হেঁটেই পৌঁছে যাবে অফিসে। আভিজাত এলাকার ফুরফুরে বাতাসের মাঝে হাঁটতে ভালই লাগে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;      অফিসের থাই গ্লাসের দরজা খোলে দেয় ডোরম্যান। ‘গুড মর্নিং স্যার’- সাদর সম্ভাষণের সাথে লোকটির মুখে প্লাস্টিকের হাসি ঝুলে থাকে। বাংলাদেশের শহরগুলোতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা মাল্টিন্যাশনাল অথবা দেশীয় প্রাইভেট কোম্পানীগুলোতে আভিজাত্য প্রকাশ ব্যবসারই অংশ। স্মরণ আহসান আদিব - সেলস্ এক্সিকিউটিভ ম্যানেজার। কিন্তু মাঝে মাঝে জুতো সেলাই থেকে চন্ডীপাঠ সবধরনের কাজই করতে হয় বসের আদেশে। ছোটখাট কোম্পানীগুলোর এই এক বিরাট সমস্যা। জনবল বাড়াতে পারেনা। অথচ সাফল্য চাই ষোলআনা। করারই বা কী আছে, টাকার অংকের কাছে বাড়তি কষ্ট অগ্রাহ্যকর। ডেস্কে বসে কম্পিউটার অন করে আদিব। এবার টানা নয় ঘন্টা এ যন্ত্রই সঙ্গী হবে। মাঝে আধঘন্টার লাঞ্চ ব্রেকে একটু রেহাই পাওয়া। ফাইল ওপেনের অপশনে প্রেস করার মুহূর্তে সেলফোনে মেসেজ টোন বাজে। ওপেন করতেই কেয়ার অভিমানভরা বাক্য কিছুটা বিষন্ন করে দেয় - ‘‘Suprovat :) Ke tedy bear? Khub busy? Sokaler surute ekbaro mone podlona amy?”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আজ বিকেল ওর সাথেই কাটানোর কথা ছিল। কিন্তু অফিসে জরুরী মিটিং , সন্ধ্যা পেরিয়ে যাবে অফিসেই। চিন্‌চিনে ব্যথায় বুক ভরে যায়। একটা কল করার চেষ্টাও ব্যর্থ হল। বস্ রুমে কল করেছেন, যেতে হবে এক্ষুনি।&lt;br /&gt;বসের রুমে থমথমে অবস্থা। যাদের উপর মিটিংয়ের কোন না কোন ডিউটি আছে সবাই উপস্থিত। তারপর শুরু হল পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ, কে কতটা করেছে, কার কাজে ফাঁক রয়ে গেছে। সবশেষে বেরিয়ে আসার অনুমতি পেয়ে সবাই হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। চেয়ারে বসে আজকের প্রেজেনটেশন আরেকবার দেখে আদিব। হঠাৎ সৌম্যর কথা মনে পড়ে। কালকে বাসায় এসেছিল। এখনও একটা চাকরি জুটাতে পারেনি। আদিব পরিচিত অনেককে বলে রেখেছে, ঐ কোম্পানীগুলোতে পোস্ট খালি হলে খবর পাবে। একফাঁকে পাশের ডেস্কের আদনান ভাইকে বলে রাখে। আজকাল জ্যাক ছাড়া কিছু হয়না। আদিবও তো কম ঘুরেনি একটা চাকরির জন্য। নিজেকে প্রমাণ করতে না পারার কষ্টের চেয়ে বড় কষ্ট আর হয়না। অথচ আজও কি পেরেছে নিজেকে প্রমাণ করতে? এই চাকরির জন্য শখের ফটোগ্রাফি প্রায় ছেড়ে দিয়েছে। পথেই ছবির বিষয় খুঁজে ফিরতো আদিব। আজকাল আর সে সময় কোথায়? কত দারুণ সব সাবজেক্ট চোখে পড়ে কিন্তু লেন্সে বন্দি করা হয়না ওদের। একদিন ছিল যখন এক্সিভিশন করার জন্য দুহাজার টাকা ছিলনা হাতের মুঠোয়। আর এখন, টাকা আছে কিন্তু সময় নেই প্রস্তুতি নেওয়ার। তবুতো অনেক কষ্টে থিয়েটারটা চালিয়ে যাচ্ছে এখনও।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কেয়াকেও ক্যামেরার ফোকাসেই প্রথম দেখেছিল। আজও মনে পড়ে। কাজলের পুরু বোর্ডার দেয়া চোখের পাতা মোহাবিষ্ট করলো তাকে। কী দারুণ অভিব্যক্তি ফোটে ছিল চোখ দুটোয়। আর শাটারে বন্দি হল শ্যামরঙা অবয়ব। আর্টিফিশিয়াল লুক এড়াতে কখনও কখনও সাবজেক্টকে ফাঁকি দিয়ে ছবি তুলতে হয়। কিন্তু সেদিন ধরা পড়ে গিয়েছিল আদিব।&lt;br /&gt;‘ভাইয়া, ছবি তুললেন?’ - কিছুটা অপ্রস্তুত হলেও স্মিত হাসির আভা স্বাভাবিকতা এনেছিল আদিবের কন্ঠে - জ্বী।&lt;br /&gt;- কোন পত্রিকার ফটোগ্রাফার আপনি ?&lt;br /&gt;- কোন পত্রিকার নয়। শখের ফটোগ্রাফার।&lt;br /&gt;- ও.....। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বইমেলা সেদিন তারুণ্যের রঙে রেঙেছিলো। বাসন্তী রঙের শাড়ি, হাতে গাঁদা ফুলের মালা জড়িয়ে কেয়াও সেদিন ফাগুনকে স্বাগতম জানাতে ব্যস্ত ছিল। সেই প্রথম। তারপর কি করে যেন ধীরে ধীরে অনেক কাছাকাছি চলে এসেছিলো দুজনে। কেয়া তখনও ছিল ; যখন উৎফুল্লতা ছেয়ে থাকা ছায়াবিথীতলে জীবন তীব্র সুন্দর। তখনও ছিল সেই একইরকম ; যখন বিষন্নতা, অবসাদ, ব্যর্থতা নিয়ে জীবন বিভীষিকা। আজও আছে ; যখন জীবন কিছুটা সান্ত্বণায়, অনেকগুলো স্বপ্নের রঙে রাঙানো। কৈশোরের উচ্ছ্বলতা ঘিরে থাকে কেয়াকে আর অসহনীয় যন্ত্রণায় আদিবের দিন ঘোলাটে হয়ে গেলে সেই মুখখানি চাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনে জীবনে।&lt;br /&gt;‘ উফ! কোথায় ভাবলাম অফিস শেষে একটু ঘুরতে যাবো। তারও উপায় নেই। যেন কোম্পানী আমাদের কিনে নিয়েছে। সব ফ্রেন্ডরা যাবে পয়লা ফাগুনের অনুষ্ঠানে, শুধু আমিই থাকবনা।’ - পাশের ডেস্ক থেকে আফসানা আপুর অসন্তুষ্ট কন্ঠে ফিরে তাকায় আদিব।&lt;br /&gt;- মাস শেষে একগাদা কড়কড়ে নোট জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য হয়ে রইলো।&lt;br /&gt;- সত্যি আদিব জানো, মনে হয়না একদিন সঙ্গীত বিভাগের ছাত্রী ছিলাম, রেওয়াজ করা হয়না বহুদিন।&lt;br /&gt;টেলিফোনের রিং টোনে ছেদ পড়ে কথায়। ফোন রিসিভ করার সাথে সাথে যান্ত্রিক আন্তরিকতা ছলকে ওঠে আফসানার কন্ঠস্বরে।&lt;br /&gt;      যান্ত্রিকতা, যান্ত্রিকতা, যান্ত্রিকতা। নিজেদের ন্যায্য প্রাপ্য ভেবে দিনভর রস নিংড়ে নেয় কোম্পানীর রুলস্-রেগুলেশনস্। অবশেষে শেষ হয় প্রেজেনটেশন। টাইয়ের নব ঢিলে করতে করতে কিংবা ভ্যানিটি ব্যাগ গোছাতে গোছাতে নীলাভ কাচঘেরা ভবন থেকে বেরিয়ে আসে একদল তরুণ - তরুণী। সবাই স্মার্ট, ওয়েল-ড্রেসড্ , শুধু দিনশেষে তারুণ্যের সজীবতা ফিকে হয়ে গেছে অনেকখানি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;       আজকে অতিরিক্ত প্রেসার ছিল প্রতিক্ষণে, বাসের কথা ভাবতে প্রচন্ড অস্বস্তিতে মাথা ঝিমঝিম করে আদিবের। হঠাৎ সেলফোনের স্ক্রীনে ‘ঝুনঝুনি’ লেখা ওঠে। কেয়ার ফোন এসেছে।&lt;br /&gt;- কি খবর ঝুনঝুনি? আজ এতো তাড়াতাড়ি রাগ পড়ে গেল যে?&lt;br /&gt;- রাগ কমেনি। কিন্তু তুমি এখনও বের হওনি কেন অফিস থেকে?&lt;br /&gt;‘এইতো মাত্র বের হলাম। কিন্তু কেন?’ - কিছুটা অবাক হয় আদিব।&lt;br /&gt;‘ও হ্যাঁ, দেখেছি।’- এগিয়ে আসে কেয়া। অপ্রত্যাশিত এই মুহূর্তকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় আদিবের।&lt;br /&gt;- কি হল? হা করে দাঁড়িয়ে আছো কেন? চলো হাঁটি।&lt;br /&gt;‘ এসময় বাসা থেকে বের হলে কি করে?’- হাঁটতে হাঁটতে প্রশ্ন করে আদিব।&lt;br /&gt;- আর বলনা। মামকে দিয়ে কল করালাম। মাম বললো আজ আমি ওর কোয়ার্টারে থাকবো। আম্মুতো কিছুতেই বের হতে দিবেনা। জিদ না করলেতো বের হওয়া অসম্ভব ছিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;‘মাম’ কেয়ার ছোটখালামণি। কেয়ার জীবনে এমন কোন ঘটনা নেই যা মাম জানেনা। বলা চলে বিপদে কেয়ার একমাত্র ভরসা। ওপেন মাইন্ডেড, সিঙ্গল। সরকারী চাকরী পেয়ে একাই থাকেন কোয়ার্টারে। নিজের মতো করে জীবনকে এনজয় করেন - বেশ আছেন। কেয়া ছোটবেলা থেকেই মাম এর ভীষণ ভক্ত।&lt;br /&gt;ঘন্টা হিসেবে রিকসা ভাড়া করে আদিব। সাধারনত ভাড়া ঘন্টায় পঞ্চাশ টাকার মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে। তবে উৎসবের দিনে উৎসব মাফিক ঘন্টায় ভাড়া বাড়ে। কখনও কখনও আশি/ একশতেও পৌঁছে যায়। কিন্তু এখন বেলা পড়ে এসেছে তাই অতো দরকষাকষির ঝামেলায় পড়তে হয়না আদিবকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রিকসায় উঠেও অনবরত কথার ফুলঝুড়ি চালায় কেয়া। এই প্রাণবন্ত আলাপনের জন্যই ওকে ‘ঝুনঝুনি’ ডাকে আদিব। তবে আদিবকে ‘টেডি বিয়ার’ ডাকার পেছনে একটা ঘটনা আছে। একদিন নিউমার্কেটে ‘অকারণ ব্যস্ততার’ ভাব নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলো দুজনে। সেদিন মাত্র আধঘন্টা সময় ছিল হাতে। দূরে কোথাও বসা যাবেনা। তাই বলে সময়টাতো হেলায় হারানো যায়না! মুহূর্তগুলো বন্দি করতে এটা ওটা দেখা, টুকরো টুকরো কথা বলা। হঠাৎ কেয়ার চোখে পড়ে সাদার মাঝে কমলার ছোপ দেয়া টেডিবিয়ার। সেদিন আদিবেরও পরণে ছিল কমলাÑসাদা ফতুয়া।&lt;br /&gt;স্বভাবজাত উচ্ছ্বলতায় বলে কেয়া - অ্যাই দ্যাখো। ঠিক তোমার মতো দেখতে। গালটাও।&lt;br /&gt;বলতে বলতে উচ্চস্বরে হেসেছিলো কেয়া। আদিবের গালদুটো যে ভরাট সেদিনই বাসায় গিয়ে বিশেষভাবে খেয়াল করেছিলো সে।&lt;br /&gt;- আ্যাই, বল্লেনা আজ কেমন লাগছে আমায়? খুব সুন্দর, তাইনা?&lt;br /&gt;হেসে ওঠে আদিব, আর কথার ঝুনঝুনি বাজতে থাকে বিরামহীন - জানো, মাম ডিশিসন চেঞ্চ করেছে। ঐ যে মাম এর সিনিয়র কলিগের কথা বলেছিলামনা। উনাকে মাম বিয়ে করে ফেলতে পারে।&lt;br /&gt;- তাই নাকি?! তাহলে ‘ বিয়ে মানে চাল, ডাল, তেল, নুন। বিয়ে মানে স্বাধীনতার নাম-গন্ধ নেই। বিয়ে মানেই অযথা টেনশন।’ ইত্যাদি মতবাদ জলাঞ্জলি দিবে মাম। মুচকি হেসে চোখ কপালে তুলে আদিব।&lt;br /&gt;- অসুবিধা নেই। মাম আগে থেকেই ক্লিয়ারলি কথা বলবে। ইউ নো, মাম বলেছে ‘নো কিডস্ কাপল্’ হবে। তাহলে অলওয়েজ ইয়ং লুক ধরে রাখতে পারবে।&lt;br /&gt;- হুম্। সত্যি অসুবিধা নেই। আরও কিছুদিন ওয়েট কর, এ সিদ্ধান্তও চেঞ্জ হবে।&lt;br /&gt;‘ তুমি মাম এর ডিশিসনকে ভুল ভাবছো?’- কেয়া কৃত্রিম রাগ দেখাতে চোখ ফেরাতেই আদিবের হাসির কাছে হার মানে।&lt;br /&gt;‘তুমি না!’ - মৃদু অনুযোগে আদিবের হাতে হাত রেখে কাঁধে মাথা এলিয়ে দেয় কেয়া। সাড়া দেয় আদিব। ফাগুনের টাটকা বাতাস ছুঁয়ে যায় দুজনকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt; অনেক অভিযোগ সময়ের কাছে, তবু এ প্রাপ্তিটুকুই বা কম কিসে? - আকাশের তারাগুলোর দিকে তাকিয়ে ভাবতে থাকে আদিব।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;--------------------------------------------------&lt;br /&gt; &lt;br /&gt;১৯/১১/২০০৮&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-1501254037377963154?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/1501254037377963154/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=1501254037377963154' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/1501254037377963154'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/1501254037377963154'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/07/blog-post_05.html' title='ক্ষণিকের আয়োজন'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-655514416995709060</id><published>2010-07-05T09:02:00.000-07:00</published><updated>2010-07-05T09:10:45.219-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='অস্তিত্বে কুহেলিকা কিংবা টুকরো টুকরো প্রাণের কথকতা'/><title type='text'>লাশকাটাঘরে আক্কাস আলি</title><content type='html'>বিবমিষা সৃষ্টি করা দূর্গন্ধের মাঝেও স্বাভাবিকভাবে কাজ করে যায় আক্কাস আলি। কথায় বলে, মানুষ অভ্যাসের দাস। প্রথম প্রথম এই গন্ধে গা গুলিয়ে উঠতো, গন্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে উদরপূর্তির অন্ন বেরিয়ে আসতো। ইদানীং সয়ে গেছে। একটা নতুন লাশের নাভির উপর থেকে চামড়া কাটতে শুরু করে আক্কাস আলি। কাটাকাটির পর ডাক্তার এসে এটা-ওটা দেখে রিপোর্ট লিখবে। বাকি কাজগুলো ডোমদের দিয়েই করিয়ে নেয় ডাক্তাররা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;    একপর্যায়ে আক্কাস আলির দৃষ্টি যায় লাশের চোখবোজা মুখমন্ডলে। বাইশ-তেইশ বছরের তরুণী, রক্তশূণ্য অবয়ব দুধসাদা হয়ে গেছে। বাড্ডায় এক পরিত্যক্ত জমি থেকে উদ্ধার করে পোস্টমর্টেম এর জন্য লাশটি পাঠিয়েছে স্থানীয় থানা থেকে। এসব ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় লাশের পরিচয় জানা যায় না, তবে এ লাশের পরিচয় পাওয়া গেছে। মেয়েটি নিষিদ্ধ পল্লীর বাসিন্দা। মা-বাবা, ভাই-বোন কিংবা পরিবারের অন্য কারও খোঁজ পাওয়া যায়নি। তখনও নাবালিকা ছিল যখন থেকে হাতবদল হওয়ার পর্ব শুরু হয়েছিল ওর জীবনে। তারপর হঠাৎ সেই নিষিদ্ধ পল্লীর আকর্ষণীয় পণ্য হয়ে ওঠা। এসবই পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ডাক্তারের সাথে আলাপের এক পর্যায়ে বলে পুলিশ কর্মকর্তা - ‘একটু দেখে একটা রিপোর্ট দিয়া দেন। ঘটনাতো জানাই, টাকা পয়সা নিয়া এমপির লগে গ্যাঞ্জাম করছে। মনে হয় এমপির পোলাপাইন রেপ কইরা ফালায়া রাইখা গেছে। চাক্ষুস সাক্ষীতো নাই এর উপর কেউ মুখ খুলতেও রাজি না, সামনে আবার নির্বাচনের ঝামেলা। এখন আর এই কেইস আগানো যাইবো বলে মনে হয়না।’&lt;br /&gt;     মেয়েটির দু গালে নখের আচড়, হিংস্র দাঁতাল কামড়ের দাগ সর্বাঙ্গে। কিন্তু গলার কাছের ঐ ধূসর কালচে ছোপটা বোধহয় জন্মদাগ। নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে আক্কাস আলি, এ জায়গায় এই দাগ কোথায় যেন দেখেছিলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-style:italic;"&gt;স্মৃতি-১&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আলাপীর মেয়ে পিয়ালী, হ্যাঁ হ্যাঁ মনে পড়েছে, পিয়ালীর গলার কাছে ঠিক এরকম একটা দাগ ছিল। আক্কাস আলির একমাত্র বোন ছিল আলাপী। বিয়ের পর সেকি কষ্ট একটা সন্তানের জন্য, শ্বশুর-বাড়িতে শ্বাশুড়ি, ননদ, জা-এর কত লাঞ্চনা, গঞ্জনা! তারপর আট বছর পার করে ফুটফুটে একটা মেয়ে এল কোলজুড়ে। পিয়ালীকে কোলে নিয়ে দোলাতে দোলাতে একদিন বলেছিলো আলাপী -&lt;br /&gt;‘দেখোনা ভাইজান, আমার চান্দের টুকরা মাইয়াটার গলায় কেমন কালা জনম দাগ। এইটা কি যাইবো না কোনদিন?’&lt;br /&gt;‘নারে পাগলি, জনম দাগ তো সারা জনমের লাইগা। এই দাগ যাইবো না। তাতে কি, চান্দের রূপে দাগ ঢাকা পইড়া যাইবো।’- হাসতে হাসতে উত্তর দিয়েছিলো আক্কাস আলি।&lt;br /&gt;সেই মেয়েকে একলা বাসায় রেখে বাজারে গিয়েছিলো আলাপী। ফিরে দেখে দরজা খোলা, মেয়ে বাসায় নেই। বারো বছরের মেয়েটিকে বাসায় রেখে প্রায়ই যেত বাজারে কিংবা দোকানে। কোনদিন এমন হয়নি। কিন্তু সেদিন কি হয়েছিলো, হঠাৎ মেয়েটা কোথায় চলে গেল কেউ জানতে পারেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও কোথাও পাওয়া যায়নি পিয়ালীকে। মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে শ্যামলীর মেন্টাল হসপিটালে কেটেছিলো আলাপীর অবশিষ্ট দিনগুলো।&lt;br /&gt;আচ্ছা, এই মেয়েটার নাম কি পুলিশ ডাক্তারকে বলেছে? সেদিন অসাবধান কোন মুহূর্তে পিয়ালী কি কোন দালালকে দরজা খুলে দিয়েছিল?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আক্কাস আলির গভীর দৃষ্টি নিথর দেহে থমকে দাঁড়ায়। ডান হাতের অর্ধেক অংশজুড়ে যে ক্ষতচিহ্ন তা বহুদিন আগের মনে হয়, প্রায় মিলিয়ে গেছে চামড়ার সাথে। আক্কাস আলিকে কেউ এখন দেখলে ভাবতো ঘোরের মধ্যে আছে সে। ভাবতে থাকে আক্কাস আলি- কতশত ছোটখাট ঘটনা প্রতিনিয়ত শুনতে পাই আমরা। শুনে আনন্দ পাই, কষ্ট পাই কিংবা অনর্থক সহানুভূতি দেখাই। তারপর একসময় ভুলে যাই। কিন্তু মস্তিষ্কের জটিল রসায়ন কী সম্পূর্ণভাবে সব ভুলে যেতে দেয়? দেয়না। তাইতো হঠাৎ কখনও স্মৃতিতে ভেসে ওঠে টুকরো কথামালা কিংবা কিছু দৃশ্য।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-style:italic;"&gt;স্মৃতি-২ &lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রায়ই সবসময় পূর্ণিমার চাঁদের আকৃতির রঙিন টিপ পরে থাকতো মেয়েটি। অন্তত আক্কাস আলির চোখের সামনে যে কদিন ছিল মেয়েটি তাই দেখেছে সে। ‘এলান পাষাণ আর বজ্জাত ছেলেটার ভাইগ্যে কেন যে আল্লাহ এমুন মাইয়্যা জুটাইয়্যা দিল’- নিষ্পাপ চেহারার দিকে তাকিয়ে মাঝে মাঝে ভাবতো আক্কাস আলি। মুনিয়া, মুনিয়া নাম ছিল মেয়েটির। আক্কাস আলির ভায়রার ছেলের বউ। একেতো গরিব বাপ বিয়েতে তেমন কিছুই দিতে পারেনি মেয়ের সাথে। উপরন্তু জামাইয়ের ব্যবসা লাটে উঠলে নতুন ব্যবসার মূলধন যোগানোর দায়ভার মেয়ের বাপকেই নিতে বলা হয়। এ যেন বিয়ের আগের অলিখিত শর্ত। অসম্ভব ছিল এ শর্ত পূরণ। আর তারপরের ঘটনাতো অহরহ ঘটে এ সমাজের  নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত, এমনকি মধ্যবিত্ত কিংবা উচ্চবিত্ত সংসারেও। একদিন নির্যাতনের এক পর্যায়ে উত্তপ্ত বাক্যব্যয়ের জন্য ফুটন্ত গরম পানিতে মেয়েটির হাত ডুবিয়ে দিয়েছিলো ছেলেটা। সেদিন সামনে থেকেও আক্কাস আলি কিছু করতে পারেনি। এটাও হয়ত অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে, কোন পরিবারের ব্যক্তিগত মীমাংসায় তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ অনাকাঙ্খিত।&lt;br /&gt;মেয়েটির বাপ কিছুদিন পরে স্ট্রোক করে মরে গিয়েছিল। একদিন মেয়েটিকেও আর পাওয়া যায়নি। যদিও ছেলেটি ‘নিখোঁজ সংবাদ’ ছাপিয়েছিল এখানে সেখানে; তবু অনেকেরই ধারণা ছেলেটিই হয়ত মেয়েটিকে বিক্রি করে দিয়েছে কোথাও।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;লাশটিকে দেখতে দেখতে আক্কাস আলির মন বলে, হয়ত এ মেয়েটিও কোন এক কালে ফুটন্ত গরম পানির স্পর্শের যন্ত্রণা অনুভব করেছে।&lt;br /&gt;কী আবোল তাবোল চিন্তা যে আজ পেয়ে বসলো তাকে।&lt;br /&gt;দ্রুততার সাথে কাজ সারতে মনোনিবেশ করে আক্কাস আলি।&lt;br /&gt;তারমাঝেও চামড়া সেলাই করতে করতে মনের কোণে আরও একটি চেহারা ভেসে ওঠে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-style:italic;"&gt;স্মৃতি-৩&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পাড়া বেড়ানো, অনবরত বকতে থাকা পাগলী যে কিনা প্রতি বছর গর্ভবতী হত। কখনও কখনও গর্ভপাতে ধ্বংস হত নির্মল সৃষ্টি। আর কখনও ফুটফুটে কোন শিশু জন্ম নিত। কিন্তু সেই শিশুটিকে কদিন পর আর দেখা যেতনা। কোন এতিমখানার লোক, কোন এনজিওকর্মী আর বেশীরভাগ সময় অজানা, অচেনা কোন একজন তুলে নিত শিশুটিকে। এমন কোন শিশুকন্যা ছিল কি এই মেয়েটি?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;-‘কি ব্যাপার? এখনও শেষ হয়নি?’&lt;br /&gt;-  ডাক্তারের কথায়  খানিকটা চমকে উঠে আক্কাস আলি।&lt;br /&gt;‘জানেন স্যার, কত কথা, কত প্রশ্ন যে মনে অয় বেওয়ারিশ লাশ কাটতে কাটতে’ - হাত চালাতে চালাতে বলে আক্কাস আলি।&lt;br /&gt;`ঠিকাছে, এবার একটু সিরিয়াস হয়ে কাজটা শেষ কর।' - ডাক্তারের যান্ত্রিক কন্ঠস্বরে ঢাকা পড়ে আক্কাস আলির আবেগ।&lt;br /&gt;শেষ হয় ময়নাতদন্তের কাজ। হিম শীতল লাশঘরে পড়ে থাকে হয়ত কারও আদুরে কন্যা কিংবা কোন এককালের তরূণী বধূ, প্রাণবন্ত নারী। প্রকৃতপক্ষে একজন ভাগ্যবিড়ম্বিত পথনারী।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;---------------------------------------------------&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;২৫/১১/২০০৮&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-655514416995709060?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/655514416995709060/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=655514416995709060' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/655514416995709060'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/655514416995709060'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/07/blog-post.html' title='লাশকাটাঘরে আক্কাস আলি'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-8697080735122227226</id><published>2010-06-30T09:45:00.000-07:00</published><updated>2010-07-05T09:15:36.377-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='অস্তিত্বে কুহেলিকা কিংবা টুকরো টুকরো প্রাণের কথকতা'/><title type='text'>রাজপ্রাসাদের বর্ণমালা</title><content type='html'>এ জায়গায় অনেকক্ষণ থেকে বসে আছে সে। ধীরে ধীরে কোলাহল থেমে নিরিবিলি হয়ে গেছে চারপাশ। কেউ আছে কিনা ঠিক ঠাহর করা যায়না। অনেকসময় মানুষ ওকে দেখলেও সাড়া দেয়না। আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ায়, আরও আস্তে পথ চলার চেষ্টা চালায়। দ্রুত হাঁটতে ভয় হয়, যদি পড়ে যায়। তার প্রতিদিনকার একঘেয়ে আবেদনে কেউ সাড়া দিচ্ছে না। কেউ নেই হয়ত। কিন্তু এখন আর কিছু করার নেই। শরিফা না আসা পর্যন্ত কোথাও যাওয়া যাবে না। খুব সাবধানে বসে হাত দিয়ে দেখে, অনুভব করে শক্ত পিচ ঢালা শিশির ভেজা রাস্তার স্পর্শ। ভাললাগার সাথে সাথে বিষন্নতার ভারে কেঁদে ওঠে মন। চোখের সামসে ভেসে ওঠে একটুকরো সত্যিকারের স্মৃতিকথা নাকি রূপকথার গল্প মনে পড়ে যায় তার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;        পলেস্তরা খসে পড়ে রংটা বিবর্ণ হয়ে গেছে জমিদার বাড়ির। শ্যাওলার নিচে ঢাকা পড়েছে জমিদারী বৈঠকখানা, পুজো মন্ডপ আর প্রতাপশালী জমিদারিত্ব। তবু কোন এক অতীতের অহংবোধ এ বাড়িকে দিয়েছে স্বকীয়তা। ছুট্ ছুট্ ছুট্ করে বাড়িটা মাথায় তুলছে কয়েকটি শিশু। আদিম বাড়ির ভিতর পুরাতনের ছাপ বয়ে বেড়ানো কয়েকটি ঘর। এখন আর তেমন কোন দামি আসবাব নেই এখানে। যদিও প্রতিরাতে শিশুগুলো স্বপ্নে রাজকন্যা কিংবা যুবরাজ হয়ে যায়; আর তখন এ বাড়ি হয়ে যায় প্রাচুর্যময় রাজপ্রাসাদ। তবে মানবজনের অভাব নেই এখানে যদিও সবাই একই পর্যায়ের নয়। কেউ সত্বাধিকারী, কেউ আশ্রিত, কেউ অতিথি আর কেউ বা সামান্য বেতনভুক্ত কর্মচারী।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;         বারান্দায় ইজিচেয়ারে বসে আছেন সাদা থান পরিহিতা আশির্দ্ধো বৃদ্ধা। শীতের সকালের মিষ্টি রোদে বসে ঠাকুরের নাম জপছেন তিনি।&lt;br /&gt;ছোট ছোট পা ফেলে এগিয়ে আসে বর্ণমালা আর পেছন  থেকে জড়িয়ে ধরে বলে - দিদা কি কর?&lt;br /&gt;মায়াবী বোলে প্রশান্তি ছড়িয়ে যায় বৃদ্ধার চোখে মুখে - এইতো ঠাকুরকে স্মরণ করছি।&lt;br /&gt;এবার চোখ যায় বারান্দার পশ্চিম কোণে, ফর্সা রঙের, মোহনীয় গড়নের তন্বী তরুণী বারান্দা ঝাট দিচ্ছেন। তারও পরনে সাদা থান কাপড়। তার পরিচয় তিনি একজন সদ্য বিধবা। তিনি অতিথি নন। আবার সত্বাধিকারীও নন। কিন্তু আশ্রিত বলতেও কোথায় যেন বাঁধে কারণ একতরফাভাবে কেউ তাকে দয়া করছেনা। তিনি বাড়ির কাজগুলো করেন। রান্নাঘরের কাজগুলোর দায়ভার তার উপরই তবু তিনি বেতনভুক্ত নন। বলা চলে কর্মের বিনিময়ে আশ্রয় তার কাম্য। আসলে তিনি এ বাড়ির বড় বৌরাণীর ছোট বোন। ছোটবেলা তার নাম রাখা হয়েছিলো মানবিকা। তবে এ নামে এখন আর কেউ ডাকে না। বড়রা ডাকেন মনু, ছোটরা মনুদি। কিন্তু তিনি হলেন বর্ণমালার আদরের ছোট মা। বর্ণমালার বেশিরভাগ আবদার তাকেই পূরণ করতে হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রান্নাঘরে মাসের আনাজপাতি এসেছে, ব্যস্ত সবাই। ছোটমার হাতে হিশেব বুঝিয়ে দিচ্ছেন মা। আর ছোট মা বুজির হাতে তুলে দিচ্ছেন মালমশলা, চাল, ডাল আরও কত কি। মা’র পিঠে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বর্ণমালা। মার সুতির শাড়িতে কী সুন্দর আদর আদর গন্ধ। আর বুজি শুধু ওলোট পালট কাজ করে বকা খাচ্ছে মার কাছে।&lt;br /&gt;     ও! বুজির কথাতো বলাই হয়নি। বুজি যে সেই কবে এ বাড়িতে এসেছে তা- মনেও নেই কারও।&lt;br /&gt;বর্ণমালা জন্মের পর থেকেই তাকে দেখেছে। বুজি রান্নাঘরে থাকে, অন্যসব বাবুর্চি, বুয়াদের উপর খবরদারি করে আর মাস শেষে বেতন পেলে তা জমিয়ে রাখে। পূজো-পার্বণের ছুটিতে যখন অন্য সব কর্মচারী বাড়ি যায় বুজি তখনও এখানেই থেকে যায়। কেউ বাড়ি যেতে বললে বলেÑ এটাই তার বাড়ি, যে ছেলে তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে গেছে তার কাছে ফিরবে না কিছুতেই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;উঠানের আম গাছের পরে আর একটা ঘর, সবাই বলে ‘পেছন ঘর’। সেখানেও থাকেন একজন। তিনি হলেন একধরণের অতিথি। ‘একধরনের’ কারণ তাকে ইংরেজিতে বলে “পেইং গেস্ট’’। বাংলায় যাকে বলা যায় ‘ভাড়ার অতিথি’। তার নাম অভ্র আলম অর্ক, খুলনা থেকে এসেছেন এই ঢাকা শহরে বিদ্যা শিক্ষার তাগিদে। ছুটির দিনে ক্লাস টুতে পড়–য়া বর্ণমালাকে মজার মজার খেলা শেখান। তবে প্রধান লক্ষ্য খেলা করা নাকি বর্ণমালাকে ঘরে নিতে আসা মানবিকাকে একঝলক দেখার তা বিধাতাই জানেন। এই মুসলমান ছেলেটিকে ঘরে রাখার পক্ষে ছিলেন না মা কিছুতেই। হোক পেছন ঘর, তাতে কি। খাবার দাবার তো এখান থেকেই যাবে। ছোঁয়াছুঁয়ি হলে তখন উপায়! কিন্তু অবশেষে বাবার ইচ্ছার কাছে হার মানতে হয় মাকে। কিছু কড়া কথাও শুনতে হয় বাবার মুখে - ‘তুমি যে যুগে বেঁচে আছ সে যুগ এখন আর নেই, বুঝলে। একটা ছেলে থেকে খেয়ে পড়াশোনা করবে তাতে দোষের কি?’&lt;br /&gt;তবে মা শর্ত দিয়ে দেন - ভেতর ঘরে ঢোকা নিষেধ। বাসন-কোসনও আলাদা করে রাখা হল। ও ঘর থেকে আসার পর গঙ্গাজল দিয়ে ধোয়া হলে তবেই রান্নাঘরে ঢোকার অনুমতি পায় বাসনগুলো। তাতে বর্ণমালার কী এসে যায়, দুরন্ত বর্ণমালা প্রায়ই মায়ের চোখ এড়িয়ে পৌঁছে যায় এঘরে। অর্কদার হাতে তৈরি কাগজের খেলনা বাড়ি, গোলাপ, নৌকা, উড়োজাহাজ পেতে খুব ভাল লাগে। আর হঠাৎ কখনও ধরা পড়লে ছোটমাতো আছেই বাঁচানোর জন্য।&lt;br /&gt;সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বর্ণমালার দৌরাত্ম্য চলে বাড়িময়। শুধু স্যার পড়াতে এলে অনিচ্ছাসত্বেও পড়ার টেবিলে গিয়ে বসতে হয়। খেলার সাথী ওর অনেক। পাশের বাড়ির দূর্গা, অন্তু, চামেলী আর বাসায় আছে কালী, রমা, বিন্দু।&lt;br /&gt;কালী, রমা, বিন্দু হল পিসিমনির মেয়েরা। পিসু আর পিসিমনি অতিথি হয়েই এসেছিলেন যখন নদীর ভাঙনে তাদের বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে যায়। কিন্তু আসার কয়েকদিনের মাথায় পিসু স্ট্রোক করলে অচেনা শহরে তাদের এ বাড়ি ছাড়া আর কোন সম্বল থাকেনা।&lt;br /&gt;বাবা এ বাড়ির কর্তা। বাবার কথাতেই সব হয়। জমিদারী নেই, কিন্তু এ রাজ্যে বাবাই জমিদার। বাবা সবার ভালমন্দ বোঝেন, দেখেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সামনে দূর্গোৎসব, তাই বাড়িতে প্রস্তুতি চলছে জোরেসোরে। সবার জন্য কাপড়, বাড়িতে নতুন কুশন, বেডসীট সবকিছু কেনা হচ্ছে। উৎসবের আমেজে সারাদিন মজে থাকে বর্ণমালা। বর্ণমালার খুশি আলাদারকমের। সবাই ওর জন্য নিয়ে আসছে নতুন নতুন জামা, জুতো, খেলনা। মন্ডপে মন্ডপে ঘুরে বেড়াবে, প্রতিমা দেখবে, মেলা থেকে কিনে আনবে নানান রকম জিনিস। ছোট মার সাথে এর মধ্যে শুরু হয়ে যায় প্ল্যান-প্রোগ্রাম করা। কোন মন্ডপে কোন দিন যাবে, কোথায় কোথায় মেলা বসবে সব নিয়ে মহাব্যস্ত এখন বর্ণমালা।&lt;br /&gt;ছোট মার কথামতো বর্ণমালার জন্য অর্ডার দেয়া হয় লাল চুমকির কারুকাজ করা লেহেঙ্গা, কেনা হয় লাল চুড়ি, পায়েল, টিকলি আরও কত কী। বর্ণমালার খুশি আর ধরে না। ঠাকুর দেখতে যাওয়ার সময় এইসব পরবে বর্ণমালা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দেখতে দেখতে পূজা এসে যায়। আগে এই বাড়িতে বিশাল প্রতিমা আসতো। দূর দূর থেকে মানুষ আসতো সেই প্রতিমা দর্শনে। এখন আর সেসব নেই। বাবার বেতনের টাকায় এখন আর সেসব হয়না। তবু যেটুকু হয় তাইবা কম কিসে? বর্ণমালা আর বাসার সবাই এতেই খুশি।&lt;br /&gt;মহাঅষ্টমীতে খুশি ঝলমল বিকেলে বাবা আর মায়ের সাথে ঠাকুর দেখতে বেরোয় বর্ণমালা, কালী, রমা আর বিন্দু। বাবার কোলে চড়ে মন্ডপগুলোর নানান রকমের নানান সাজের প্রতিমা দেখে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠে বর্ণমালা। মাটির পুতুল কেনার বায়না ধরে বাবার কাছে। বাবা কোল থেকে তাকে নামিয়ে হাতে দিলেন শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মাটির পুতুল। তারপর বাবার হাত ধরে ধরে হেঁটে বেড়াচ্ছিলো মেলা চত্বর।&lt;br /&gt;        &lt;br /&gt;           কিন্তু, কী যেন দেখেছিলো, যার আকর্ষণে থমকে দাঁড়িয়েছিলো। মনে করতে কষ্ট হয় বর্ণমালার। অবশেষে মনে পড়ে, সুতোয় বাধা গোল বল। একটা লোক বিক্রি করছিলো বলগুলো, সুতো ধরে ঘুরাতেই কি সুন্দর আলো ঠিকরে বেরোচ্ছিলো বল থেকে। আলো-আধারির খেলার মাঝে ডুবে যায় বর্ণমালা। কিছুক্ষণ পর বাবার হাত ধরার জন্য হাত বাড়াতেই দেখে বাবা পাশে নেই। চারপাশে শুধু অচেনা মানুষ। কত মানুষ, কিন্তু বর্ণমালা বাবাকে কোথাও খুঁজে পায়না। নোনা জলে টুকটুকে লাল দুটো গাল ভিজতে থাকে অনবরত। হঠাৎ চমকে উঠে বর্ণমালা। মাইকে ওর নাম ধরে ডাকছে, বলছে কোন পুলিশের কাছে গিয়ে পরিচয় দিতে। কিন্তু কোন পুলিশের কাছে যাবে সে, কোথায় পুলিশ। বিভ্রান্ত বর্ণমালার কান্নার শব্দ চাপা পড়ে পূজোর আনন্দ উল্লাসের জোরালো শব্দে। এর মাঝে এক মধ্যবয়সী লোক এগিয়ে আসে। স্নেহমাখা কন্ঠে জিজ্ঞাসা করে - কি হয়েছে বাবু?&lt;br /&gt;‘আমি হারিয়ে গেছি। আমাকে মাইকে ডাকছে। আমি বাবার কাছে যাবো।’ - কান্নায় ভেঙে পড়ে বর্ণমালা। লোকটি কোলে তুলে নেয় ওকে, রুমাল দিয়ে বার বার মুছিয়ে দেয় গালদুটো।&lt;br /&gt;           তারপর, তারপর আর কিছু মনে নেই বর্ণমালার। শুধু মনে পড়ে এরপর আর কোনদিন সে চোখ খুলতে পারেনি। অনুভব করেছে চোখে ব্যন্ডেজ আর তীব্র যন্ত্রণা। বুঝতে পারে যেখানে সে আছে এটা তার বাসা নয়। মাঝে মাঝে চিৎকার করে ‘বাবা’ বলে কাঁদে। কিন্তু কর্কশ কন্ঠের বকুনিতে স্তব্ধ হয়ে যায় ওর কন্ঠ। অনেক শিশুকন্ঠের আহাজারিতে কখনও কখনও ভয়ে কুকড়ে যেত ছোট্ট বর্ণমালা। তবে সেখান থেকে ঠাসাঠাসি করে বসা গাড়িতে চড়ে অন্য আরেকটি জায়গায় চলে এসেছিলো। এখানে এখন আর তেমন অত্যাচার হয়না, শুধু ভিক্ষার টাকার পরিমাণ কম হলে আম্মার চড়-থাপ্পর খেতে হয় মাঝে মাঝে। এখানে শরিফা, মালেকা আরও অনেকে আছে যাদের স্পর্শ সবচে আপন মনে হয়। শরিফাই প্রথম কথা বলেছিলো -  কি নাম তোর?&lt;br /&gt;‘‘ বর্ণমালা’’- আস্তে আস্তে উচ্চারণ করেছিলো ও।&lt;br /&gt;-  কি মালা? আইচ্ছা যা হউক, মালাই ডাকুম। ডরাইসনা। অখন আর ডরানের কিছু নাই। তোরে ভিক্ষার জইন্য কিইন্যা নিছে আম্মা।&lt;br /&gt;     হিম শীতল হাতের স্পর্শ গায়ে কাঁপন ধরালে কেঁপে ওঠে সম্বিৎ ফিরে পায় বর্ণমালা।&lt;br /&gt;‘আরে আমিতো। ইস্ কি জব্বর ঠান্ডা পইরছে। কত পাইলিরে মালা?’ - শরিফার কথায় আশ্বস্ত হয়।&lt;br /&gt;- একটা পাউরুটি পাইছিলাম। খেয়ে ফেলছি। টাকাতো আজ কেউ দেয় নাই। আইজ নতুন জায়গায় বসাইলা ক্যান? একটু একটু ডর করতেছিলো।&lt;br /&gt;মায়া হয় শরিফার - আম্মায় কইছে। আইচ্ছা চল। নতুন জায়গা তাই কিছু পাস নাই। আম্মারে&lt;br /&gt;বুঝাইয়া কমুনে।&lt;br /&gt;শরিফার হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে ওর ভরসা রমাদির কথা মনে করিয়ে দেয়।&lt;br /&gt;- “জানো শরিফাবু আইজ আবার দ্যাখছিলাম সবকিছু ----------”&lt;br /&gt;  নতুন করে পুরনো কথা বলতে গিয়ে আবার রূপকথার রাজ্য খুঁজে ফিরে বর্ণমালা। চোখের সামনে তখনও ঘোর অন্ধকার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;-----------------------------------------------------------------------------&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৬/১১/২০০৮&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-8697080735122227226?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/8697080735122227226/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=8697080735122227226' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/8697080735122227226'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/8697080735122227226'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/06/blog-post_2142.html' title='রাজপ্রাসাদের বর্ণমালা'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-2881668260292745161</id><published>2010-06-30T09:36:00.000-07:00</published><updated>2010-07-05T09:15:36.377-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='অস্তিত্বে কুহেলিকা কিংবা টুকরো টুকরো প্রাণের কথকতা'/><title type='text'>বেনীআসহকলা</title><content type='html'>সকালের স্নান সেরে ভেজা চুল আর ফোঁটা ফোঁটা জলের স্পর্শ নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালো অর্চনা। স্নিগ্ধতা ফুটে ওঠে মায়াভরা মুখে। তবু ভাললাগার আমেজ নেই কোথাও। ব্যাকুল এই মন আজ আর কিছুতেই শান্ত হতে চায় না। আলমারি খুলে হালকা কারুকাজ করা সাদা সুতির সেলোয়ার কামিজ তুলে নেয় হাতে। অভিমানভরা চোখে এক পলক দেখে নেয় আকাশী রঙের শাড়িটিকে। আজ এই প্রথম মন রাঙানো হলনা। সাদামাটা সকালকে তাই আরও বেশি বিষণ্ণ মনে হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্লাবন একটু আগেই ঝটপট নাস্তা সেরে ঝড়ের বেগে বেরিয়ে গেল অফিস করতে। ফিরতে বিকেল হবে। শুধু অর্চনারই অফিস ছুটির দিনগুলো এখনও ফুরিয়ে যায়নি। অল্প দিনের ছুটি নিলেই হতো-ভাবতে থাকে অর্চনা। অবশ্য তখন মনে হয়েছিলো -নতুন ঘর, নতুন মানুষজন, উপরন্তু জয়েন্ট ফ্যামিলি। এ্যাডজাস্টমেন্ট এ প্রোবলেম যেন না হয় তাই হঠাৎ একদিন ছুটি নেওয়া, হঠাৎ একদিন বউ সাজতে পার্লারে যাওয়া আর যেন হঠাৎ করেই একদিন এক অন্যরকম অনুভবে জড়িয়ে গুটি গুটি পায়ে এ ঘরে চলে আসা। কেমন করে প্রায় দুটো সপ্তাহ কেটে গেল ভাবতে অবাক লাগে। বিয়ে, সংসার নিয়ে উদাসীন ছিল অর্চনা বরাবরই। ক্যারিয়ারকে প্রাধান্য দিত সবসময়। তবু কৈশোরের অগোছালো কিংবা যৌবনের মোহাবিষ্ট ক্ষণে আনমনে স্বপ্নসুখে জড়ানো সুন্দর সংসার নিয়ে ভাবেনি তা নয়। আজ যখন সংসার হল, সত্যিকারের সংসার, মাঝে মাঝে ছেলেমানুষী ভাবনাগুলো মনে পড়লে হেসে ওঠে অর্চনা। তবে একটুকরো কৈশোর প্রতিটি মানুষই লালন করে মনের অজান্তে। হয়ত তাই অর্চনার মাঝেও বিয়ের পর দুরন্তপণা, আবেগী খেয়াল উধাও হয়ে যায়নি। এক অদ্ভুত খেলায় মেতে ছিল এতোদিন। মনে পড়ে খেলার নিয়ম তৈরী হয়েছিলো সেই সতেরো বছর বয়সের কোন এক বিকেলে। অর্কের সাথে তখন উড়ে উড়ে চলে এ মন। কলেজে তুমুল আড্ডা, বিকেলগুলোতে শুধু দুজন পার্কে কিংবা নির্জন রাস্তায়। প্রেম কিংবা ভালবাসা তখন এরই নাম। উদাস দুপুর বিষণ্ন বিকেল হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। অর্কই প্রথম বলেছিলো-তুই কিন্তু বিয়ের পর সাতরঙে সেজে থাকবি।&lt;br /&gt;‘ সাতরঙে?’ - অর্চনা তাকিয়েছিলো অবাক চোখে।&lt;br /&gt;- হ্যাঁ, সাতরঙে। বেনীআসহকলা, সপ্তাহের সাতটি দিন রঙধনুর সাতটি রঙে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কোথায় সেই দুরন্ত কিশোর? বাবার হাতে ধরা পড়ে প্রেম হারিয়ে ফেলার দুঃখ ঊনিশেই ভুলে গিয়েছিলো অর্চনা। তরুণী অর্চনার সামনে ছিল শুধু কঠোর বাস্তবতা। অর্কের কথা ভেবে আর কষ্ট পায়না। তবু খেলাচ্ছলে দেখা স্বপ্ন হয়ত মনের কোথাও চুপটি করে বসে থাকে। তাইতো প্রথম সকালে বেগুনী রঙের জামদানী পরে প্লাবনের সামনে দাঁড়িয়েছিলো। প্লাবনকে ঠিক বুঝতে পারেনা সে। ছেলেটা গম্ভীর স্বভাবের। কথা খুব একটা বলেনা। অর্চনার মাঝে মাঝে মনে হয় কাজপাগল ছেলেটা কাজ ছাড়া কিছুই বোঝেনা। তাকে ভালভাবে কখনও দেখেছে কিনা সন্দেহ। আর বেনীআসহকলা সূত্র মেনে ওর শাড়ি পরার নিয়ম নিশ্চয় ধরতেই পারেনি। অর্চনাযে কথার ছলে ইশারা দেয়নি তা কিন্তু নয়। এইতো কদিন আগে বিকেলে যখন অফিসের ফাইলে মাথা গুঁজে ছিল, গাঢ় নীল শাড়ি, হাতভর্তি চুড়ি আর কপালের নীল টিপ নিয়ে দাঁড়িয়েছিল অর্চনা টেবিলের পাশে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;- কাজের খুব চাপ বুঝি? সত্যি, অনুষ্ঠানের দিনগুলোর জন্য অনেক কাজ জমে গেছে। আমিও ভাবছি, অফিসে যাওয়ার পর সামলে উঠতে হিমশিম খেতে হবে।&lt;br /&gt;খানিক নীরবতার পর মুখ প্লাবন। চশমার ফাঁকে অর্চনাকে দেখে ‘হুম’ বলে মাথা দোলায়, তারপর আবার ফাইলে।  এতগুলো কথার উওর শুধুমাত্র ‘হুম’!! টিপ, শাড়ি, চুড়ি কিছু যেন দেখতেই পেলনা। অর্চনা ধীর পায়ে জানালার দিকে এগিয়ে যায়।&lt;br /&gt;- বর্ষাকাল, অথচ বৃষ্টির দেখা নেই। জানো, বৃষ্টির পর রংধনু দেখতে অনেক ভাল্লাগে আমার। বেনীআসহকলা, রংধনুর সাতটি রঙ আর সপ্তাহেও সাতটি দিন। কী অদ্ভুত কাকতালীয় ব্যাপার, তাইনা?&lt;br /&gt;ব্যাকুল শোনায় অর্চনার কন্ঠস্বর।&lt;br /&gt;ব্যস্ততার ফাঁকে হাসিমুখে তাকায় প্লাবন - এক কাপ চা দিবে? মাথাটা খুব ধরেছে।&lt;br /&gt;চমকে উঠে উওর দেয় অর্চনা - হ্যাঁ, দিচ্ছি।&lt;br /&gt;ঘোর কাটলে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়িয়ে ম্লান হাসে, ভাবে-ভালো হয়েছে শোনার অবকাশ পায়নি। কী আবোল তাবোল বকছিলাম। নির্ঘাত পাগল ভাবতো আমায়।&lt;br /&gt;কিন্তু অবোধ, অবাধ মন কে অভিমানী হওয়া থেকে বিরত রাখা যায় না। এই মন যেন স্থির, বাস্তববাদী অর্চনা থেকে যোজন যোজন দূরে থাকে। ভাবনায় আচ্ছন্ন অর্চনাকে হঠাৎ প্রমি জড়িয়ে ধরলে ভাবনার সুতো কেটে যায়।&lt;br /&gt;- কি হল? চুপচাপ বসে ভাইয়ার কথা ভাবছো কেন? এসব ভাবনাকে একদম প্রশ্রয় দিবেনা কিন্তু। ব্যাস, একবার দিয়েছ কী মরেছ। আমাদের মা-কাকীমাদের দেখছ না? আজকালকার মেয়েদের শুধুমাত্র নিজেকে নিয়ে ভাবতে হবে। তোমার চারপাশে শুধু থাকবে তুমি, তুমি আর তুমি।&lt;br /&gt;কথার রেলগাড়ি ছুটালে আর থামতেই চায়না। প্রমির স্বভাবই এমন।&lt;br /&gt;খারাপ করা অনুভূতির রেশ কেটে যায় অনেকখানি।&lt;br /&gt;হাসতে হাসতে বলে অর্চনা - নারী মুক্তি আন্দোলনে কোন দলের সাথে মাঠে নেমেছ শুনিতো?&lt;br /&gt;- আহ হা ! ভাবী, নারীরা এখন সংঘবদ্ধ। আর মুক্ত তো আমরা হয়েই গেছি শুধু আবার যেন বদ্ধ না হয়ে পড়ি সেটাই দেখার বিষয়। এই সমাজটার তো কোন গ্যারান্টি নেই। কখন কী হয়ে যায়।&lt;br /&gt;কথার মাঝে মুঠোফোন বাজলে প্রমি চঞ্চল হয়ে ফোন রিসিভ করে-&lt;br /&gt;‘‘হ্যালো, আসছিতো।&lt;br /&gt;- দেরী করছি মানে?&lt;br /&gt;- দ্যাখো,চিৎকার করবেনা। রাতে কিন্তু ফোন ধরবো না বলে দিলাম।’’&lt;br /&gt;ফোন রেখে অপরাধীর মতো হাসিমাখা মুখে বলে প্রমি - রাস্তায় এতো জ্যাম তবু কি করে যে এতো তাড়াতাড়ি পৌঁছে যায়?&lt;br /&gt;চোখে কৃত্রিম গাম্ভীর্য নিয়ে কথা বলে অর্চনা - সে কি? এতো ব্যাকুলতা থাকলে আন্দোলন চলবে কি করে?&lt;br /&gt;- ব্যাকুলতা সে বুঝবে কি করে? গিল্টি ফিল করছি তাতো ওকে বুঝতেই দেয়নি।&lt;br /&gt;- আই সী ! গ্রেট ট্যাকনিক।&lt;br /&gt;- এখন উঠি ভাবী। ডোজ বেশী হলে প্রোবলেম হয়ে যাবে।&lt;br /&gt;প্রমি বের হয়ে গেলে কৈশোর পেরোনো এই বেহিসেবী মগ্নতার কথা ভেবে মনে মনে হেসে নেয় অর্চনা। অলস দুপুর ক্লান্তি ছড়িয়ে দেয় শরীরে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অর্চনার যখন ঘুম ভাঙ্গে তখন আকাশের নীলে সূর্য লাল আভা ছড়িয়ে দিচ্ছে। হাতে ভর দিয়ে উঠে বসে দেখে প্লাবন বালিশে হেলান দিয়ে ল্যাপটপ এ গেইম খেলছে।&lt;br /&gt;- চা খেয়েছ?&lt;br /&gt;- না।&lt;br /&gt;- দিচ্ছি।&lt;br /&gt;অর্চনা ফ্রেশ হয়ে আয়নার সামনে এসে দাঁড়ায়। মাথায় ওড়না টেনে নেয়। বাইরে অনেক মানুষ। যদিও এখানে সবাই ওপেন মাইন্ডেড। ভাল লাগে অর্চনার। যে ফ্যামিলিতে বড় হয়েছে সেখানে সংস্কার ছিল তবে আরোপিত অত্যধিক নিয়ম-নীতি ছিলনা। এখানেও তাই।&lt;br /&gt;প্লাবন এতোসময় গভীরভাবে তাকিয়ে ছিল ওর দিকে। অর্চনা দরজার কাছে যেতেই কথা বলে প্লাবন&lt;br /&gt;- তোমার কি মন ভালো নেই?&lt;br /&gt;ঘুরে দাঁড়ায় অর্চনা - ভাল তো। কেন?&lt;br /&gt;মৃদু হাসে প্লাবন - তবে সাদা পরলে যে? আজ তো আকাশের নীল পরার কথা। তাইনা?&lt;br /&gt;সমস্ত দেহে যেন শিহরণ জাগে। প্রচন্ড বিস্ময় নিয়ে অর্চনা চোখ রাখে প্লাবনের চোখে। ওর ঠোঁটে বাঁকা হাসি আর চোখে মাদকতা ভর করেছে। আকাশের মতো রক্তিম আভায় ছেয়ে যায় অর্চনার মুখ। অপলক দৃষ্টির গভীরতা হৃদস্পন্দন তীব্র করলে অবাক হওয়া চোখ দুটো নামিয়ে নেয় অর্চনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;-----------------------------------------------------------------------&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১০/০৮/২০০৮&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-2881668260292745161?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/2881668260292745161/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=2881668260292745161' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/2881668260292745161'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/2881668260292745161'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/06/blog-post_1099.html' title='বেনীআসহকলা'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-2520067180334917359</id><published>2010-06-30T09:05:00.000-07:00</published><updated>2010-07-05T09:15:36.378-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='অস্তিত্বে কুহেলিকা কিংবা টুকরো টুকরো প্রাণের কথকতা'/><title type='text'>অস্তিত্বে কুহেলিকা</title><content type='html'>রাতের প্রহরগুলো গুনতে গুনতে রাত কাটিয়ে দিতে বেশ লাগে উজানীর। ঠিক যেন অবজ্ঞাভরে ফিরিয়ে দেয়া রাতের ঘুম জড়ানো মুহূর্তের আহ্বান। ‘অবজ্ঞা’ শব্দটি বুকের ভিতর ঝড় উঠালে চিনচিনে ব্যাথায় খানিক কুঞ্চিত হয় কপাল। একটা দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘায়িত করে নিঃশ্বাসের নির্দিষ্ট সময়। তবু সব শেষে সেই অবজ্ঞারই হাসি ফুটে ওঠে উজানীর কালচে মোটা ঠোঁট দুটোতে। মিষ্টি হালকা আলো মেখে আকাশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কর্কশ কা কা ধ্বনিতে চারদিক মুখরিত। রোজ রোজ এমন করেই সকাল আসে। তবু নতুন একটা দিন, জীবনের আরও একটা সকাল এটি। বাঁশের দুটো টুকরো আড়াআড়িভাবে বসানো নড়বড়ে জানালা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় উজানী। অবিন্যস্ত আচল মাটিতে লুটায়, বুকে তুলে নেওয়ার কোন তাগিদ অনুভব করে না। বরঞ্চ ব্যস্ত হাতে কোমরে জড়িয়ে নেয় কাপড়টি। চঞ্চল গতিতে টিউবয়েলের দিকে এগিয়ে যায়। এখনও ওতো ভিড় জমেনি কলপাড়ে। একটুপর হই-হুল্লোড় শুরু হবে এখানটায়। লাইনে দাঁড়িয়ে আড়মোড়া ভাঙ্গে উজানী।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt; দূরের আকাশ তখন লালচে আভায় মোহনীয় হয়ে উঠছে। গ্রামের তালগাছটার মাথার পরে আকাশটা ঠিক এমন হয়ে আছে এখন। ‘মোহনভোগ’ - অপূর্ব নামের অনিন্দ্য সুন্দর গ্রামটি যন্ত্রণার তীব্রতা নিয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে স্মৃতিতে। মা-বাবা, ভাই-বোন, পরিচিতজন, যাদের সাথে ভালবাসার-শ্রদ্ধার সম্পর্ক ছিল। যারা অস্তিত্বের, অনিশ্চিত পরিচয়ের সংকটের মাঝে একা ছেড়ে দিয়েছিলো তাকে তাদের কথা বড় বেশি মনে পড়ে। দেখতে দেখতে চঞ্চল হয়ে ওঠে বস্তিপাড়া। উজানী দাঁতের উপর আনমনে ছাই ঘষতে থাকে। চোখে মুখে পানির ঝাপটা মেখে ঝুপড়িতে ঢুকে। একটা নড়বড়ে খাটিয়া, মরচে ধরা পুরনো ট্রাঙ্ক, পেরেকে ঝুলে থাকা চারকোণা আয়না - এই নিয়ে সীমাবদ্ধ জগৎ উজানীর। আয়নার দিকে তাকাতেই প্রতিচ্ছবি ধরা দেয় চোখের সীমানায়। লম্বাটে শ্যামলা মুখ, পুরুষালী দুটো কালচে ঠোঁট আর টানা দুটো ভ্রুর নিচে ঘন পাপড়িসমেত চোখ। বুকের ভিতরটা হু হু করে ওঠে। নিষ্পাপ এক শৈশব ঝলকে উঠলে ছোট্ট উজানী নদীপাড়ে ছুটে বেড়ায়। এক্কা-দোক্কা, পুতুল খেলায় মেতে থাকে দুরন্ত শিশু। পুতুল খেলায়, চুলে গামছা বেঁধে মেয়ে হয়ে যাওয়ার পেছনে মায়ের শঙ্কিত মুখখানি মনে পড়ে। নিজের জীবনই নিজের কাছে অদ্ভুত এক ধাঁধাঁ হয়ে দাঁড়ায় একসময়। ধীরে ধীরে নিজের ভিতর দুপ্রান্তের দুটো পৃথক জগৎ প্রচন্ড বিস্ময় নিয়ে ধরা পড়ে বয়ঃসন্ধিকালে। গ্রামের মানুষ অবশ্য বুঝতে পারে আরও কিছুদিন পরে। এরপর কী করে এক নির্দিষ্ট পরিচয়হীন প্রাণীর সাথে তারা নিজেদের ছেলেমেয়েদের মিশতে দিতে পারেন? সত্যিই তো -আনমনে ভাবে উজানী। খুব বেশি করে মনে পড়ে সাবরিনার কথা। অনেক ভালবাসতো ওকে। আজও স্পষ্ট শুনতে পায় মায়ের আর্তনাদ। গ্রামের বৈশাখী মেলায় কিন্নরদের দলটার হাতে ওকে তুলে দিতে বাধ্য মা-বাবার করুণ মুখ আর ভাইবোনদের স্বস্তিমাখা চোখ বড্ড মনে পড়ে হঠাৎ। তবে হ্যাঁ, ঠিক দাঁড়াতে পেরেছিলো। সবকিছুকে পেছনে আড়াল করে একটা নতুন জগৎ, নতুন নাম নিয়ে ভুলেই তো ছিল। তবু মনের গহীন কোণে কোথায় যেন, বার বার, বারংবার ফিরে আসা জ্বালাময় অতীত ..........।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দূর্গার ডাকে চমক ভাঙ্গে উজানীর।&lt;br /&gt;সুরুজ হাসপাতালে, অবস্থা খুব খারাপ। - বিষণœতায় আর ক্লান্তিতে ডুবে আছে দূর্গার কন্ঠ। সুরুজ ওদেরই দলে ছিল। কিন্তু কদিন আগেই এক সাহেবের সখ্যতায় বেশ কিছু টাকা পেয়ে অপারেশন করিয়েছে। একটা নতুন জীবনের স্বাদ, কোন প্রিয়জনের আহ্লাদ গ্রহনের সাথে সাথে যমদূতও কড়া নাড়ে ওদের জীবনে। তাই সুরুজের জীবনে মৃত্যু এখন অনাকাঙ্খিত নয়। ভালই হবে, ভাবে উজানী -বেঁচে গেলে কোন না কোন পুরুষের সাথে জীবনকে গেঁথে নেবে। আর মৃত্যু হলেতো অসীম প্রশান্তিতে জড়িয়ে যাবে। তাই সুসংবাদ কিংবা দুঃসংবাদটির কথা না ভেবে প্রসাধন মাখতে ব্যস্ত হয় উজানী। কাজল, মাশকারা আর আইলাইনার এ মোহনীয় হয় চোখ দুটি। মনে পড়ে চঞ্চল, তরুণ সেই লেখকের কথা। কিণ্ণর - কিণ্ণরীদের নিয়ে এক উপন্যাস লেখার প্রয়োজনে বেশ কিছুদিন ওদের জীবনের সাথে এসে মিশেছিলো। প্রায়ই বলতো- ‘জানেন উজানীদি, আপনার চোখ দুটো অদ্ভুত সুন্দর। আপনার বডি স্ট্রেকচার অনেকটা আফ্রিকান নারীদের মতো। সত্যি, বিশ্বাস করুন, প্রথমবার দেখে বুঝতেই পারিনি আপনি ওদের সাথের একজন।’&lt;br /&gt;উচ্চহাস্যে থামিয়ে দিত উজানী তাকে। কিন্তু ওর কোমর ছোঁয়া সিল্কি চুল, অন্যদের চেয়ে আকর্ষণীয় ফিগার আর গুরু মার (হিজড়া দলের দলপ্রধানকে এ নামেই ডাকেন তারা) একটু বেশি স্নেহ এখানকার অনেকেরই মনে ঈর্ষার উদ্রেক ঘটায়। জানে উজানী এ কথা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দোকানদার কিংবা অন্যদের কাছ থেকে চাঁদাও সে বেশিই জোগাড় করতে পারে। তবুও তো পূর্ণাঙ্গ নারী নয়। নারীত্বের গৌরব কেন দিলেন না বিধাতা? উদাসীনতা জড়িয়ে ধরলে চিরুণি থমকে দাঁড়ায় চুলের গোছায়।&lt;br /&gt;‘ আ ! মর, এখনও শ্যাষ হইলনা সাজন-গোজন। তোর আশায় বইস্যা থাইক্যাতো মরদগুলানের পায়ে শিকড় গজাইয়্যা যাইবো।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কল্লোলিত হাসির দমকে প্রাণের উচ্ছ্বলতা ছড়িয়ে পড়ে ঘরময়। সর্বাঙ্গে উচ্ছ্বাস মেখে ঘরে ঢুকে সরমা, রাণী, পাখি, চপল আর যমুনা। দুঃখগুলো যেন খাঁচাছাড়া পাখি হয়ে উড়ে যায় পলকে। আজ এলাকা ঘুরে একবার নিউমার্কেটেও যেতে হবে। ছয়জনের দল তাই বেরিয়ে পড়ে তাড়াতাড়ি। কেউ সহানুভূতি দেয়, কেউ দেয় বিরক্তি কিংবা ঘৃণা। আর কেউ কেউ শাপ-শাপান্তের ভয়ে গুঁজে দেয় কিছু টাকা। এমনি করে পড়ন্ত বিকেলে পোস্ট-অফিসের সামনে আসতেই ঝুম বৃষ্টি নামে আকাশজুড়ে। ‘হায় দাইয়্যা’ - বলে দৌঁড়ে ভেতরে ঢোকার পথে যমুনাকে বলে রিকশাগুলোর লাইন ঠিক করতে থাকা এক লোক -‘তোরাতো দেশটারে জ্বালাইয়া মারলি।'&lt;br /&gt;তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ঘুরে দাঁড়াতেই ব্যঙ্গ ঝরে পড়ে যমুনার কন্ঠে - ‘যেদিন তোর মন্ডুটা চিবাইয়্যা খামু , সেদিন জ্বালা কারে কয় বুঝবি ।’&lt;br /&gt;আশেপাশের মানুষগুলোর কেউবা ভ্রু কুঁচকে তাকায় আর কেউ নিঃশব্দে হেসে যায়। আর তখন পথ চলতে থাকা কিণ্ণরদলের উচ্চকিত উচ্ছ্বাস যেন ব্যঙ্গ করে এ-সমাজের সভ্যগোষ্ঠীকে আর বিধাতার নির্মম এই ‘এক্সপেরিমেন্ট’-কে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;-----------------------------------------------------------------------------&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১২/০৮/২০০৮&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-2520067180334917359?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/2520067180334917359/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=2520067180334917359' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/2520067180334917359'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/2520067180334917359'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/06/blog-post_2882.html' title='অস্তিত্বে কুহেলিকা'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-6905893000510742127</id><published>2010-06-30T08:33:00.000-07:00</published><updated>2010-07-05T09:15:36.378-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='নীর'/><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='অস্তিত্বে কুহেলিকা কিংবা টুকরো টুকরো প্রাণের কথকতা'/><title type='text'>অকস্মাৎ স্বপ্নবাজ</title><content type='html'>বিকেলের হালকা রোদটুকু বিলীন হয়ে গেছে গাঢ় কালো মেঘের দাপটে। রাস্তার প্যাঁচ প্যাঁচে কাদা স্যান্ডেল ছাড়িয়ে জিন্সের প্যান্টে লেগে যায়। নিউমার্কেটের কাচাবাজারের সামনে দিয়ে আনমনে হাঁটতে থাকে নীর। এখানে এখন রিকশা পাওয়া দুষ্কর। তাই হেঁটে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। ভালোই হলো, ভাবে নীর। রিকশা ভাড়াটা বেঁচে গেলো। পকেটে সঞ্চিত হোক কিছু অর্থ। ভাপসা গরম অস্বস্তির উদ্রেক ঘটায়, বিরক্তির ছাপ পড়ে চোখেমুখে। কিন্তু ছাত্র পড়াতে যেতেই হবে। কিছু টাকা হাতে আসা খুব জরুরী হয়ে পড়েছে ইদানীং। পড়াশোনার খরচ জোগানোর দায়িত্ব খানিকটা হলেও নিজে নিতে না পারলে পরনির্ভরশীল মনে হয় নিজেকে। তাছাড়া তেমন কোন আহামরি সাফল্য তো আর পাওয়া হল না। অন্ততপক্ষে নিজের খরচ চালানোর সন্তুষ্টি নিজেকে সান্ত্বনা দেয় কিছুটা। কাঁচাবাজারের দুর্গন্ধ পেরিয়ে ব্যস্ত মেইন রোডে পা রেখে কিছুটা স্বস্তি পায় নীর। হৈ-হুল্লোড়, দেনা-পাওনার তীক্ষ্ণ শব্দগুলো ক্রমাগত কানে প্রবেশ করছে। তার উপর সজোরে এক নামী ব্যান্ডগ্রুপের গান বাজছে কোন এক ক্যাসেটের দোকানে। চারপাশের মানুষগুলোকে এক পলক দেখে নেয় নীর। মানুষকে পর্যবেক্ষণের মাঝে অন্যরকম একটা মজা খুঁজে পায় সে। বলা যায়, মানুষ দেখা ওর নেশা। কখনও কখনও কাজবিহীন এলোমেলো পায়ে ঘুরে বেড়ায় রাস্তায়, শুধু মানুষ দেখতে। কত যে বৈচিত্র্য চোখে পড়ে। অল্প পরিসরের মাঝে বিভিন্ন মানুষের মেলা। কেউ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে হাস্যোজ্জ্বল অবয়বে, কেউ ক্লান্ত-শ্রান্ত-অবসন্ন শরীরে হেঁটে চলেছে শ্লথ গতিতে। কেউ আবার খুব গম্ভীর মুখে চলাফেরা করছে। কোন ভবঘুরে আবার নিজের মাঝে ডুব দিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে অনায়াসে। ব্যস্ত সড়কে দৃষ্টি ফেরায় নীর।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দুটো মেয়ে প্রচন্ড তাড়াহুড়ো করে রোড ক্রস করছে। দুজনেরই সুতি কাপড়ের সেলোয়ার-কামিজ পরনে। তেল দেয়া চুল আটোসাটোভাবে ক্লিপ দিয়ে আটকে ঝুটি করা। নিম্নবিত্ত ঘরের হবে। তারা নীরের দৃষ্টির সীমানা ছাড়িয়ে হকার্স মার্কেটে প্রবেশ করে। হটাৎ অট্টহাসির শব্দে চমকে দাঁড়ায় নীর। তিন চারটে ছেলে হেসে গড়িয়ে পড়ছে একজন আরেকজনের উপর। ক্যাসেটের দোকানের সামনে বসে আড্ডায় মত্ত। অনেক অনিশ্চয়তার মাঝে জীবনের কিছু মুহূর্তকে উপভোগ করার ক্ষুদ্র প্রয়াসমাত্র। ম্লান হাসে নীর। হয়ত মনে পড়ে এমনিভাবে চুটিয়ে গল্প করার কোন এক মুহুর্ত। বড় রাস্তার পাশে ছোট রাস্তাটি রিকশা চলাচলের জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত। এর পাশে ফুটপাত। বড় রাস্তা দিয়ে শো শো শব্দে ছুটে চলেছে বড় বড় গাড়ি, বাস, ট্যাক্সি। আর এই ছোট পথটুকু এত ভার সইতে না পেরে যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে। সামনের রিকশাগুলো সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় জটের সৃষ্টি করেছে। পিছনে আটকে পড়া যাত্রী আর রিকশাওয়ালারা অনর্থক চিৎকার করে ক্যালরি নষ্ট করছে। খুব হাসি পেল নীরের। জোরে না হাসলেও হাসির আভাস যে ফুটে রয়েছে ঠোঁট দুটোতে তা বুঝলো এক তরুণীর অবাক চোখের চাহনীতে। কিছুটা বোকা হয়ে নিজেকে সামলে নেয় নীর।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হঠাৎ একটা মিষ্টি কন্ঠ কানে এল, ‘বাপি, জানো আজকে আমি ক্লাসে ‘টাইগার’ স্পেলিং পেরেছি। Tiger হয়েছে না?’&lt;br /&gt;পেছন ফিরে ছোট্ট হাসি হাসলো নীর। তিন চার বছরের ছেলেটা বাবার হাত ধরে লাফিয়ে লাফিয়ে হাঁটছে। আর হাতের আইসক্রিম গড়িয়ে পড়ছে কনুই পর্যন্ত। ঝুট-ঝামেলার হাজার বছরের এই পৃথিবীর সবটুকু প্রশান্তি যেন ছেয়ে আছে ওই মায়াবী মুখে। ভাবনাগুলো ছিটকে দূরে সরে যায় ক্রমশ পিছিয়ে পড়া কোন দিনের খোঁজে। নিশ্চয়তায় ভরপুর দিনগুলোতে যখন ছিল গুটিকয়েক অনিশ্চয়তা। স্পষ্টভাবে স্মৃতিতে ভাসে ছোট্ট নীর বাবার হাত ধরে হেঁটে চলেছে ঢাকা শহরের পথে। ব্যস্ত সড়ক পারাপারে সচেতনতার কোন প্রয়োজন নেই তখন আর। শুধু ‘রেজাল্ট কার্ড’ আর ‘পরীক্ষা’ এ দুটো মহাটেনশন ছাড়া আর কোন চিন্তা ছিল না। অক্ষমতার উপলব্ধি ছিলনা, ছোট ছোট ব্যর্থতাগুলো হঠাৎ কোন হাসির তোড়ে ম্লান হয়ে যেত নিমিষে। সুউচ্চ কাঁচের ভবন কাদা-মাটি ছাড়িয়ে আকাশ স্পর্শ করার উল্লাসে দাম্ভিকতা প্রকাশ করে। আর ক্লান্ত নীর ভাবতে থাকে- এমন কোন কাঁচের দেয়াল ঘেরা বহুতলবিশিষ্ট আভিজাত অফিসে কি কোন সম্মানজনক পোস্ট খালি আছে তার জন্যে। একটা ভবিষ্যৎ চোখে ভাসে, একটা সাফল্যে পরিপূর্ণ মুহূর্ত, মা-বাবার জন্য একটা বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিংবা বাড়ি, একটা ল্যাক্সেরিয়াস লাইফ, একটা সার্থক ক্যারিয়ার। ছোট একটা স্বপ্নের বাস্তবায়ন, একজন বিখ্যাত নাট্যকর্মী হয়ে যাওয়া। একটা চমক, একটা প্রশান্তি নিজেকে প্রমাণ করার। আম্মি আর বাবার অর্থহীন বিবাদের দিন হঠাৎ শেষ হয়ে যাওয়া। আয় আর অতিরিক্ত ব্যয় না হওয়ার দুশ্চিন্তা স্তিমিত হয়ে যাওয়া। হঠাৎ মাস শেষে অর্থের কারণে বাবার টেনশন নিঃশেষ করে দেওয়া।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অকস্মাৎ তীক্ষ্ণ হর্ণের শব্দ ছিন্ন-ভিন্ন করে দেয় চমকে ওঠা নীরের দূরের ওই জগৎটাকে। অন্যমনস্কভাব পালিয়ে যেতেই স্বপ্নের ঘোর লাগা চোখে ধরা দেয় বর্তমান। আর মাত্র দু-তিনটি বিল্ডিং পেরিয়ে পেস্ট কালারের বিল্ডিংটা। নীরের ছাত্রের ফ্ল্যাট ওখানেই। দ্রুত পায়ে এগিয়ে যায় নীর। পাঁচ মিনিট লেট হয়ে গেছে অলরেডি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;---------------------------------------------------------------------------------&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;২৭/৬/২০০৭&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-6905893000510742127?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/6905893000510742127/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=6905893000510742127' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/6905893000510742127'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/6905893000510742127'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/06/blog-post_30.html' title='অকস্মাৎ স্বপ্নবাজ'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2302518325438324514.post-7987052431623238865</id><published>2010-06-30T00:35:00.000-07:00</published><updated>2010-07-05T09:15:36.378-07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='অস্তিত্বে কুহেলিকা কিংবা টুকরো টুকরো প্রাণের কথকতা'/><title type='text'>ঘূর্ণিপাক</title><content type='html'>চিতার আগুনের আঁচে লালচে হয়ে যাওয়া পার্থ আজ বড় স্পষ্ট। সত্যি কী প্রচন্ড শক্তি ঐ টগবগে আগুনের। আস্ত একটা মানুষ গিলে খায় মাত্র কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে। সংসার, সমাজকে ব্যঙ্গ করে দূরে, অনেক দূরে নিয়ে যায় কোন এক আপনজনকে। এক একটি চিতা ক্ষণিকের জন্য স্তব্ধ করে দেয় চলমান জীবনকে, উৎফুল্ল সময়কে। ঝাপসা হতে হতে আরও স্পষ্ট হতে থাকে নববিবাহিত, তরুণ পার্থ মজুমদার। অফিসের হরেক ঝুট ঝামেলার শেষে বাড়ি ফেরার পথে নানান ঝক্কি পোহানোর কষ্টগুলো তেমন একটা গায়ে লাগেনা তখন। বরং বাড়ি ফিরতে হবে ভাবলেই অদ্ভুত এক শিহরণ খেলা করে সমস্ত শরীরজুড়ে। ঘরের প্রতিটি কোণায় শুধু নোনা স্বাদ গন্ধ। পরে, অনেক পরে যে দারিদ্রতা অনেক বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছিলো, তা কি ছিল না তখন। ছিল ঠিকই, তবে দিনযাপনের কষ্টগুলো বড় তুচ্ছ ছিল সুখময় পরিতৃপ্তি আর নানান রঙের সময়ের কাছে। এক পা, দু পা করে এগিয়ে যায় সময়। ধীর গতি বলা চলে কি-ভাবতে থাকে বিধ্বস্ত, শ্রান্ত এক পার্থ মজুমদার। সময় কি কখনও কাউকে অতোটা দয়া করে? সুখের মুহূর্ত, আনন্দের উত্তাপ এক পলকে সমাপ্ত করাটাই কি সময়ের ধর্ম নয়?&lt;br /&gt;ঝাপসা সময় উপভোগ্য খেলায় মেতে উঠে। পার্থ মজুমদারের চোখের সামনে তখন অপূর্ব এক ষোড়শী কন্যা। শ্যামবর্ণ মুখের মায়াভরা দুচোখ দীপ্তি ছড়ায়। দীঘল কালো চুলগুলো হালকা বাতাসে উড়তে থাকে। ওর মায়ের বড় শখ ছিল মেয়ের চুল হবে হাঁটু পর্যন্ত। মায়ের স্নেহে ঢাকা যত্নে অথবা অমরা থেকে ধার করে আনা গুণের কারণেই বোধহয় মেয়ের চুলগুলো পিঠকে স্পর্শ করে ছুটে যেত কোমর অবধি। এই ষোড়শীই একদিন শিশুকন্যা হয়ে আনন্দের বর নিয়ে এসেছিলো।&lt;br /&gt;-‘অবনী’, আমার মেয়ের নাম হবে অবনী। এ্যাই, ওকে কিন্তু নাচ শেখাবো। গানও জানবে ও।&lt;br /&gt;একমাত্র মেয়েকে ঘিরে স্বপ্নেরা ডানা মেলে। খিল খিল হাসিতে চারণভূমি তখন শ্যামলীমায় ভরপুর। কষ্টগুলো আবার ম্লান হতে থাকে। তবে সুখও বোধ করি ক্লান্তি এনে দেয় একসময়।&lt;br /&gt;     আকাশের দিকে তাকালে অনেক তারা চোখে পড়ে। পার্থ ভাবে-সবগুলো গ্রহ নয়। আজকাল বেশির ভাগই স্যাটেলাইটের আলো।&lt;br /&gt;আকাশে মেঘ নেই। চাঁদ আর তারার আলোয় আশ্চর্য এক স্নিগ্ধতার পরশে পার্থ ভুলেই গিয়েছিলো যে শ্মশানে বসে আছে সে এখন। তারা দেখতে শিখেছিলো পার্থ। এমন জ্যোৎস্নাস্নাত রাতে ছোট্ট বেডরুম থেকে বেরিয়ে আরও ছোট বারান্দায় এসে বসতো প্রতিমা। বিশাল শূণ্যতার আধার বিছানাটি যেন শ্বাসরুদ্ধকর ভাব জাগাতো। তাই মাদুর পেতে বসে থাকা প্রতিমার গায়ে গা ঘেঁষে বসতো পার্থ। এই বারান্দা প্রতিমার খুব পছন্দ। অর্ধেক সিমেন্টের রেলিং আর উপরের অংশে মুক্ত বাতাসের অনধিকার প্রবেশ। প্রতিমার মোহময় চোখ দুটোতে আবেশ জড়ানো মুগ্ধতা এনে দিত রাতের আকাশ। পার্থর কাঁধে মাথা এলিয়ে প্রতিমা বলে যেত সপ্তর্ষিমন্ডলের গল্পকথা। সাতটি তারা-অঙ্গিরা, মরীচি, পুলহ, পুলস্ত্য, ক্রতু আর ঋষি বশিষ্ঠের পাশে অরুন্ধতী .....। প্রতি রাতে মাতাল হতে হতে জীবনকে বড় উপভোগ্য মনে হতো।&lt;br /&gt;   দ্বিতীয় একজনের কাছেও রাতের আকাশ দেখতে শিখেছিলো পার্থ মজুমদার। স্পষ্ট মনে পড়ে, কখনও স্বীকার করেনি যে কোন এক প্রথমা আগেই তাকে শিখিয়েছে, চিনিয়ে দিয়েছে সপ্তর্ষিমন্ডল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এমনিতেও নীরার সাথে কথা বলার সময় প্রয়োজন ছাড়া প্রতিমার নাম মুখে আনতো না সে। সুবিন্যস্ত বাড়ির এ্যাটেস্টড ছাদে বসে প্রজাপতিকন্যা অরুন্ধতীর কথা বলেছিলো নীরা। অরুন্ধতী, সপ্তর্ষিমন্ডলের অন্যতম ঋষি বশিষ্ঠের পতিব্রতা পত্নী। সতীসাধ্বী পত্নী হওয়ার জন্যই তিনি ঠাঁই পেয়েছেন স্বামীর পাশে-বলতে বলতে হঠাৎ বিষণ্ণ,পাণ্ডুর হয়ে উঠেছিলো নীরার মুখখানি। খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে বলে উঠলো -ওগো, বলতো ‘কবুল’ বলে, কাগজে সই করে গ্রহণ করা সম্পর্কই কি শুধু মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য? আবেগের অলিখিত সম্পর্কের কি কোন মূল্য নেই?&lt;br /&gt;‘ এ সমাজে নেই।’-অনেকটা ভাবলেশহীনভাবে কথা বলেছিলো পার্থ।&lt;br /&gt;ডুকরে কেঁদে ওঠে নীরা-তাহলে সাতপাকে বাঁধা প্রতিমার ভালবাসাই সব। আমারটা ফেলনা। আমি কেউ নই। কিচ্ছু নই?&lt;br /&gt;ঝরঝর কান্নায় ভেঙ্গে পড়লে বাধা দেয়না পার্থ। ক্ষত মুছে যাবেনা, কিন্তু অশ্রুর স্রোত হৃদয়ে ক্লান্তি এনে দিলে কষ্টগুলো সাময়িকভাবে ম্লান হয়ে যাবে। পার্থ জানে, এ কান্না ওর জন্য নয়। প্রতি পদে যোগ্যতা প্রমাণ করে সাফল্য ছিনিয়ে নেয়া, প্রতিষ্ঠিত, স্মার্ট নীরা পরাজিত আজ ‘অরুন্ধতী’র কাছে। নীরাও একসময় বড় স্বামী সোহাগী ছিল। ‘একসময়...’ মনে মনে আওড়াতে থাকে পার্থ মজুমদার। একটা সময়ের পর সবকিছু ওলটপালট হওয়াটাই বোধহয় স্বাভাবিকতা। অস্থির সময় মনকে অস্থির করে তোলে। স্থিতিশীল ভালবাসা তখন নড়বড়ে। তাই প্রতিমা তখন অতোটা গভীর কোন শিহরণ নয়। তবু কোথায় যেন অজানা আতঙ্ক শিড়দাঁড়া বেয়ে উঠতো মাঝে মাঝে। এক অভ্যস্ততায় পরিণত ‘টান’ ঘরে ফিরিয়ে আনতো রাত্রি দ্বিপ্রহরে। দরজা খুলে দিত প্রতিমা। শান্ত, ধীর চোখদুটোর প্রশ্নহীন দৃষ্টি পার্থকে প্রচন্ড অপরাধবোধে সঙ্কুচিত করতো। হাতে ধরে থাকা বইয়ের ভাঁজে হাত রেখে প্রশ্ন করতো প্রতিমা-ভাত দিব?&lt;br /&gt;বই পড়ার নেশা ছিল ওর সবসময়। তখন প্রবল হল। হয়ত একাকীত্বে কোন অবলম্বন খুঁজে নিতে সঙ্গী হয়েছিলো বইগুলো। প্রতিমা কোনদিন সন্দেহজনক দৃষ্টিতে রাগান্বিত প্রশ্ন ছুঁড়ে আঘাত করেনি। কখনও জানতে চায়নি এতোরাত কোথায় কাটে পার্থর। কে জানে, হয়ত সবই জানতো প্রতিমা। সংসারের প্রথম প্রহরে পার্থর উদ্বেগ, ক্ষুধা, প্রশ্ন, কামনার কথা চোখ দেখে বলে দিতে পারতো প্রতিমা। মাঝে মাঝে পার্থর অবাক চাহনির উওরে মিষ্টি হাসিমুখে পার্থর ঘন,কোকড়া চুলে আঙুল চালিয়ে বলতো-মেয়েরা অনেক কিছু বুঝে নিতে জানে।&lt;br /&gt;কথাটি বোধহয় সত্যি ছিল, নয়ত নীরার প্রতি দুর্বার আকর্ষণের দিনগুলোতে প্রতিমা প্রায়ই কেন বলতো-ভালবাসা আদায় করা যায় না। শুধু গ্রহণ করা যায়। অধিকারের দোহাই দিয়ে ঘর বাঁধা যায়, প্রেমতো নাগালের বাইরে থাকে।&lt;br /&gt;    প্রখর আত্মসম্মানবোধ ছিল প্রতিমার। ওর আরও একটা গুণ ছিল, এতোটুকু সংকীর্ণতার ঠাঁই ছিলনা মনে। পার্থ মজুমদারের দিনগুলো তাই অসহ্য যন্ত্রণায় নীল হয়ে উঠছিলো দিন দিন। প্রতিমা যদি অধিকারের দাবীতে হিংস্র হয়ে উঠতো তবে কিছুটা স্বস্তি থাকতো কোথাও। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র কিংবা শেক্সপিয়ার নিয়ে রাত কাটিয়ে দেয়া প্রতিমার নীরব প্রতিবাদ অপরাধ, অপমানের গহীনে ছুঁড়ে ফেলেছিলো ওর অস্তিত্বকে। স্কুলের শিক্ষয়িত্রী, লেখিকা প্রতিমা মজুমদার ওর পৌরুষকে ব্যঙ্গ করছিলো প্রতিনিয়ত।&lt;br /&gt;     রাত বাড়ছে। তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হিমেল হাওয়ার দাপট। খুশ্খুশে কাশি আজকাল ওকে খুব কাবু করে ফেলে। মলিন চাদর গায়ের সাথে জড়িয়ে নেয় ভালভাবে। অবনীর মুখ মনে পড়লে মনটা মোচড় দিয়ে ওঠে। মন আজ কেঁদে কেঁদে উঠছে ক্ষণে ক্ষণে। অবনীর ঘর থেকে বেরিয়ে এই শ্মশানে এসে বসা। প্রায় রাতেই আজকাল শ্মশানে আসে পার্থ, ঠিক যেন সেই কবেকার দীর্ঘ দিনের পরে প্রতিমার কাছে ফিরে আসা। সামনে এখনও চিতার আগুন জ্বলছে। এমনই লেলিহান দাউ দাউ আগুনে এখান থেকে চলে গিয়েছিলো প্রতিমা। মানুষের মন বনে-বাদারে লাফিয়ে বেড়ানো বানরের মতো। কোন ভাবনাই স্থিরতা পায়না। কখন যে কে উঁকি দেয়, আগে থেকে বোঝা বড় দায়। এই রাতের আঁধারে আজ এতোকাল পরে নীরা কী করে যে ফিরে এল। অবনীকে দেখে প্রতিমার মুখচ্ছবি ভেসে উঠলো মনে, এরপরই নীরা।&lt;br /&gt;    এখন একাকী সন্ধ্যা বিষণœতায় ডুবিয়ে রাখে। একা, একাকীত্বই জীবনের শেষ পর্যায়। একাকী নিজেকে নিয়েই আজ পার্থ মজুমদারের সংসার। পাড়ার চায়ের দোকানে সন্ধ্যা পার করে রাত দশটায় যখন ঘরে ফিরে, একটা-দুটো ইঁদুর ছাড়া ঘরে তখন আর কেউ থাকেনা। তাই আজ আড্ডা শেষে অবনীর বাসায় একবার ঢুঁ মারে। মেয়েটাকে বড্ড দেখতে ইচ্ছে হয়। রটনা, চমকপ্রদ গুজবে মানুষের আড্ডা ঠাসা। নানা কানাঘুষায় মন অজানা আতঙ্কে কেঁপে ওঠে। কিন্তু কলিংবেলের শব্দে দরজা খুলে দিতে অবনীর দৃষ্টি চমকে দেয়।&lt;br /&gt;‘বাবা,তুমি? ভাল আছতো?’-অবসন্ন দৃষ্টিতে তাকায় অবনী। অতি পরিচিত এই চোখ দুটো যেন বহুকাল আগের স্মৃতিতে ধরা দেয় পার্থ মজুমদারের কাছে। ঘরে ঢুকে নিশ্চিত হয় পার্থ, বাসায় নেই সুমিত। অফিসের কোন সুন্দরী সহকর্মীর সাথে লং ড্রাইভে যেতে দেখা গেছে তাকে-কথাটি গুজব নয়, সত্য। প্রায় রাত মেয়েটির বাসায় কাটায় সুমিত। অবনীকে কিছু বলা হয়না। মন থেকে উঠে আসা প্রশ্নগুলোকে নিষ্প্রয়োজনীয় মনে হয়। কড়া এক কাপ চা খেয়ে উঠে আসার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু অবনীর জিদের কাছে হার মেনে রাতের খাবার খেতে বসতে হয়।&lt;br /&gt;‘ বাবা, আজ নাহয় থেকে যাও?’- কৃত্রিম হাসি আর কন্ঠস্বর ছাড়িয়ে পার্থর সামনে প্রতিমার প্রতিচ্ছবি তীব্র হয় অবনীর অস্তিত্বে। অবনী আজ প্রতিমার জায়গায় দাঁড়িয়ে। মনের অস্থিরতা গোপন করে, কাজের দোহাই দিয়ে বের হয়ে এসেছিলো পার্থ। ছুটে এসেছিলো শ্মশানে।&lt;br /&gt;    পৃথিবী ঘুরতে ঘুরতে একসময় একই জায়গায় আসে, যেখানে বহুকাল আগে কোন এক মুহূর্তে ছিল। শ্মশানের স্তব্ধতায় ভাবনাগুলোতে আচ্ছন্ন হতে হতে ম্লান হাসে কোন এককালের ছাপোষা পার্থ মজুমদার।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;------------------------------------------------------------------------------------                                    &lt;br /&gt;২৩/৩/২০০৮&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2302518325438324514-7987052431623238865?l=zuairijahmou.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/feeds/7987052431623238865/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=2302518325438324514&amp;postID=7987052431623238865' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/7987052431623238865'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2302518325438324514/posts/default/7987052431623238865'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://zuairijahmou.blogspot.com/2010/06/blog-post.html' title='ঘূর্ণিপাক'/><author><name>জুয়েইরিযাহ মউ</name><uri>http://www.blogger.com/profile/13847283891945019939</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='32' height='24' src='http://2.bp.blogspot.com/-UZf4UEzwoWE/TsuBR2mVkPI/AAAAAAAAAF8/RxpXGnjjK-U/s220/24584_1422955373398_1218129750_31276850_2776449_a.jpg'/></author><thr:total>0</thr:total></entry></feed>
