রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৩

\\ … চিঠি: পরিত্যক্ত ডাকবাক্সে জমা …//


ঘড়ির কাঁটায় রাত্রি ১:১০
৯/১২/২০১৩


সত্যি চিঠি লিখতেই ভারী ভাল্লাগে আমার… আমার যেসব চিঠিগুলো অযথা… দূর্বল… যেগুলো কোনদিন কবিতা হয়ে উঠতে পারেনি কিংবা পারবে না হয়তো… তাদের আর কেউ মনোযোগ দিল কি? যাকে পাঠালাম কতটা আদর পেল এ চিঠি তার; সেসমস্ত কিছুর চেয়ে বেশি মায়া আমার তাদের জন্য থাকে…

ধীরে ধীরে কি ইচ্ছের ক্যান্সার হয় … কিংবা ইচ্ছেরাও কি আত্মহননের পথে চলে? চলে হয়তো… তবে চিঠি লেখার নেশাটা আমার কোনদিন মরে যায়না কোনকিছুতেই … আমি লিখতেই থাকি… মুঠোফোনে লিখি… কোন এক খাতার পাতায় লিখি… কোন অবাধ্য স্পর্ধায় কারও ইনবক্সে লিখি… কোন ছেঁড়া পাতায় লিখি… অনেক চিঠি হারিয়ে যায়… অনেক চিঠি কেউ পড়ে না কোনদিনও… অনেক চিঠি খুব যত্নে দারুণ ভেবে লিখতেই থাকি… অনেক চিঠির গায়ে জ্বরঘোর থাকে… কোন রাতের হুটহাট লিখে শেষ করার তাড়না থাকে… অনেক অস্থিরতায় যা কিছু সব বলে ফেলার প্ররোচনা জমা থাকে…

তবু লিখি… তবু তো লিখি…

আমার ইদানীং উধাও হয়ে যেতে ইচ্ছে হয় … এমনভাবে যেন কেউ ভাবতে না পারে হেরে গেছি … এমনভাবে যেন কারও কারও দারুণ আফসোস জমা পড়ে থাকে কোথাও… আমার চিঠিগুলো যেন সেদিন কথা বলে… যেন বলে অনেক দারুণ লাগে হুটহাট কোথাও বেরিয়ে পড়তে … হুটহাট কবিতা খুঁজে পেলে… হুটহাট একটা সন্ধ্যারাত কুড়িয়ে পেলে…

যেন এও বলে কোন কোন রাত থাকে… কিছুই করার থাকে না… কিছুই না করার… কিছুই না করার রাতে নিজেকে খুব অবহেলিত, তুচ্ছ মনে হতে থাকে… এতো তুচ্ছ যেন একটা খুব প্রিয় চিঠিকে কেউ দুমড়ে মুচড়ে ফেলে দিল বারান্দার প্লাস্টিকের ডাস্টবিনের পাশে… আর কুয়াশার রাতে চিঠিটা ভিজেই চলেছে অবিরাম…

মন খারাপ করা রাতে তখন খুব ছোট্ট কারনে কষ্ট জমে কোথাও … কষ্ট জমে কেউ হঠাৎ না বলে চলে গেল বলে… কষ্ট জমে একটা কিটকেট খেতে ইচ্ছে করছে আর কেউ দিচ্ছে না বলে… কষ্ট জমে একটা ক্ষুদ্র তুচ্ছ চিঠিও কোথাও পাঠানো যায় না বলে … আর তারপর মনে হতে থাকে কাকগুলো ডেকে উঠলে ভোর হবে … একটা চিঠি তখনও অবিরাম ভিজতে থাকে হয়তো… শিশিরে… শীতে … কুয়াশাতে …


বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৩

প্রযত্নে: শহর কিংবা কথক


গল্পগুলো শহরেরই, যেহেতু কলোনীর এক রুমে পাঁচটে মানুষ থাকা শৈশবকে এ শহর জানে!
ভাপা-পিঠা যে শহরে শীত এনে দেয় তার টানেই একেক শীতে আমি চাদর জড়িয়েছি গা’য়।
এবং পুনরায় ভেবেছি যে শহরে কোথাও না কোথাও তোমার সাথে আমার দেখা হবে নির্ঘাত।

যেসমস্ত ঘটনাকে ‘কাকতাল’ বলে চালিয়ে দিচ্ছি দিব্যি, এ শহর সেগুলো যত্ন করে লেখে…
তোমার প্রিয় মানুষকে আমি যত দিন দেখি- শহর কি তত দিন তোমায় দেখতে দেয় তাকে?

অতঃপর
এ শহরে টঙ চায়ের চাচী সর্বাধুনিক নাগরিক; তীক্ষ্ম চাহনি ছাড়াই যে মেয়েদের বেনসন বিলি করে।
এবং ‘শহর’ এরিনা ফর্মের নাটকে এক সাবলীল ‘কথক’-এর চরিত্রে বেশ মানিয়ে যাচ্ছে বটে…!


১৯/১১/২০১৩


বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৩

\\ ... ধলপ্রহরের চিঠি ... //


ঘড়ির কাঁটায় ১:৪৬
২১/১১/২০১৩

এই যে খড়-কুটো পড়ে আছে এগুলো কে তোলে? লেখার কাগজ উড়ে গেছে আর কিছুই নাই তো… তাই আসি না। তুমি রাগ কর গাছ? পাতা? মেঘ? ঘাস? ডাকবাক্স? তোমরা কি ভাবতে জানো বলো তো? তোমাদের নিয়েও তো গল্প বটে … ঘুণপোকা আর ঘাসফড়িঙদের গল্প …!

তোমরা সবাই আমাকে লেখো তবে… লেখো কয়টা চিঠি ছিল কোটরে… লিখো এই যে বসে আছি অনেক রাতে খোলা মাঠে পাকুড় গাছটার পাশে… কে দেখে? কে ডাকে? ডাকিনী-যোগিনী? ব্যঙমা-ব্যঙমী?
শীতের রাতে ঘোরে-বেঘোরে নিমাই পাগলা হাঁক ছাড়ে ঘর ছেড়ে পালাতে পালাতে … পাড়ার কুকুরীটা ছাড়া তো নিমাইদাকে কেউ দেখে না কোনদিন… কুকুরীটা সাথে সাথে থাকে… রাতভর… দিনভর… ওরে কেউ জিজ্ঞেস করেছো বলো তো… নিমাইদার মাঝে ও কী পায়? কী দেখে? নিমাইদা মাঝে মাঝে তেড়ে আসে… কেবল অস্পষ্টে মাঝে মাঝে বলি – এক টুকরো রুটি তুমি তারে দিও নিমাইদা… শীতের রাতে মাঝে মাঝে নাহয় ওম দিও…

আমারও ঘোর-বেঘোর ভালো লাগে… খানিকটা জ্বর ঘোর! পাকুড় গাছ আর মাঠ পেরিয়ে যে পোড়ো-বাড়ি ধলপাড়ার … সেখানটায় একটা রাত কাটাতে ভালো লাগে… খড়-কুটো কিঞ্চিৎ তোমার এই মাঠ থেকেই কুড়িয়ে নিলাম… রাতভর ধ্যানে বসলে না কী শব্দেরা বেড়াতে আসে সেই বাড়িতে…

নিমাইদা তুমি বুঝি তাই কবুতর-চড়ুই-কুকুর আর কাক-শালিখের ভাষা বুঝতে পারো… পাকুড় গাছের ভাষা বোঝার খেলাটাও তুমি শিখে নিও নিমাইদা … একলা একা বাঁচতে হলে অনেক খেলায় ডুবতে ডুবতে ভাসতে ভাসতে হারিয়ে যাওয়ার থাকে … জ্বরে-অজ্বরে … কোথাও খুব গোপনে যা - তাকে লুকিয়ে রাখতেও তো জানতে হয় বলো…
পাকুড় গাছের ভাষাটা তুমি শিখিয়ে দিও নিমাইদা … আমি তোমায় ডাকবাক্স আর জাদুকরের ভাষা খানিকটা বুঝিয়ে দিবো নাহয়… যতটা বিদ্যে আমার! কিঞ্চিৎ যতটা যোগ্যতাতে ধরতে পেরেছিলেম!!

বুধবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৩

প্রযত্নেঃ শ্যামলী কিংবা বাংলামোটর ওভারব্রীজ


জানো, এ শহরটাকে দেখার একটা আলাদা মজা আছে। এই শহরটায় অনেক কিছু আছে… অনেক রোদ… অনেক গল্প… বলার মতোন অনেক কথা… আর্তনাদ কিছুটা।
ওভারব্রীজের ওপর ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেছো কখনও? ব্যক্তিগত অনুভূতিগুলো বিস্তৃত করে দিলেই যেমন কবিতা হয়… শহরটা ঠিক অনেকটা সেরকম…

মাঝে মাঝে কোন কোন ওভারব্রীজের ওপর দাঁড়িয়ে থেকেছি নিথর… খুঁজেছি কাউকে… হয়তো তোমাকেই… আর তারপর খুঁজতে খুঁজতে খুঁজতে খুঁজতে আমার শহর খোঁজা হয়ে গেছে কেবল !
দেখতে দেখতে এক বিন্দু শহর…

দেখেছি নার্সারী-পড়ুয়া ছোট ছোট বাচ্চাগুলো আর তাদের মায়েরা অদ্ভুতভাবে আমাকে দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে ওভারব্রীজ… দেখেছি মানুষ কত দ্রুত-পায়ে হন্তদন্ত হয়ে পেরোয় রাস্তা-ঘাট-পথ!
কোথাও কারও জন্য কেউ কী খুব করে বসে থাকে? হয়তো থাকে… হয়তো বা না… তবু মানুষ চিরটাকাল পৌঁছোতে চায় কোথাও না কোথাও।

তারপর তোমার কবিতা কিংবা ঘ্রাণ হুট-হাট মনে পড়ে গেলে কোনো রাস্তায়-ফুটপাথে-বাসে-ট্রেনে-ওভারব্রীজে
এক একটা দিন আমার কাটিয়ে দিতে ইচ্ছে হয়েছে কেবল !



৪/১১/২০১৩